ভাঙা বাড়ি – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক অবক্ষয়িত সময় এবং মানবিক সম্পর্কের চূড়ান্ত একাকীত্বের ছবি। এখানে ‘ভাঙা বাড়ি’ কেবল জরাজীর্ণ ইমারত নয়, বরং মানুষের ভেঙে পড়া অস্তিত্ব ও মনের প্রতীক। বাড়ির ভেতরে কোনো প্রাণস্পন্দন নেই, বরং সেখানে জমাট বেঁধে আছে ‘জড়বুদ্ধি ক্রোধ’ আর ‘হাহাকার’, যা মানুষের ভেতরের বিষাদকে এক কদর্য রূপ দেয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্রটি ফুটে উঠেছে সম্পর্কের ক্ষেত্রে—যেখানে বন্ধু নেই, আছে ‘বন্ধুর জ্যান্ত লাশ’। এই রূপকটি প্রাণহীন, যান্ত্রিক এবং সংবেদনহীন মানবিক যোগাযোগকে ইঙ্গিত করে। জানলার ওপারে পোকামাকড় আর লম্বা ঘাসের রাজত্ব বাইরের জগতের উদাসীনতাকে ফুটিয়ে তোলে। এটি মূলত এক জীবন্ত সমাধির প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ বেঁচে থেকেও এক ভয়াবহ শূন্যতা আর বিচ্ছিন্নতার শিকার। এক নিদারুণ অস্তিত্ববাদী সংকট এই কবিতার মূল সুর।

ভাঙা বাড়ি – জয় গোস্বামী

ভাঙা বাড়ি। চারিদিকে ঘাস।
এখানে কি কেউ বাস করে?

জড়বুদ্ধি ক্রোধ, হাহাকার
জমে জমে পিণ্ড হয় ঘরে

বন্ধু না–বন্ধুর জ্যান্ত লাশ
হাত নাড়ে জানলার ভিতরে

জানলার এপারে লম্বা ঘাস
পোকামাকড়ের ঝাঁক চলাচল করে!

Leave a Comment