জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার এক রুক্ষ ও পরাবাস্তব প্রতিচ্ছবি। কবি এখানে পৃথিবীকে তুলনা করেছেন একটি ‘ধাতব মলাটে’র সঙ্গে, যেখানে স্বাভাবিক ঘাসের বদলে জন্মেছে প্রাণহীন ‘ইস্পাতের ঘাস’। এটি মূলত আমাদের চারপাশের কৃত্রিমতা ও যান্ত্রিকতারই ইঙ্গিত।
কবিতার শেষভাগে এক গভীর রাজনৈতিক ও অস্তিত্ববাদী হাহাকার ফুটে উঠেছে। ‘বিদ্যুৎশাস্ত্র’ বা জ্ঞানের আলো হাতে থাকা সত্ত্বেও মানুষ যখন তার দিশা পায় না, তখন সে হয়ে পড়ে আধুনিক সময়ের ‘ক্রীতদাস’। এক কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও সে মনের অজান্তেই অন্য এক অদৃশ্য বন্দিত্বের দিকে ধাবিত হয়। এক নিঃসঙ্গ আকাশ আর অন্ধকারের আবহে মানুষের এই দিশাহীন ও নিয়তিবিদ্ধ যাত্রাই এখানে মূল উপজীব্য।
ভূপৃষ্ঠের ধাতব মলাটে – জয় গোস্বামী
ভূপৃষ্ঠের ধাতব মলাটে
দাঁড়িয়েছে ইস্পাতের ঘাস
রাত্রি ঢেকে শুয়েছে আকাশ
না-পড়া বিদ্যুৎশাস্ত্র হাতে
ক্রীতদাস চলে যায় কারাগার হারাতে হারাতে