গাছের জন্মান্ধ – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই ক্ষুদ্র পঙ্ক্তিমালাটি এক গূঢ় আধ্যাত্মিক এবং রূপকধর্মী দর্শনের বহিঃপ্রকাশ। এখানে ‘গাছ’ ও ‘দীপ’ (প্রদীপ)—এই দুটি বিপরীতধর্মী উপাদানের মধ্য দিয়ে কবি জীবনের এক বিচিত্র সত্য উন্মোচন করেছেন।

কবি এখানে প্রদীপের শিখাকে গাছের সাথে তুলনা করেছেন, যা মাটির গভীরে নয় বরং ঊর্ধ্বমুখী আলোর তৃষ্ণায় ধাবমান। ‘জন্মান্ধ’ শব্দটি দিয়ে কবি হয়তো সেই মজ্জাগত প্রবৃত্তিকে বুঝিয়েছেন, যেখানে আলো নিজেই নিজের উৎস হওয়া সত্ত্বেও নিজের রূপ দেখতে পায় না। দীপশিখার এই কম্পমান অস্তিত্বকে কবি ‘মাথায় শিখার তীব্র নাচ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্ধকারের বুক চিরে আলোর এই নিরন্তর দহন ও আত্মপ্রকাশের রহস্যময় যাত্রাই এখানে মূল উপজীব্য।

গাছের জন্মান্ধ – জয় গোস্বামী

গাছের জন্মান্ধ।
দীপ, জন্ম থেকে গাছ।

দীপজন্মে যাই আমি–চোখ বাঁধা–
মাথায় শিখার তীব্র নাচ।

Leave a Comment