জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি যুদ্ধোত্তর এক শ্মশানসম পৃথিবীর নিথর ও বীভৎস ছবি। এখানে ‘ক্ষুধা’, ‘ক্ষার’ আর ‘রক্ত’—এই শব্দগুলোর মাধ্যমে কবি জীবনের চরম নিঃশেষিত রূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন। যুদ্ধের মত্ততায় আকাশ থেকে যে রক্ত ঝরছে, তা পান করেই সূর্য যেন এক তৃপ্ত ‘লাল ঢেলা’ হয়ে আছে।
কবিতার দ্বিতীয় অংশে এক অদ্ভুত ও ক্রূর বৈপরীত্য দেখা যায়। কামানের গায়ে ‘নীল রঙ’ বা বিকেলে ‘দেবদূতের সঙ’ হয়ে আকাশে বের হওয়া—এগুলো ধ্বংসের নিষ্ঠুরতাকে আরও প্রকট করে তোলে। সারাদিনের ‘শিকার’ অর্থাৎ মানুষ হত্যার পর এই যে মেকি উৎসব বা সঙ সেজে থাকা, তা আসলে সভ্যতার চরম অসারতা ও নির্মমতাকে বিদ্রূপ করে। এটি মূলত যুদ্ধোন্মাদ পৃথিবীর এক বিষণ্ণ ও কদর্য উপাখ্যান।
ক্ষুধার শেষ ক্লান্তি, ক্ষার, ঘুমের শেষ জল – জয় গোস্বামী
ক্ষুধার শেষ ক্লান্তি, ক্ষার, ঘুমের শেষ জল–
যুদ্ধ, শেষ-খেলা
শেষরক্ত আকাশে পড়ে–রক্ত খেয়ে খেয়ে
সূর্য লাল ঢেলা
গোলায় পোড়া শহর, গাছ, পতাকা দিয়ে ঢাকা–
বিকেলবেলা কামানে নীল রঙ
সারাদিনের শিকার শেষ–আকাশে বেরিয়েছে
বেলুন হাতে, দেবদূতের সঙ।