ঘরে রাধাবিনোদ আকাশ – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি তীব্র পরাবাস্তবতা এবং সৃজনশীল যন্ত্রণার এক অসামান্য দলিল। এখানে ঘরোয়া পরিবেশ আর মহাজাগতিক বিষয়ের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটেছে। ঘরের কোণে লণ্ঠনের স্তিমিত আলো আর মেঝের আলো-ছায়াকে কবি ‘রাধাবিনোদ আকাশ’ বা ‘ঝুলনের চাঁদ’ হিসেবে কল্পনা করে এক অপার্থিব আবহ তৈরি করেছেন।

লণ্ঠনের ‘চক্ষু দপ্দপ’ করাটা মূলত এক অতৃপ্ত অন্বেষণের প্রতীক। অমাবস্যা আর পূর্ণিমার দ্বৈরথে যখন সময় ফালাফালা হয়ে যায়, তখন কবি বা শিল্পী খুঁজে বেড়ান এমন কিছু যা দিয়ে তাঁর সৃষ্টি প্রাণ পাবে। কিন্তু এখানে কবির অন্বেষণটি ভীষণ রূঢ়; তিনি খুঁজছেন ‘কবিতা লেখার যোগ্য শব’। এটি মূলত এক গভীর ব্যঞ্জনা—যেখানে পুরনো অভিজ্ঞতার মৃত্যু বা কোনো তীব্র শোকের দহন ছাড়া প্রকৃত কবিতা জন্ম নিতে পারে না। সৃষ্টির জন্য ধ্বংস বা মৃতপ্রায় কোনো অনুভূতির ব্যবচ্ছেদ করার যে আর্তি, তাই এখানে এক ভয়াবহ সুন্দর চিত্রকল্পে ফুটে উঠেছে। এটি কবির সৃজন-বেদনারই এক বিষণ্ণ ও অস্থির বহিঃপ্রকাশ।

ঘরে রাধাবিনোদ আকাশ – জয় গোস্বামী

ঘরে রাধাবিনোদ আকাশ
ঝুলনের চাঁদটি মেঝেতে

বিছানার পাশের লণ্ঠন
তার শুধু চক্ষু দপ্‌দপ্‌

অমাবস্যা পূর্ণিমা সড়ক
ফালাফালা ক’রে সারারাত

সে খুঁজে বেড়াচ্ছে একফালি
কবিতা লেখার যোগ্য শব!

Leave a Comment