জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি সময় বা ‘কালস্রোত’-এর অমোঘ ক্ষমতার সামনে মানুষের অসহায়ত্ব ও অস্তিত্বের সংকটকে ফুটিয়ে তুলেছে। কবি এখানে সময়ের স্রোতকে এক রাসায়নিক বা ক্ষতিকারক প্রবাহ হিসেবে কল্পনা করেছেন, যেখানে হাত ডোবাতেই আঙুল, কব্জি ও বাহু গলে নিঃশেষ হয়ে যায়।
এই ক্ষয়িষ্ণু অবস্থার মধ্য দিয়ে কবি নিজেকে ‘হাত-পা-কাটা জগন্নাথ’ হিসেবে কল্পনা করেছেন—যা পূর্ণাঙ্গ হয়েও অপূর্ণ বা পঙ্গু এক অস্তিত্বের প্রতীক। পৃথিবী এখানে ‘নদী-নালা আঁকা এক ঘুরন্ত বল’, যার পিঠে বসে থাকা কবি আসলে এক পরম শূন্যতার শিকার। মহাজাগতিক এই আবর্তনে মানুষের ব্যক্তিগত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই; সে কেবল সময়ের টানে দিশেহারা হয়ে শূন্যে পাক খায়। এটি একদিকে যেমন সময়ের কাছে আত্মসমর্পণ, অন্যদিকে মানুষের অস্তিত্বের চরম নিঃসঙ্গতা ও তুচ্ছতাকে তুলে ধরে।
ওই কালস্রোত – জয় গোস্বামী
ওই কালস্রোত। আমি
সিমেন্ট বাঁধানো পাড় থেকে
হাত ডোবাই।
আমার আঙুল গলে যায়। কব্জি, বাহু
গলে যায়। ঘাড়ের উপরে মুণ্ডু নিয়ে
আমি হাত-পা-কাটে জগন্নাথ
নদী-নালা আঁকা এক ঘুরন্ত বলের পিঠে
বসে থাকি।
শূন্যে পাক খাই।