জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি হারানো মুহূর্তের এক বিষণ্ণ ও নান্দনিক উদ্যাপন। বৃষ্টির জমা জল আর ঢালু পথের রূপকে কবি নিজের জীবনের ‘অধোগামী’ বা ক্ষয়িষ্ণু অবস্থাকে তুলে ধরেছেন। জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় কবির সামনে দিয়ে প্রিয়তমার সাবধানে জল পেরিয়ে চলে যাওয়াটি এক তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে।
নারীর সেই সযত্ন পদক্ষেপ—যাতে জলের গায়েও আঘাত না লাগে—তা কবির কাছে এক পরম মায়ার দৃশ্য। তিনি বুঝতে পারেন, সেই উপস্থিতি ছিল ক্ষণস্থায়ী, অনেকটা ‘এসেও না আসার’ মতো। কিন্তু জীবনের সব প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির শেষে কবির কাছে অবশিষ্ট থাকে কেবল সেই ‘অপরূপ চলে যাওয়া’র স্মৃতি। এটি বিচ্ছেদকে এক অদ্ভুত শিল্পিত সুষমা দান করে, যেখানে পাওয়ার চেয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে সেই মায়াবী প্রস্থান।
এসেছিলে, তবু আসো নাই – জয় গোস্বামী
যেভাবে বৃষ্টির জল তোড়ে বয়ে যায়
ঢালুদিকে
সেইভাবে, আমার জীবন
আজ অধোগামী।
সালোয়ার একটু উঁচু ক’রে
তুমি সেই জল ভেঙে ভেঙে রাস্তা পার হয়ে গেলে—
এত যত্নে, সাবধানে, যেন বা জলের গায়ে
আঘাত না লাগে!