শিশুর জন্য হ্যাঁ বলুন | শিশুবিষয়ক | বাংলা রচনা সম্ভার , ভূমিকা: ১৯৯০ সালে জাতিসংঘের বিশ্ব শিশু সম্মেলনে বিশ্বের প্রতিটি দেশ শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। শিশুদের জন্য বিশ্ব ঘোষণায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লিখা হয়, শিশুদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজন সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সক্রিয়তা। ফলে মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিশুদের স্বার্থ পৃথিবীর কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব লাভ করে।
Table of Contents
শিশুর জন্য হ্যাঁ বলুন | শিশুবিষয়ক | বাংলা রচনা সম্ভার
বিশ্ব শিশু সম্মেলনের এক দশকেরও অধিককাল পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে একদিকে দেখা যায় আশাব্যঞ্জক অর্জন এবং অন্যদিকে হতাশাব্যঞ্জক ব্যর্থতার খতিয়ান। যেসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য এবং শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সক্রিয় হবার জরুরি আহ্বান জানানো হয় শিশুদের জন্য বিশ্ব আন্দোলনে।
এ আন্দোলন আহ্বান জানাচ্ছে শিশুদের প্রতি বড়দের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের আমূল পরিবর্তন। শিশুদের কথা শুনে, শিশুদের সাথে নিয়ে, শিশুদের উপযোগী একটি বিশ্ব গড়ে তোলাই শিশুদের জন্য বিশ্ব আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। এই আন্দোলনের একটি বিশেষ কর্মসূচি হলো ‘শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলুন’। এ কর্মসূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিশুদের বাদ দিয়ে বা অবহেলা করে মানব সমাজের উন্নয়ন কখনো সম্ভব হবে না ।
শিশুদের জন্য ‘হ্যা’ বলুন অভিযানটি কি?
শিশুদের জন্য ‘হ্যাঁ’ বলুন মূলত বিশ্ব শিশু আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এ কর্মসূচি বা প্রচারাভিযানটির সূচনা হয় ২০০১ সালের মার্চ মাসে। অন্য কথায়, শিশুদের জন্য ‘হ্যাঁ’ বলুন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিচালিত একটি বিরাট প্রচারাভিযান। আমি বিশ্বাস করি যে, স্বাস্থ্য, শান্তি ও মর্যাদা নিয়ে সকল শিশুকে বড় হতে হবে’—এই অঙ্গীকারের প্রতি ‘হ্যাঁ’ বলা এবং বিশ্ব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য বয়স্ক ও শিশুদের প্রতি একই রকম অনুরোধ জানানো হয়।
এরপর তাদেরকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত তিনটি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করতে বলা হয়। ফলে দেখা যায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে হোক বা ব্যাপকভাবে বিতরণ করা কাগজের ফরমের মাধ্যমে হোক পারস্পরিক সক্রিয়তার এই উপাদান শিশু ও বয়স্ক উভয়কেই এই প্রক্রিয়ায় টেনে আনতে নিঃসন্দেহে সহায়তা করেছে।
২০০২ সালের মে মাসে নিউইয়র্কে বিশ্ব শিশু ফোরামে নেলসন ম্যান্ডেলা ও গ্রাসা ম্যাশেলের কাছে ‘হ্যাঁ’ বলুন অঙ্গীকারগুলো যখন উপস্থাপন করা হয় তখন অঙ্গীকারগুলোর পক্ষে ‘হ্যা’ উত্তরদাতার মোট সংখ্যা দাঁড়ায় চীনের ২ কোটি ও তুরস্কের ১ কোটি ৬০ লাখসহ প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। শিশুদের কাছ থেকে আসা উপচে পড়া অঙ্গীকারগুলোর যে তিনটি বিষয় অত্যন্ত জরুরি বলে চিহ্নিত করা হয় সেগুলো হচ্ছে শিক্ষা, বৈষম্য ও দারিদ্র্য।
যত বেশি সম্ভব মানুষকে জড়িত করার প্রচেষ্টার ফলে শিশু অধিকার নিয়ে আলোচনা ও সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য দাঁড়িয়ে যায়—যেমনটি দেখা গেছে পেরুতে যেখানে ৮,০০,০০০ শিশু ‘হ্যা’ বলেছে। পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশ এ উপলক্ষ্যে ‘হ্যা’ বলুন প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে জাতীয় শিশু ফোরামের আয়োজন করে। সিরিয়ায় এক সেমিনারে ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৫০টি শিশু শিশু অধিকার সনদ নিয়ে লেখক, শিল্পী, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও টিভি প্রযোজকদের সাথে আলোচনা করে।
শিশুরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট সুপারিশের একটি তালিকা পেশ করে, যার মধ্যে একটি শিশু পার্লামেন্টের অনুরোধও ছিল এবং তারা বলে, তারা এখন পরিবর্তনের আশা করার সাহস পাচ্ছে। শিশুদের জন্য ‘হ্যা’ বলুন কর্মসূচির নীতি ও লক্ষ্য শিশুদের জন্য বিশ্ব আন্দোলন এবং শিশুদের জন্য “হ্যা” বলুন কর্মসূচির রয়েছে দশটি সুনর্দিষ্ট নীতি ও লক্ষ্য। নিচে এগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :
১. বাদ যাবে না কোনো শিশু :
বাদ যাবে না কোনো শিশু এর মর্মার্থ হলো শিশুদের অধিকার রক্ষায় যে কোনো কর্মসূচি শ্রেণী, গোষ্ঠী ও অবস্থা নির্বিশেষে প্রত্যেকটি শিশুর কাছে পৌঁছবে, প্রতিটি শিশুর জীবনমান বাড়াতে সাহায্য করবে, প্রত্যেকটি শিশুর বেঁচে থাকার, বেড়ে ওঠার, সুরক্ষার এবং অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করবে কোনো শিশু বাদ যাবে না ।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা : বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় সকল শিশু জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, ভাষা, মতামত, আর্থ-সামাজিক অবস্থান, সম্পদ নির্বিশেষে সমান অধিকার ও সুযোগ ভোগের অধিকারী। সরকারের সম্প্রতি শেষ হওয়া পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (১৯৯৭-২০০২) শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে যে সকল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তার অন্যতম হলো : সকল শিশুর ব্যক্তিত্বের উন্নয়ন, শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সবাইকে সমান সুযোগ প্রদান ।
মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময় থেকে মা ও শিশুর যত্ন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, জন্মের পর থেকে টীকাদান এবং জন্ম নিবন্ধন, মানসম্পন্ন শিশু প্রদান, তারুণ্যে ও কৈশোরে উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, শিশুশ্রম ও বৈষম্য নিরোধ—এ সবই শিশুর জীবনচক্রের প্রতিটি ধাপের সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত। কোনো শিশু কোনোভাবে যেন বাদ পড়ে না যায় সেটাই এ সকল কাজের মূল উদ্দেশ্য।
২. সকল শিশুর চাই আদর-যত্ন:
শিশুর সুস্থ শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য চাই আদরযত্ন। আদরযত্নের সাথে লালন-পালন করে একটি শিশুকে পৌছে দিতে হয় প্রাপ্ত বয়সে । কখন কোন ধরনের যত্নের প্রয়োজন সেটা আমাদের বুঝতে হবে। একটু বড় হয়ে ওঠা শিশুকে শেখাতে হবে নিজের প্রতি যত্নশীল হতে। শিশু প্রতিপালন সহজ কাজ নয়। শারীরিক যত্নের পাশাপাশি মানসিক যত্ন, আদর ও ভালোবাসা তার খুব প্রয়োজন। আচার-আচরণে তার সামনে তুলে ধরতে হবে আদর্শ উদাহরণ, যা সে অনুসরণ করতে পারে। সুস্থ, সবল ও ভারসাম্যমূলক জীবনযাপন শিশুর অধিকার।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা : বাংলাদেশ সরকারের পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (১৯৯৭-২০০২) শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে যে সকল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার অন্যতম হলো নবজাতক ও পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার ১৯৯০ সালের তুলনায় অর্ধেক কমিয়ে আনা। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা ভিত্তিক কর্মসূচির (১৯৯৮-২০০৩) সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হলে শিশুমৃত্যুর হার এবং প্রসবজনিত মায়ের মৃত্যুর হার অনেক কমে আসবে। ইউনিসেফের এ সংক্রান্ত অন্যতম কর্মসূচি হলো ইসিডি, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), পোলিও নির্মূল কর্মসূচি, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল, সমন্বিত পুষ্টি ও আয়োডিনযুক্ত লবণ গ্রহণ ।
৩. সবার আগে শিশু:
সবার আগে শিশু এর মর্মকথা হলো সমাজব্যবস্থা ও নীতি নির্ধারণী পদ্ধতি হবে এমন যেখানে শিশুকল্যাণ এবং শিশুর স্বার্থ বিবেচিত হয় সবার আগে। শিশুকে দেখা হবে সকল উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রথম ও অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসেবে, পৃথক করে নয়। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা পরিবেশ ভাবনা হতে হবে শিশুকেন্দ্রিক ।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা বাংলাদেশ সরকার জাতীয় শিশুনীতি ১৯৯৪, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা : ১৯৯০-১৯৯৫ এবং মেয়েশিশুদের জন্য দশকব্যাপী পরিকল্পনাকে (১৯৯১-২০০১) শিশু উন্নয়নের চালিকাশক্তি রূপে বিবেচনা করে থাকে। সরকারের প্রতিটি কর্ম পরিকল্পনায় বর্তমানে শিশুদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়।
৪. এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ করুন :
এইডস রোগের সবচেয়ে বেশি শিকার হয় শিশুরা। এই রোগের কারণে শিশুরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এইডস রোগে যারা মারা যায় তাদের সন্তানেরা বঞ্চিত হয় লেখাপড়া থেকে এবং সে নিজেও হতে পারে এইডস সংক্রমণের শিকার। এই সংক্রমণের শিকার থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে শিশুদের জানাতে হবে। এ রোগের কারণে যে অর্থনৈতিক দুর্গতি নেমে আসে তার হাত থেকে এই ধরনের পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে হবে।
৫. শিশু নির্যাতন আর শোষণ বন্ধ করুন :
বাসা, স্কুল, বাইরে, কর্মক্ষেত্রে কোথাও যেন শিশুদের ক্ষতির শিকার হতে না হয় সেটাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য। কেননা প্রতিটি শিশুরই নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। শিশুরা নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য বড়দের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং বড়দের হাতেই যখন শিশুরা নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয় তখন তা হয় বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা : বাংলাদেশ সরকারের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অন্যতম একটি বিষয় ছিল শিশুশ্রম হ্রাস, শিশুপাচার ও শিশু নির্যাতন বন্ধ করা। ইউনিসেফ কর্মজীবী শিশুদের জন্য কর্মসূচি এবং নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় শিশুর প্রতি শোষণ, নির্যাতন বন্ধের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
৬. শুনতে হবে শিশুর কথা :
শিশুদের জীবনকে স্পর্শ করে এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য অবশ্যই শোনা উচিত। অথচ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিশুদের কথা কেউ শুনতে চায় না। কিন্তু ভালোমন্দ শিশুরাও বোঝে এবং তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে নিজেরাই ভালো জানে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না শিশুরাই আগামীর নেতা। সুতরাং তাদেরকে তাদের বক্তব্য বা অভিমত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। এর ফলে তাদের ক্ষমতা বাড়বে, দায়িত্ববোধ জাগ্রত হবে এবং আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে। বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা : গণমাধ্যমে শিশুদের কণ্ঠকে জোরালো করতে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে আনার জন্য সংবাদপত্র, বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশন, প্রাইভেট চ্যানেলগুলোর সাথে কাজ করছে ইউনিসেফ।
৭. প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষা :
লিঙ্গবৈষম্য, সামাজিক বৈষম্য দূর করে সকল শিশুর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়া আমাদের পবিত্রতম দায়িত্ব। স্কুলের অবস্থান যেন দূরে না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন শিশুর শিক্ষাজীবন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা : বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ প্রদান, মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি প্রদান, প্রাইমারি স্কুলে সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য উপবতি প্রদানসহ নানাবিধ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইডিয়াল বা Intensive District Approach of Education for All জেলা পর্যায়ের সকল শিশুর শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে কাজ করছে । শহরে শ্রমজীবী শিশুদের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা পরিচালিত হচ্ছে।
৮. শিশুর স্বার্থে পৃথিবীকে বাঁচান :
সম্পদের উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্যকে সবল রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করার দায়িত্ব আমাদের। মনে রাখতে হবে এ পৃথিবী আগামীর শিশুদের জন্যই, আমরা তার তত্ত্বাবধায়ক মাত্র। তাই প্রতিটি প্রজন্মেরই অধিকার রয়েছে একটি নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠার বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা : পরিবেশ দূষণ রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পলিথিন ও টু স্ট্রোক ইঞ্জিন নিষিদ্ধকরণসহ আর্সেনিক দূষণ রোধে ব্যাপক কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি আন্তরিকতার প্রমাণ মেলে।
৯. যুদ্ধ থেকে শিশুকে রক্ষা করুন :
কোনো শিশুই যুদ্ধ শুরু করে না। অথচ যখনই যুদ্ধ শুরু হয় তখন শিশুরাই সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়ে। এরা ঝুঁকিপূর্ণ জীবন নিয়ে বেড়ে ওঠে। এমনকি কখনো কখনো শিশুকে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। তাই যারা শিশুদের যুদ্ধে যেতে বাধ্য করে তাদের শাস্তি দেয়া উচিত । আবার যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠনকালেও শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা : আমাদের দেশে যুদ্ধাবস্থা না থাকলেও সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের শিকার হয় শিশুরা। দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। তাই সব ধরনের সহিংসতার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুদের রক্ষা আমাদের কর্তব্য।
১০. দারিদ্র্য বিমোচনে শিশুর জন্য বিনিয়োগ :
আজকের বিশ্বে এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, শিশুর জন্য বিনিয়োগ সর্বাধিক সুফল বয়ে আনতে পারে। প্রকৃতার্থে উন্নয়নের পূর্বশর্ত শিশুর জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা : বাংলাদেশ ইতিমধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি খাতে ব্যাপক বরাদ্দ প্রদানপূর্বক শিশুর শিক্ষা ও নিরাপদ স্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচার জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
উপসংহার :
শিশুদের জন্য ‘হ্যাঁ’ বলুন প্রচরাভিযান শিশু ও তরুণদের জন্য বিপুল হারে অংশগ্রহণের এক বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করে এবং এমন একটি পথের সন্ধান দেয় যা আগামী দিনের আলোকিত পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে দারিদ্র্য, অপুষ্টি, অশিক্ষা আর কুসংস্কারের ছোবলে শিশুদের জীবন বিপন্ন সে সকল দেশে এ কর্মসূচি অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এ যাবৎকালের যে অর্জন তাকে একেবারে খাটো করে দেখা যায় না।
সফল পোলিও নির্মূল কর্মসূচি, শিশুশ্রম রোধ, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, প্রাথমিক স্কুলে ভর্তির হার বৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিকে বিবেচনায় আনলে শিশুর উন্নত ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে সরকার ও সিভিল সমাজের ঐকান্তিকতার প্রমাণ মেলে। তবে এ ক্ষেত্রে আরো অগ্রগতি সাধন করতে না পারলে একটি দারিদ্র্যমুক্ত সুন্দর আগামীর স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।