বাংলা ভাষার শব্দশ্রেণি | পদনির্মাণ ও শব্দনির্মাণ | ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি | ভাষা ও শিক্ষা

বাংলা ভাষার শব্দশ্রেণি | পদনির্মাণ ও শব্দনির্মাণ | ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি | ভাষা ও শিক্ষা , বাংলা ভাষার শব্দশ্রেণি : “প্রচলিত ব্যাকরণে বাংলা ভাষার শব্দগুলিকে পাঁচটি শব্দশ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। এ ব্যাকরণে (বাংলা একাডেমী প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ) শব্দের আটটি শ্রেণিকে গ্রহণ করা হয়েছে । বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ যোজক এবং আবেগ শব্দ।

বাংলা ভাষার শব্দশ্রেণি | পদনির্মাণ ও শব্দনির্মাণ | ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি | ভাষা ও শিক্ষা

প্রচলিত ব্যাকরণের অব্যয় কথাটিকে এ ব্যাকরণে গ্রহণ করা হয়নি, কারণ শব্দশ্রেণি হিসাবে অব্যয় কারক-বিভক্তি বহুপ সংস্কৃত ব্যাকরণের ধারণা। সেখানে বিভক্তিবহুলতার মধ্যে পদবিশেষের বিভক্তিহীনতা যতটা প্রকট, বাংলায় ততটা প্রকট নয়, কারণ বাংলার আরও একাধিক শব্দে কারকের বিভক্তি যোগ হয় না। সাধারণভাবে কর্তা বা মুখ্যকর্ম যেমন। বিভক্তি যোগ হয় না বলেই বাংলাতেও সেগুলিকে অব্যয় বলার কোনো অর্থ হয় না। আর তা ছাড়া প্রচলিত ব্যাকরণে অব্যয়ের মধ্যে একাধিক শব্দশ্রেণি— সমুজরী, পদান্বয়ী এবং অনন্বয়ী অব্যয়কে গ্রহণ করা হয়েছিল।

কিন্তু নানা দিক থেকে এই শব্দগুলির একের থেকে অন্যের ব্যাকরণগত চরিত্র ও ভূমিকা সম্পূর্ণ পৃথক। আর সমুদ্রয়ী অব্যয় (এই ব্যাকরণের পরিভাষায় “যোজক connectives) এবং পদান্বয়ী অব্যয় (অনুসর্গ) মূলত ব্যাকরণের কাজ করে, তাদের বস্তুগত অর্থ তত গুরুত্বপূর্ণ নয়। আবেগ-শব্দকে আগে অনন্বয়ী অব্যয় বলা হত, কিন্তু সম্ভবত আবেগ-শব্দ নামটিই তার চরিত্রকে যথাযথ প্রতিফলিত করে। আবেগ-শব্দগুলি বাক্যের মূল সংগঠনের (NP VP) বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। লক্ষ করা যায় যে, অনেক আভিধানিক শব্দও আবেগ-শব্দ হয়ে প্রকাশিত হয়, যেমন- যাঃ। বোস্! পালা। ইত্যাদি।

 

বাংলা ভাষার শব্দশ্রেণি | পদনির্মাণ ও শব্দনির্মাণ | ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি | ভাষা ও শিক্ষা

 

সে সবের আভিধানিক অর্থ যাই হোক, কিংবা তা ইঙ্গিত বা ব্যঞ্জনামাত্র প্রকাশ করুক তা বক্তার কোনো-না-কোনো আবেগের বাহক হয়ে বিশেষ অধিধ্বনি (suprasegmentals) যোগে প্রকাশিত হয়। বলা বাহুল্য, এই শব্দশ্রেণি নির্ধারণ মূলত অর্থনির্ভর, যদিও এক্ষেত্রে রূপতত্ত্বের অন্যান্য মানদণ্ডও একই সঙ্গে লক্ষ করা হবে। এ ধরনের শ্রেণিবিভাগ কখনোই নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ হয় না, কারণ বাক্যে প্রতিবেশবিশেষে অনেক শব্দের ভূমিকা পরিবর্তিত হতে পারে। এই শ্রেণিবিভাগ নিছক কাজ চালানোর জন্য। এই দিক থেকে বাংলা শব্দশ্রেণিকে ডানপাশে শাখাচিত্রে উপস্থাপন করা হল।

এই বিভাজনের পরিভাষাগুলিতে ‘অর্থবাহী মানে মূলত অর্থবাহী এ শব্দগুলিকে অর্থের প্রয়োজনেই বাক্যে ব্যবহার করা হয়। বাক্যের মূল সংবাদব এই শব্দগুলিতে বাহিত হয়। ব্যাকরণিক শব্দগুলিও নিশ্চয়ই এক ধরনের অর্থ আছে, কিন্তু তাদের কাজ  প্রধানত ব্যাকরণের। অনেক ভাষায় এদের বদলে বিভক্তি অথবা পদাণু (clitic) ব্যবহৃত হয়। আভিধানিক কথাটিতে এই শব্দগুলির যে গৃহীত ও প্রচলিত গোভিমানিক) অর্থ আছে তা বোঝানো হয়েছে।

মনে রাখতে হবে, বাক্যে শব্দগুলির একক কোনো ভূমিকা নেই, একক বা সম্মিলিতভাবে পদক (phrase) নির্মাণ করেই সেগুলি বৈধ অঙ্গ (constituent) হয়ে ওঠে। বাক্যের এই অঞ্চলগুলিতেই কারকের বিভক্তি যুক্ত হয়। অনেক সময়ে একাধিক শব্দযোগে তৈরি পদবন্ধও বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন- আমার মায়ের বাপের বাড়ি’ বিশেষণবদ্ধও হতে পারে, যেমন– “স্বচ্ছ, নির্মল ও সুপেয়’- কিন্তু তা মূলত বিশেষ্যবন্ধের অধীন থাকে।

বাক্যে তার স্বাধীন কোনো ভূমিকা নেই। জিয়াও একাধিক শব্দের হতে পারে “চুলে পড়া”, “বসে যাওয়া ইত্যাদি। ক্রিয়াবিশেষণ ভাই। শব্দশ্রেণির একক গন এবং এই দ্বৈত সম্ভাবনা সম্মন্ধে আমাদের সতর্ক থাকতে হয়। একক শব্দ পদংশ হয়ে রূপতত্ত্বের এলাকা এবং অবধের মধ্যে সেতু রচনা করে ।”

 

বাংলা ভাষার শব্দশ্রেণি | পদনির্মাণ ও শব্দনির্মাণ | ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি | ভাষা ও শিক্ষা

 

পদনির্মাণ ও শব্দনির্মাণ

পদনির্মাণ আর শব্দনির্মাণ এক নয়। পদনির্মাণ দৈনন্দিন বাক্যব্যবহারের অন্তর্গত, তা বাক্যনির্মিতি বা syntax এর অংশ। পদনির্মাণ হয় বিভক্তি যোগে। পদনির্মাণের রূপতত্ত্বের প্রধান দুটি ভাগ। একটি শব্দরূপ বা কারক-প্রকরণ, যেখানে বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের নানা কারকের রূপ দেখানো হয়। আর একটি ধাতুরূপ বা ক্রিয়া প্রকরণ (conjugation) যাতে নানা কালে (tense), প্রকারে (aspect), ভাবে (mood) এবং পক্ষে (person) ক্রিয়ার রূপ নির্মাণ করা হয়।

শব্দ গঠনেও লগ্নক যুক্ত হয়। শব্দগঠনের লগ্নকগুলো সাধারণভাবে প্রতায় নামে পরিচিত। আদ্যপ্রত্যয় (prefix), মধ্যপ্রত্যয় (infix), অন্তপ্রত্যয় (suffix) যোগে কিংবা সমাস ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় নতুন শব্দ গড়ে ওঠে। বাংলা রূপতত্ত্ব অংশে আমাদের লক্ষ করতে হবে :

১. কীভাবে বাংলা জটিল বা সাধিত শব্দের নির্মাণ চলে; তাতে আদ্যপ্রত্যয় (উপসর্গ), কৃচিৎ মধ্যপ্রতায় এবং বহুলত অন্ত্যপ্রত্যয় যোগ ছাড়াও স্বরান্তর, সমাস, দ্বিত্ব কিংবা একাধিক মিলিত প্রক্রিয়ায় কীভাবে নতুন শব্দের সৃষ্টি হয়।

২  কীভাবে বিশেষ্য সর্বনাম ইত্যাদি শব্দ বিভক্তি ইত্যাদির যোগে কারকাশিত হয়ে ‘পদ’ হয়ে দাঁড়ায়, এবং

৩. কীভাবে ক্রিয়াপদের নির্মাণ ঘটে।

এই তিনটির মধ্যে ১নং যদি আমাদের অভিধানে শব্দের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বাড়ায় তো ২নং আর ৩নং আমাদের শব্দগুলো ‘পদ’-এ পরিণত করে বাক্যে ব্যবহারের যোগ্য করে তোলে।

 

ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণির সংক্ষিপ্ত আলোচনা

প্রমিত বাংলা ব্যাকরণে বাংলা ভাষার শব্দশ্রেণিকে নিম্নোক্ত আট ভাগে ভাগ করা হয়েছে :

১. বিশেষ্য

২. সর্বনাম

৩. বিশেষণ

8. ক্রিয়া

৫. ক্রিয়াবিশেষণ

৬. যোজক

৭. অনুসর্গ

৮. আবেগ-শব্দ

বাংলা ভাষার শব্দশ্রেণি | পদনির্মাণ ও শব্দনির্মাণ | ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি | ভাষা ও শিক্ষা

 

আরও দেখুন:

মন্তব্য করুন