অনুবাদের শ্রেণিবিভাগ | নির্মিতি | ভাষা ও শিক্ষা

অনুবাদের শ্রেণিবিভাগ | নির্মিতি | ভাষা ও শিক্ষা , অনুবাদ কাজকে দু ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন :

১. আক্ষরিক অনুবাদ (literal translation) ২. ভাবানুবাদ (faithful rendering / transcreation) ১. আক্ষরিক অনুবাদ (literal translation) : মূল ভাষার প্রতিটি শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করে যে-অনুবাদ করা হয় তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলা হয়। আক্ষরিক অনুবাদে মূল ভাষার বাক্যশৈলী, বাণী, ভঙ্গি, সুর ইত্যাদি হুবুহু ভাষান্তরিত করার চেষ্টা করা হয়। যেমন : ‘Many men many mind.’ এই বাক্যের অর্থ যদি এমন করা যায়— “অনেক মানুষ অনেক মন’–তাহলে তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে মূল ভাষার ভাবার্থের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয় না।

অনুবাদের শ্রেণিবিভাগ | নির্মিতি | ভাষা ও শিক্ষা

আইন ও দলিল সংক্রান্ত বিষয়ের অনুবাদ আক্ষরিক অনুবাদ। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্যের কোন বিষয় আক্ষরিক অনুবাদে সফলতা বয়ে আনে না, এজন্য প্রয়োজন ভাবানুবাদ। সাধারণত, প্রবন্ধ বা গদ্যজাতীয় রচনা অনুবাদের ক্ষেত্রে এ জাতীয় অনুবাদ করা হয়। তবে শুধু শব্দের প্রতিশব্দ বসালেই অনেক ক্ষেত্রে মূল রচনার অর্থ স্পষ্ট হয় না।

 

অনুবাদের শ্রেণিবিভাগ | নির্মিতি | ভাষা ও শিক্ষা

 

সেক্ষেত্রে বাক্যের গঠন, ব্যবহৃত বাগ্‌ধারা ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হয়। আক্ষরিক অনুবাদে বিশ্বস্ততা থাকে। তবে বিশ্বস্ততা রাখতে গিয়ে অনেক সময় মূল রচনার অর্থ পাল্টে যায়। এ জাতীয় অনুবাদে স্বাধীনতা খর্ব হয়।

২. ভাবানুবাদ (faithful rendering / transcreation) : যে অনুবাদের মাধ্যমে মূল ভাষায় স্থিত মূল ভাব অক্ষুণ্ণ রেখে নিজের ভাষায় বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হয়, এবং মূল ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ, বাক্যগঠন ইত্যাদিকে উপেক্ষা করে অপর ভাষায় (নিজের ভাষায়) মূলভাবকে তুলে ধরা হয় বা অনুবাদ করা হয়, তাকে ভাবানুবাদ বলে।

ভাবানুবাদে মূল ভাষার ভাব যথাযথ রেখে অপর ভাষার প্রয়োজনীয় শব্দে অনুবাদ করতে হয়। যেমন : ‘Many men many mind.’ এই বাক্যের অর্থ যদি এমন করা যায়— ‘নানা মুনির নানা মত – তাহলে তাকে ভাবানুবাদ বলা যেতে পারে।

অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাবানুবাদই শ্রেষ্ঠ বলে সর্বজন স্বীকৃত। ভাবানুবাদে মূল রচনার প্রতিটি শব্দের অনুবাদ করা হয় না। এক্ষেত্রে অনুবাদক যথেষ্ট স্বাধীনতা গ্রহণ করেন। সৃজনশীল রচনা অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাবানুবাদ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে রচনার তাৎপর্যগত অর্থ গুরুত্বপূর্ণ, শব্দগত অর্থ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ নয়।

 

অনুবাদের শ্রেণিবিভাগ | নির্মিতি | ভাষা ও শিক্ষা

 

অনুবাদক চেষ্টা করবেন মূল রচনার স্টাইল বজায় রাখতে। ১৯৭০ সালে ইংল্যান্ডের লেখক আলেক্সান্ডার ফ্রেজার টাইটলার সৃজনশীল রচনা অনুবাদ প্রসঙ্গে কতকগুলো বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দিতে বলেন-

১. মূল কাজের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ধরবে অনুবাদে তার চিন্তাভাবনা, ধ্যানদর্শনকে খণ্ডিত না করে।

২. অনুবাদের মূল কাজের শৈলী (Style) যতদূর সম্ভব বজায় রাখতে হবে।

৩. অনুবাদকের দক্ষতা থাকতে হবে দুটি ভাষা— মূল ভাষা ও অনুবাদকের নিজের ভাষায়।

৪. অনূদিত লেখকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুবাদকের স্পষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।

৫. অনুবাদের ভাষায় জটিলতা থাকা উচিত নয়।

 

অনুবাদের শ্রেণিবিভাগ | নির্মিতি | ভাষা ও শিক্ষা

 

অনূদিত ভাষায় প্রচলিত ও সাধারণ্যে ব্যবহৃত শব্দাবলির সাহায্যেই অনুবাদ করা উচিত। অনুবাদের নিয়ম ও অনুবাদের ক্ষেত্রে সচেতনতা অনুবাদ করার সময় নিচের বিষয়গুলোর প্রতি সচেতন হতে হবে :

১. প্রথমেই মূল অংশটি (Text) বারবার পড়ে এর সঠিক অর্থ বোঝা প্রয়োজন। একই শব্দ নানা অর্থ প্রকাশ করতে পারে। তাই কোন শব্দে কোন অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে তা ভালোভাবে বুঝে নেয়া প্রয়োজন ।

২. হুবহু শাব্দিক বা আক্ষরিক অনুবাদ করলে অনুবাদ যথার্থ হবে না। ভাষা শুদ্ধ ও সহজসাধ্য না হলেও অনুবাদ হবে না। মূল রচনার আলংকরিক গুণ অনুবাদে যেন বজায় থাকে, সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

৩. সংশ্লিষ্ট ভাষার Idiom, phrase সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

৪. ক্রিয়ার কাল, বচন, পুরুষ, প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

৫. ইংরেজি নামগুলো (Noun) অর্থাৎ বিশেষ্যগুলোকে ইংরেজি হিসেবেই অনুবাদ করতে হবে।

৬. অনুবাদের শেষে অনুবাদটি বার বার পড়ে দেখা উচিত— যেন তা সত্যই বাংলা শোনায় ।

আরও দেখুন:

মন্তব্য করুন