আধুনিক বাংলা কবিতার নির্জনতম কবি জীবনানন্দ দাশের চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘মহাপৃথিবী’। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে (১৩৫১ বঙ্গাব্দ) এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এর প্রকাশক ছিলেন ‘পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক সত্যপ্রসন্ন ঘোষ। কবির প্রথম তিনটি কাব্যগ্রন্থ— ঝরাপালক (১৯২৭), ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬) এবং বনলতা সেন (১৯৪২)—এর কাল অতিক্রম করে ‘মহাপৃথিবী’তে এসে জীবনানন্দ এক নিরাসক্ত বিশ্ববীক্ষা ও মহাজাগতিক বোধের পরিচয় দিয়েছেন।
‘মহাপৃথিবী’ এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল যখন পৃথিবী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তান্ডবে প্রকম্পিত। একদিকে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা, অন্যদিকে ১৯৪৩-এর ভয়াবহ মন্বন্তর (তেপ্পান্নর আকাল)—এই দুইয়ের প্রভাবে কবির ব্যক্তিগত ও সামাজিক চেতনায় যে পরিবর্তন ঘটেছিল, তার প্রতিফলন দেখা যায় এই কাব্যের কবিতাগুলোতে।
সমালোচকদের মতে, ‘মহাপৃথিবী’ জীবনানন্দের কাব্যরীতির এক চরম পরিণতি। এখানে কবির কল্পনা কেবল বাংলার ধানসিঁড়ি বা হিজল-তমেলে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা নক্ষত্রলোক থেকে শুরু করে ফুটপাথের ভিখারি পর্যন্ত বিস্তারিত হয়েছে। আধুনিক নগরজীবনের ক্লান্তি এবং প্রকৃতির আদিম নিস্তব্ধতা—এই দুইয়ের এক অপূর্ব মিশ্রণ এই কাব্যকে বাংলা সাহিত্যের এক অবিনশ্বর সম্পদ করে তুলেছে।
মহাপৃথিবী কাব্যগ্রন্থ (১৯৪৪) এর কবিতা সূচি:
- অনুপম ত্রিবেদী
- আজকের এক মুহূর্ত
- আট বছর আগে একদিন
- আদিম দেবতারা
- ইহাদেরি কানে
- নিরালোক
- পরিচায়ক
- প্রার্থনা
- প্রেম অপ্রেমের কবিতা
- ফিরে এসো
- ফুটপাথে
- বলিল অশ্বত্থ সেই
- বিভিন্ন কোরাস
- মনোকণিকা (অসম্পূর্ণ)
- মনোবীজ
- মুহূর্ত
- শব
- শহর
- শীতরাত
- শ্রাবণরাত
- সিন্ধুসারস
- সুবিনয় মুস্তফী
- সূর্যসাগরতীরে
- স্থবির যৌবন
- স্বপ্ন

