লোভী ছেলে কবিতা – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই কবিতাটি শৈশবের এক চিরন্তন ও মধুর দুষ্টুমিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এখানে একটি ‘লোভী’ ছেলের মিষ্টির প্রতি তীব্র আকর্ষণকে কবি অত্যন্ত সরল ও কৌতুকপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

কবিতার শুরুতে ছেলেটির আপন মনে হাসা এবং অস্ফুট বুলি বলার আড়ালে যে পরিকল্পনা কাজ করছিল, তা হলো মিষ্টি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। সে একলা বসে কেবল ‘চামচ চেটে’ তার রসনার তৃপ্তি মেটাতে পারছে না। তাই সে একপ্রকার মজার ‘হুমকি’ দেয়—যদি তাকে মিষ্টি দিয়ে চুপ করানো না হয়, তবে সে চিৎকার করে পুরো বাড়ি মাথায় তুলবে।

এটি কেবল একটি শিশুর মিষ্টি খাওয়ার আবদার নয়, বরং শৈশবের সেই অদম্য জেদ আর সারল্যের এক নিখুঁত ছবি, যা আমাদের মনে এক অমলিন হাসি ফুটিয়ে তোলে। সুকুমার রায়ের অন্যান্য ছড়ার মতো এখানেও ঘরোয়া পরিবেশের একটি অতি সাধারণ মুহূর্ত অসাধারণ বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে।

লোভী ছেলে কবিতা – সুকুমার রায়

কি ভেবে যে আপন মনে
হাসি আসে ঠোঁটের কোণে,-
আধ আধ ঝাপসা বুলি
কোন কথা কয়না খুলি ।
বসে বসে একলা নিজে
লোভী ছেলে ভাবেন কি যে-
শুধু শুধু চামচ চেটে
মনে মনে সাধ কি মেটে ?
একটুখানি মিষ্টি দিয়ে
রাখ আমায় চুপ করিয়ে,
নইলে পরে চেঁচিয়ে জোরে
তুলব বাড়ি মাথায় ক’রে ।

Leave a Comment