লাইব্রেরিকে স্কুল কলেজের উপরে স্থান দিই সারাংশ সারমর্ম

সারাংশ বা সারমর্ম লিখন কেবল একটি পাঠের সংক্ষেপণ নয়, বরং এটি মূল রচনার অন্তর্নিহিত দর্শনকে অল্প কথায় প্রকাশ করার একটি শিল্প। আজকের পাঠে আমরা প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের একটি বিশেষ অংশের ভাবার্থ বিশ্লেষণ করব। এই পাঠটি আমাদের “ভাষা ও শিক্ষা” সিরিজের “সারাংশ ও সারমর্ম” বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।

লাইব্রেরিকে স্কুল কলেজের উপরে স্থান দিই সারাংশ সারমর্ম লিখন

লাইব্রেরিকে স্কুল কলেজের উপরে স্থান দিই… রচনাটি ভালোভাবে পড়ে নেবো। এরপর আমরা সারাংশ সারমর্ম তৈরি করবো। তারপর সারাংশ সারমর্ম তৈরি করার নিয়মের দিকে একটু চোখ বুলিয়ে নেব।

 

লাইব্রেরিকে স্কুল কলেজের উপরে স্থান দিই রচনা:

আমি লাইব্রেরিকে স্কুল কলেজের উপরে স্থান দিই এই কারণে যে, এ স্থানে লোক স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হবার সুযোগ পায়। প্রতিটি লোক তার স্বীয় শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। স্কুল কলেজে বর্তমানে আমাদের যে অপকার করছে সে অপকারের প্রতিকারের জন্য শুধু নগরে নগরে নয়, গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য। আমি পূর্বে বলেছি যে লাইব্রেরি হাসপাতালের চাইতে কম উপকারী নয়, তার কারণ আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে এক রকম মনের হাসপাতাল।

 

মূল রচনার প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

এই অনুচ্ছেদটিতে লেখক প্রমথ চৌধুরী আমাদের গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে:

  • স্কুল-কলেজ বনাম লাইব্রেরি: স্কুল-কলেজে শিক্ষা দেওয়া হয় চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে, যেখানে ব্যক্তিগত রুচির স্থান কম। কিন্তু লাইব্রেরি হলো মুক্ত চিন্তার ক্ষেত্র।
  • স্বশিক্ষা (Self-education): প্রকৃত শিক্ষা হলো তা-ই, যা মানুষ নিজের আগ্রহে অর্জন করে। লাইব্রেরি সেই ‘স্বশিক্ষিত’ হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
  • মনের হাসপাতাল: শরীর অসুস্থ হলে আমরা হাসপাতালে যাই। একইভাবে, আমাদের বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষের মনকে যে সংকীর্ণ ও রুগ্ন করে তুলছে, তা থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র লাইব্রেরি। তাই লাইব্রেরি হলো মনের চিকিৎসা কেন্দ্র বা হাসপাতাল।

 

লাইব্রেরিকে স্কুল কলেজের উপরে স্থান দিই সারাংশ :

লাইব্রেরির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ও স্বচ্ছন্দে স্বশিক্ষিত হবার সুযোগ রয়েছে বলে ব্যাপকভাবে বই পড়া ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন। শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে এক রকম মনের হাসপাতাল।

বা

গতানুগতিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অনেক সময় মানুষের স্বকীয়তা ও চিন্তাশক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। এই যান্ত্রিক শিক্ষার কুফল থেকে মুক্তি পেতে লাইব্রেরির ভূমিকা অপরিসীম। লাইব্রেরি মানুষের রুচি ও সামর্থ্য অনুযায়ী জ্ঞান অর্জনের অবাধ স্বাধীনতা দেয়। তাই মানুষের মানসিক সুস্থতা ও প্রকৃত স্বশিক্ষার প্রসারে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা একান্ত জরুরি।

 

আরও দেখুন:

Leave a Comment