সুকুমার রায়ের এই কবিতাটি নববর্ষের আবাহন এবং জীবনের ইতিবাচক দর্শনের এক অনুপম উদাহরণ। ‘কান্না হাসির পোঁটলা’ বেঁধে বিদায়ী বছরকে ‘বৃদ্ধ’ হিসেবে কল্পনা করে কবি সময় ও অভিজ্ঞতার সঞ্চয়কে ফুটিয়ে তুলেছেন। নতুন বছরের আগমনে আমাদের মনের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত, কবি সেই প্রশ্নই রেখেছেন।
কবিতাটির মূল সুর লুকিয়ে আছে শেষ দুই চরণে। জাগতিক কোনো ধন-সম্পদ নয়, বরং নতুনকে স্বাগত জানাতে কবি বেছে নিয়েছেন অমলিন হাসি, ভরসা আর আনন্দময় গান। সুখ এবং দুঃখ—উভয়কেই সমানভাবে গ্রহণ করে সাহসের সাথে পথ চলাই যে জীবনের প্রকৃত সার্থকতা, এখানে সেই আশাবাদী বার্তাই ফুটে উঠেছে। এটি মূলত মানুষের অন্তরের শুভবোধকে জাগ্রত করার এক সহজ অথচ গভীর আহ্বান।
মনের মতন – সুকুমার রায়
কান্না হাসির পোঁটলা বেঁধে, বর্ষভরা পুঁজি,
বৃদ্ধ বছর উধাও হ’ল ভূতের মুলুক খুঁজি ।
নূতন বছর এগিয়ে এসে হাত পাতে ঐ দ্বারে,
বল্ দেখি মন মনের মতন কি দিবি তুই তারে ?
আর কি দিব ?- মুখের হাসি, ভরসাভরা প্রাণ,
সুখের মাঝে দুখের মাঝে আনন্দময় গান ।