সুকুমার রায়ের এই কালজয়ী ছড়াটি মূলত মানুষের মেকি বীরত্বের প্রতি এক চমৎকার বিদ্রূপ। এখানে একটি শিশু সাপুড়ের কাছে এমন এক অদ্ভুত সাপ চায়, যার কোনো বিষ বা হিংস্রতা নেই; যে কেবল দুধ-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকে। নির্বিষ ও নিরীহ প্রাণীকে পিটিয়ে ‘ঠাণ্ডা’ করার এই আবদার যেমন হাস্যকর, তেমনি এটি মানুষের কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজেকে সাহসী প্রমাণের প্রচেষ্টাকেই ব্যঙ্গ করে। এক অনবদ্য ছন্দে কবি এখানে মানুষের স্বভাবজাত অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
বাবুরাম সাপুড়ে – সুকুমার রায়
বাবুরাম সাপুড়ে,
কোথা যাস্ বাপুরে?
আয় বাবা দেখে যা,
দুটো সাপ রেখে যা—
যে সাপের চোখ্ নেই,
শিং নেই নোখ্ নেই,
ছোটে না কি হাঁটে না,
কাউকে যে কাটে না,
করে নাকো ফোঁস্ফাঁস্,
মারে নাকো ঢুঁশঢাঁশ,
নেই কোন উৎপাত,
খায় শুধু দুধ ভাত—
সেই সাপ জ্যান্ত
গোটা দুই আনত?
তেড়ে মেরে ডাণ্ডা
ক’রে দেই ঠাণ্ডা।