প্রেতের মিলননারী নেই – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক তীব্র কামজ যন্ত্রণা, অতৃপ্তি এবং মহাজাগতিক হাহাকারের সংমিশ্রণ। এখানে ‘প্রেত’ কোনো ভৌতিক সত্তা নয়, বরং এক অবদমিত ও অতৃপ্ত বাসনার প্রতীক। তার ‘মিলননারী নেই’—এই বাক্যটি এক চরম একাকীত্ব এবং শারীরিক ও মানসিক অপূর্ণতাকে নির্দেশ করে।

এই অতৃপ্তি মেটানোর জন্য প্রেতটি মহাজাগতিক ও প্রাকৃতিক শক্তির শরণাপন্ন হয়। চন্দ্র ও সূর্যকে আঁকড়ে ধরে সে ‘ক্রিয়াশীল আগ্নেয়গিরি’ বা পৃথিবীর অন্তরের উত্তপ্ত কামনার গভীরে প্রবেশ করতে চায়। এটি মূলত এক ধ্বংসাত্মক ও আদিম মিলনের আর্তি। ‘জিহ্বাহীন মুখ’ এবং ‘অতৃপ্ত রমণশব্দ’—এই শব্দবন্ধগুলো বোঝায় যে, এই আকাঙ্ক্ষা এতটাই গভীর ও ভাষাতীত যে তা কোনো সাধারণ সংলাপে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। যখন মেঘ ফেটে যায়, অর্থাৎ যখন কোনো প্রাকৃতিক বা মানসিক বিস্ফোরণ ঘটে, তখনই সেই অব্যক্ত ও আদিম যন্ত্রণার শব্দ মহাবিশ্বে প্রতিধ্বনিত হয়।

পুরো কবিতাংশটি যৌনতা, মৃত্যু এবং প্রকৃতির এক ভয়ংকর সুন্দর কোলাজ, যা আমাদের অস্তিত্বের গহীনে লুকিয়ে থাকা চিরন্তন অতৃপ্তিকেই উন্মোচন করে।

প্রেতের মিলননারী নেই – জয় গোস্বামী

প্রেতের মিলননারী নেই।

সে তাই চন্দ্র ও সূর্য দুটি হাত রেখে
ক্রিয়াশীল আগ্নেয়গিরিকে ভেদ করে
পৃথিবীর সঙ্গে মিলতে চায়–

জিহ্বাহীন মুখ থেকে অতৃপ্ত রমণশব্দ
মেঘ ফেটে গেলে–শোনা যায়।

Leave a Comment