নিয়মিত লেখাপড়া করার উপদেশ দিয়ে ছোট বোনের কাছে পত্র – এর একটি নমুনা দিলাম। অনুজ বা ছোটদের লেখা পত্রে উপদেশের পাশাপাশি স্নেহের পরশ থাকা জরুরি। নিচে উপস্থাপিত পত্রটি একটি নমুনা মাত্র। তোমরা এখান থেকে কঠিন শব্দগুলোর সহজ প্রয়োগ এবং অনুচ্ছেদের বিন্যাস শিখে নিয়ে নিজের ভাষায় ছোট বোন বা ভাইকে চিঠি লেখার চেষ্টা করবে। মনে রাখবে, কেবল ভালো ফলাফল নয়, বরং প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য নিয়মিত পড়াশোনা কেন প্রয়োজন—সেই বার্তাটিই এখানে মূল বিষয়।
নিয়মিত লেখাপড়া করার উপদেশ দিয়ে ছোট বোনের কাছে পত্র
কলেজ ছাত্রাবাস, বগুড়া
১৫ মে, ২০০০
স্নেহের ‘ক’,
আমার অনেক অনেক আশীর্বাদ ও ভালোবাসা নিও। গত পরশু মায়ের হাতে লেখা একটি চিঠি পেলাম। চিঠিতে তোর পড়াশোনার প্রতি সাময়িক উদাসীনতার কথা জেনে কিছুটা উদ্বিগ্ন হলাম। তুই আমাদের পরিবারের আশা-ভরসার স্থল, তাই তোর সামান্য বিচ্যুতিও আমাদের ব্যথিত করে। আশা করি, বড় ভাইয়ের এই পত্রটি পাওয়ার পর তুই নিজের ভুল বুঝতে পেরে পড়াশোনায় পুনরায় মনোনিবেশ করবি।
প্রিয় বোন,
জীবন একটি নিরন্তর বহমান নদী। এই যাত্রাপথে সময় হলো সবচেয়ে মূল্যবান পাথেয়। তুই যদি একটি সুন্দর ও গোছানো জীবন চাস, তবে আজ থেকেই তোকে একটি সুনির্দিষ্ট ‘দৈনিক রুটিন’ বা কার্যতালিকা তৈরি করে নিতে হবে। মনে রাখবি, পৃথিবীতে দৃশ্যমান সব কিছুই পরিবর্তনশীল এবং ক্ষণস্থায়ী; কেবল অর্জিত জ্ঞানই হলো অক্ষয় সম্পদ। জ্ঞান মানুষের চরম ও পরম বন্ধু, যা বিপদে দিশা দেখায় এবং অন্ধকারে আলোর মশাল হয়ে জ্বলে থাকে। আর এই জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন কঠোর শ্রম ও গভীর অধ্যবসায়।
তোর সামনে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষা। সিলেবাস বা পড়া জমিয়ে রাখা একজন শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু। অনেক শিক্ষার্থী সময়ের কাজ সময়ে না করে পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে নকলের মতো জঘন্য ও অন্ধকার পথ বেছে নেয়। মনে রাখিস, নকল করে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট হয়তো সাময়িক আনন্দ দেয়, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে তা মানুষকে মেধাহীন ও পঙ্গু করে ফেলে। একজন নকলকারী কেবল নিজের ক্ষতি করে না, সে দেশ ও জাতির জন্য এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তোর মতো মেধাবী ও নীতিবান শিক্ষার্থীর কাছে এমনটা কখনোই কাম্য নয়। বরং তুই তোর বন্ধুদেরও এই ব্যাধি সম্পর্কে সচেতন করবি—এটাই আমার প্রত্যাশা।
স্নেহের বোন,
একটি পুরনো প্রবাদ আছে— ‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন’। অর্থাৎ লক্ষ্য অর্জনে জীবনপণ চেষ্টা করতে হবে। জগতে যত বড় মনীষী, বিজ্ঞানী বা শিল্পী অমর হয়ে আছেন, তাঁদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল অধ্যবসায়। অধ্যবসায় হলো সেই ‘পরশপাথর’, যা সাধারণ জীবনকেও সোনায় রূপান্তরিত করতে পারে। প্রতিটি দিনকে নতুন করে শুরু কর, প্রতিটি অধ্যায়কে গভীর মনোযোগ দিয়ে আত্মস্থ করার চেষ্টা কর। জীবনের সফলতা বা বিফলতা মূলত নির্ভর করে তুই আজ কতটা নিষ্ঠার সাথে তোর কর্তব্য পালন করছিস তার ওপর।
লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিবি। বাবা-মায়ের অবাধ্য হবি না এবং তাঁদের শরীর-স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখবি। আমি বিশ্বাস করি, তুই তোর ভুল সংশোধন করে পরীক্ষায় চমৎকার ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবি। আজ আর নয়, ভালো থাকিস।
ইতি,
তোর বড় ভাই