রামনিধি গুপ্ত (নিধু বাবু) রচিত এই পঙ্ক্তিমালাটি মাতৃভাষার গুরুত্ব ও মহিমা প্রকাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধ্রুপদী উদাহরণ। কবি এখানে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের জন্য স্বদেশী ভাষার অপরিহার্যতার কথা বলেছেন। পৃথিবীতে অজস্র ভাষা থাকতে পারে, কিন্তু নিজের মায়ের ভাষা ছাড়া হৃদয়ের গভীর তৃপ্তি বা আশা যে পূরণ হয় না, কবি সেই চিরন্তন সত্যটিই তুলে ধরেছেন।
এই ভাবকে বোঝাতে তিনি একটি চমৎকার প্রাকৃতিক রূপক ব্যবহার করেছেন। প্রকৃতিতে নদী বা সরোবরের জলের অভাব নেই, কিন্তু চাতক পাখি যেমন বৃষ্টির জল বা ‘ধরাজল’ ছাড়া অন্য কিছুতে নিজের তৃষ্ণা মেটাতে পারে না, মানুষের প্রাণের তৃষ্ণাও তেমনি মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো বিদেশী ভাষায় মেটে না। ভাষাপ্রেম ও দেশপ্রেমের এক অপূর্ব মেলবন্ধন এই ছোট্ট কবিতাটি।
নানান দেশে নানান ভাষা – রামনিধি গুপ্ত
নানান্ দেশে নানান্ ভাসা (ভাষা)
বিনে স্বদেশীয় ভাসে পূরে কি আশা ?
কত নদী সরোবর,
কি বা ফল চাতকীর |
ধরাজল বিনে কভু ঘুচে কি ত্রিষা (তৃষা) ?