নবীনবরণ উপলক্ষে অভিনন্দনপত্র এর একটি খসড়া দেয়া হল। আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে বরণ বা বিদায় জানানাের জন্যে যে সম্মাননাপত্র রচনা করা হয়, তাকে মানপত্র বলে। মানপত্র সাধারণত সামাজিক, আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রচুর দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিতে পাঠ করে সংবধেয় ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিনন্দনপত্র বা মানপত্র কেবল কিছু শব্দের সমাহার নয়; এটি নবাগতদের প্রতি জ্যেষ্ঠদের আন্তরিক অভ্যর্থনা এবং অনুপ্রেরণার দলিল। নিচে উপস্থাপিত মানপত্রটি একটি উন্নত নমুনা। তোমরা এখান থেকে তথ্য, কাব্যিক উদ্ধৃতি এবং ভাষাভঙ্গি গ্রহণ করে তোমাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য অনুযায়ী একটি মৌলিক অভিনন্দনপত্র তৈরি করার চেষ্টা করবে। মনে রাখবে, মানপত্রের ভাষা হতে হবে মার্জিত, আবেগময় এবং অনুপ্রেরণামূলক।
নবীনবরণ উপলক্ষে অভিনন্দনপত্র
[শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম (গুরুকুল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউট)]-এর একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা উপলক্ষে অভিনন্দন
“এসো হে নতুন, নতুনের কেতন উড়ায়ে”
হে নবীন বন্ধুরা,
নতুন স্বপ্নের সুষমা নিয়ে, আলোর অভিযাত্রী হয়ে তোমরা আজ পা রেখেছ এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যানিকেতনের সবুজ চত্বরে। তোমাদের চঞ্চল পদচারণায় আজ এই প্রাঙ্গণ নবপ্রাণে স্পন্দিত। এখান থেকেই শুরু হলো তোমাদের জীবনের এক মহত্তম সোপান। কবির ভাষায়—
‘যাত্রা তব শুরু হোক হে নবীন, কর হানি দ্বারে নবযুগ ডাকিছে তোমারে।’ এই শুভ যাত্রালগ্নে আমাদের হৃদ নিংড়ানো অজস্র শুভেচ্ছা ও একরাস স্নেহাশিস গ্রহণ করো। আমরা তোমাদের বরণ করছি এক বুক আশা আর নির্মল ভালোবাসা দিয়ে।
হে শিক্ষার্থী বন্ধুরা,
তোমরা আজ বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র গণ্ডি এবং পারিবারিক স্নেহনীড় ছেড়ে বৃহত্তর জ্ঞানরাজ্যের আলোকোজ্জ্বল অঙ্গনে পদার্পণ করেছ। তোমাদের সামনে এখন এক অনন্ত সম্ভাবনার দিগন্ত। তোমরা সেই আলোর জগতের যাত্রী। আলোকিত মানুষ হওয়ার এই কঠিন অথচ গৌরবের পথচলা তোমাদের সফল হোক—এটাই আমাদের একান্ত কামনা। কবিকণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলি—
‘শুনিতেছি আমি, শোন ঐ দূরে—তূর্যনাদ, ঘোষিছে নবীন ঊষার উদয়—সুসংবাদ।’
হে নবীন সাধক,
স্কুলজীবনে তোমাদের অভিভাবক ও শিক্ষকগণ তোমাদের ছায়ার মতো আগলে রাখতেন। কিন্তু মহাবিদ্যালয়ের এই মুক্ত প্রাঙ্গণে তোমাদের স্বাধীনতার সমান্তরালে বেড়েছে দায়িত্ব। মনে রাখবে, মহৎ উদ্দেশ্য আর একাগ্র সাধনাই লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র চাবিকাঠি। এখানে সামান্য পদস্খলন তোমাদের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। তাই জীবনের সামনে একটি সুউচ্চ আদর্শ স্থির করো। কর্মে অনুরাগ আর প্রচেষ্টায় আন্তরিকতা থাকলে জীবনের সফলতা অনিবার্য।
হে আগামীর স্থপতি দল,
উচ্ছল তারুণ্যের অফুরন্ত প্রাণশক্তি তোমাদের ধমনীতে প্রবহমান। আমরা যখন তোমাদের বরণ করছি, তখন বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির জোয়ারে। আমাদের প্রিয় স্বদেশ আজ যখন মূল্যবোধের অবক্ষয়, অশিক্ষা ও নানা সংকটের মুখোমুখি, তখন তোমাদের মতো প্রাণবন্ত তরুণদেরই নিতে হবে হাল। আমরা বিশ্বাস করি, তোমরা কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মানবিক শিক্ষা ও নৈতিকতায় নিজেদের গড়ে তুলবে। অগ্রসর স্বদেশ ও মানবিক বিশ্ব রচনার নিপুণ কারিগর হিসেবে তোমরাই হবে আগামীর কর্ণধার।
হে বন্ধুগণ,
এই বিদ্যাপীঠের গৌরবময় ইতিহাসে তোমাদের মতো বহু মেধাবী তরুণ একদা নবীন রূপে এসেছিলেন, যাঁরা আজ দেশ-বিদেশে নিজ নিজ কর্মগুণে স্মরণীয়। তাঁদের সেই সাফল্যের উত্তরাধিকার এখন তোমাদের হাতে। তোমাদের সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সংযত আচরণ আর পাঠের প্রতি গভীর নিষ্ঠা তোমাদের চারিত্রিক সম্পদকে মহিমান্বিত করুক। শিক্ষকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর সহপাঠীদের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ হোক তোমাদের ভূষণ। তোমাদের জীবন হোক সুন্দর, আগমণ হোক সার্থক।
‘তোমরা এসেছ ভেঙেছ অন্ধকার / তোমরা এসেছ ভয় করি নাকো আর পায়ের স্পর্শে মেঘ কেটে যাবে রোদ্দুর / ছড়িয়ে পড়বে বহুদূর বহুদূর।’
[১০/১১/২০০১] [গুরুকুল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউট]
অনেক অভিনন্দনসহ, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ।