দেশে বিজ্ঞানচর্চার আবশ্যকতা বুঝিয়ে বন্ধুকে চিঠির একটি নমুনা দেয়া হল। ব্যক্তিগত পত্র বা বন্ধুকে লেখা চিঠি কোনো মুখস্থ করার বিষয় নয়; এটি হৃদয়ের আবেগ ও যুক্তি বিনিময়ের একটি মাধ্যম। নিচে উপস্থাপিত পত্রটি একটি নমুনা মাত্র। তোমরা এখান থেকে তথ্য ও ভাষাভঙ্গি গ্রহণ করে নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে বন্ধুকে চিঠি লেখার চেষ্টা করবে। মনে রাখবে, চিঠির ভাষা হবে সহজ, সাবলীল এবং আন্তরিক।
দেশে বিজ্ঞানচর্চার আবশ্যকতা বুঝিয়ে বন্ধুকে চিঠি
ঠিকানা: কচুয়া, চাঁদপুর।
তারিখ: ১২ জুলাই, ২০২৬
প্রিয় ‘ক’,
আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিস। আশা করি পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো আছিস। তোর গত সপ্তাহের চিঠিখানা হাতে পেলাম। তুই কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার জন্য স্থায়ীভাবে বিদেশে পাড়ি জমানোর যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিস, তা পড়ে একদিকে যেমন তোর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে খুশি হয়েছি, অন্যদিকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তোর মতো একজন মেধাবীর অভাব বোধ করে কিছুটা ব্যথিত হয়েছি।
তুই লিখেছিস—এদেশে বিজ্ঞানচর্চার উপযুক্ত ক্ষেত্র নেই, এদেশ অনেক পিছিয়ে আছে এবং এখানে মেধাবীদের মূল্যায়ন নেই। তোর এই অভিমানী অভিযোগগুলো একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না ঠিকই, কিন্তু বন্ধু হিসেবে আমার মনে হয়েছে—আমাদের মতো তরুণরাই যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে এই অচলায়তন ভাঙবে কে?
প্রিয় বন্ধু,
একথা ধ্রুব সত্য যে, বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আজ অণু থেকে অট্টালিকা এবং মহাসাগর থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু আমাদের এই উন্নয়নশীল দেশে বিজ্ঞানচর্চার আবশ্যকতা কেবল বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই। আমি কেন মনে করি তোর মতো মেধাবীদের এদেশে থেকে বিজ্ঞানচর্চা করা প্রয়োজন, তার কয়েকটি কারণ তোকে বলি:
প্রথমত, আমাদের দেশকে দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ধার করা প্রযুক্তি নয়, বরং দেশীয় মেধা ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আমাদের দেশটি কৃষিপ্রধান। বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে হলে সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে উন্নত প্রযুক্তির চাষাবাদ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও উচ্চফলনশীল বীজের উদ্ভাবন প্রয়োজন। একমাত্র বিজ্ঞানমনস্ক তরুণরাই পারে এ দেশে কৃষিবিপ্লব ঘটিয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিত করতে।
তৃতীয়ত, আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজও কুসংস্কার ও অপবিজ্ঞানের কালো ছায়া রয়ে গেছে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে যুক্তিবাদী ও আধুনিক করতে হলে ঘরে ঘরে বিজ্ঞান শিক্ষার আলো পৌঁছানো জরুরি। কম্পিউটার সায়েন্সের মতো আধুনিক বিষয়ে তোর যে দক্ষতা, তা এদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো গড়তে বিপ্লব ঘটিয়ে দিতে পারে।
তুই দেশের বাইরে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ কর, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেখান থেকে অর্জিত জ্ঞান নিয়ে তুই যদি নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে আসিস, তবে এদেশের মাটি থেকেই সোনা ফলানো সম্ভব। মনে রাখিস, দেশ তো কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্র নয়; দেশ মানে আমাদের শেকড়। সেই শেকড়ের ঋন শোধ করার দায়িত্ব আমাদেরই।
আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে বন্ধু হিসেবে ক্ষমা করিস। তোকে দুঃখ দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়, বরং তোকে এটা উপলব্ধি করানো যে—তোকে এই দেশের কতটা প্রয়োজন। তুই তোর সিদ্ধান্ত পুনরায় ভেবে দেখবি বলে আমি আশা রাখি। আজ আর নয়, ভালো থাকিস। তোর পরিবারের সবাইকে আমার সালাম জানাস।
ইতি,
তোরই চিরসুহৃদ,
‘খ’