তুমি কি বিশ্বাসহন্তা – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি মানুষের অস্তিত্বের দ্বিধা, নৈতিক সংকট এবং নিয়তির এক নিদারুণ বৈপরীত্যের ছবি। কবি এখানে মানুষের মৌলিক চরিত্রের দ্বান্দ্বিকতা—‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বনাম ‘বিশ্বাস’—নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

কবিতাটিতে জীবনকে দেখা হয়েছে এক সংকটময় সংযোগস্থল হিসেবে। মানুষের পিছু তাড়া করছে ধ্বংসের প্রতীক ‘জাঁতা’ ও ‘আগুনচক্র’, যা সময়ের নিষ্ঠুর পেষণ ও যন্ত্রণার ইঙ্গিত দেয়। অথচ সম্মুখে হাতছানি দিচ্ছে ‘সোনার পতঙ্গ’ আর ‘ডানামেলা বাঁশি’র মতো মোহময় স্বপ্ন ও সৌন্দর্যের সম্ভাবনা। এই দুইয়ের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে ‘অশ্বত্থগাছ’—যা একদিকে যেমন আশ্রয়ের প্রতীক, অন্যদিকে তার নিচে ঝুলে থাকা ‘দড়ি আর ফাঁসি’ চূড়ান্ত পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেয়। স্বপ্ন আর ধ্বংসের এই যে সরু সুতোর পথ, সেখানেই মানুষের অবস্থান। এটি মূলত জীবনের এক অমোঘ ও নির্মম সত্যের কাব্যিক প্রকাশ।

তুমি কি বিশ্বাসহন্তা – জয় গোস্বামী

তুমি কি বিশ্বাসহন্তা? না, তুমি বিশ্বাসী?

তোমার পিছনে ঘুরছে জাঁতা ও আগুনচক্র
তোমার সম্মুখে উড়ছে সোনার পতঙ্গ আর ডানামেলা বাঁশি…

মাঝখানে অশ্বত্থগাছ। মাঝখানে দড়ি আর ফাঁসি।

Leave a Comment