তারাখণ্ড সমুদ্রে পড়েছে – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি মহাজাগতিক এক মহাপ্রলয়ের মুহূর্তকে স্থাণু করে রাখার এক অনন্য শিল্পকর্ম। একটি ‘তারাখণ্ড’ বা উল্কাপাতের মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংসের যে ক্ষণকাল, কবি তাকে ‘একপলক’ সময়ের ফ্রেমে বন্দী করেছেন। সেই শেষ মুহূর্তে আগুনের শিখা আর তীব্র আলোয় চরাচর ঝলসে ওঠার যে দৃশ্য, তা একাধারে সুন্দর এবং ভয়াবহ।

কবিতাটির গভীরতম ব্যঞ্জনা ফুটে উঠেছে শেষ চরণে। এই মহাজাগতিক ধ্বংসের স্মৃতি কেবল ইতিহাসের পাতায় নয়, বরং প্রকৃতির ডিএনএ-তে মিশে গেছে। তাই আজও সব পাখি যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তাদের অবচেতন মনে সেই আদিম ধ্বংসের দৃশ্যটি ‘স্বপ্ন’ হয়ে ফিরে আসে। এটি মূলত অস্তিত্বের বিনাশ আর অমোঘ নিয়তির এক পরাবাস্তব ও শাশ্বত আখ্যান।

তারাখণ্ড সমুদ্রে পড়েছে – জয় গোস্বামী

তারাখণ্ড সমুদ্রে পড়েছে
তার আগে আকাশে লম্বা আগুনের ল্যাজ–একপলক
তার আগে ঝলকে সাদা গাছপালা ভূখণ্ড পাহাড়–একপলক
উড়তে উড়তে ফ্রিজ করছে সরীসৃপ পাখি
পৃথিবী ধ্বংসের ঠিক একপলক দেরি
মৃত্যুর আগের স্বপ্নে এই দৃশ্য ফিরে আসে, সেই থেকে, সব পাখিদেরই

Leave a Comment