ছাদে জড়ভরত সন্তান – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি এক অবাস্তব ও হাড়হিম করা দৃশ্যকল্পের মাধ্যমে মানবিক যন্ত্রণা এবং অস্তিত্বের হাহাকারকে মূর্ত করেছে। ‘ছাদে জড়ভরত সন্তান’ এক স্থবির ও প্রাণহীন প্রজন্মের প্রতীক, যার তৃষ্ণা এতই আদিম যে তার গলা অলৌকিকভাবে দীর্ঘ হয়ে দূরের পুকুরে জল খুঁজতে যায়।

নিশুতি রাতের ‘কঙ্কাল ফেরিওয়ালা’ আর ‘মেঘের আলপথ’ কবিতাটিতে এক ভৌতিক ও পরাবাস্তব আবহ তৈরি করে। সবচেয়ে মর্মান্তিক মোচড়টি আসে কবিতার শেষে—যেখানে পুকুরে মুখ দিয়ে জল পান করতে গিয়ে কবি দেখেন, তা আসলে ‘রক্ত’। এই রক্ত মূলত ক্ষয়িষ্ণু সমাজ বা দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার নির্যাস। সন্তানতুল্য জড়ভরত প্রজন্মের সেই অতিপ্রাকৃত পিপাসায় কবির শামিল হওয়া এবং জলের বদলে রক্ত পান করা—এক চরম আত্মত্যাগ বা ধ্বংসোন্মুখ সময়ের সাথে একাত্ম হওয়ার এক বীভৎস অথচ করুণ আর্তি। এটি দহন আর তৃষ্ণার এক অনন্য কাব্যভাষ্য।

ছাদে জড়ভরত সন্তান – জয় গোস্বামী

ছাদে জড়ভরত সন্তান। তার গলা
লম্বা হয়ে জল খেতে যায়
দূরের পুকুরে

রাস্তায়, বাদাড়ে নিশি থেকে থেকে ডাকে

শেষরাত্রে, মেঘের আলপথে
একটি কঙ্কাল ফেরিওয়ালা
হেঁকে যায়: চাই, দই চাই…

ছাদে জড়ভরত সন্তান, তার
খটখটে তেষ্টায় সঙ্গ দিতে
পুকুরে মুখ দিয়ে আমি খাই–
জলের বদলে রক্ত–খাই…

Leave a Comment