জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক অপার্থিব ও পরাবাস্তব চিত্রকল্পের সমাহার। এখানে কবি পৌরাণিক বিশ্বাস এবং রূপকথাকে একসূত্রে গেঁথেছেন। আদিম কূর্ম বা কচ্ছপের পিঠ থেকে পৃথিবীর গড়িয়ে পড়া জীবনের এক মহাজাগতিক ওলটপালটকে নির্দেশ করে।
কবিতাটিতে স্থিরতা ও গতির এক চমৎকার দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে। কূর্মের মন্থর গতির বিপরীতে শশকের সচকিত লাফ এবং আকাশের বুকে ‘শ্বেতশুভ্র উল্কা’র ঝিলিক এক আকস্মিক ও তীব্র পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ঘুম ভেঙে যাওয়া শশকের এই প্রচেষ্টা যেন অস্তিত্ব রক্ষার এক আদিম আর্তি। অতি সাধারণ রূপক ব্যবহার করে কবি এখানে মহাবিশ্বের গূঢ় রহস্য আর নিয়তির এক বিদ্যুৎগতি সম্পন্ন মুহূর্তকে বন্দি করেছেন।
কূর্ম চলেছেন – জয় গোস্বামী
কূর্ম চলেছেন। তাঁর পিঠ থেকে হঠাৎ
পৃথিবী গড়িয়ে পড়ে যায়
শূন্যে সে-গোলক ধরতে, ঘুম ভেঙে, শশক লাফায়
আকাশ ঝকঝক করে ওঠে
শ্বেতশুভ্র একটি উল্কায়