কত বড় – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই কবিতাটি শিশুর কৌতূহলী চোখ দিয়ে বিশ্বকে দেখার এক চমৎকার রূপক। একটি ক্ষুদ্র ইঁদুর ছানা, যার জগত কেবল একটি অন্ধকার ‘দেরাজের কোণ’ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, তার মাধ্যমেই কবি বড় হয়ে ওঠার এবং জানার প্রক্রিয়াকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

প্রাথমিকভাবে অন্ধ ইঁদুর ছানাটি মনে করত তার মায়ের কোল আর ওই ধুলোমাখা কোণটুকুই তার সম্পূর্ণ জগত। কিন্তু যখন তার চোখ ফোটে এবং সে দেয়াল সদৃশ বিশাল কাঠের পাটাতনগুলো দেখে, তখন সে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়ে। তার সেই সরল প্রশ্ন— “ওরে বাবা! পৃথিবীটা এত বড় নাকি?”— আসলে আমাদের সবারই অন্তরের বিস্ময়। আমরা যখনই আমাদের ক্ষুদ্র গণ্ডি থেকে বেরিয়ে নতুনের দেখা পাই, তখনই জগতটা আমাদের কাছে নতুন মাত্রায় উন্মোচিত হয়। এটি কেবল একটি প্রাণীর গল্প নয়, বরং জ্ঞানের আলোয় আমাদের সংকীর্ণ জগত বড় হয়ে ওঠার এক চিরন্তন ছবি।

কত বড় – সুকুমার রায়

ছোট্ট সে একরতি ইঁদুরের ছানা,
ফোটে নাই চোখ তার, একেবারে কানা।
ভাঙা এক দেরাজের ঝুলমাখা কোণে
মার বুকে শুয়ে শুয়ে মার কথা শোনে।

যেই তার চোখ ফোটে সেই দেখে চেয়ে-
দেরাজের ভারি কাঠ চারিদিক ছেয়ে।
চেয়ে বলে মেলি তার গোল গোল আঁখি-
“ওরে বাবা! পৃথিবীটা এত বড় নাকি?”

Leave a Comment