এই শেষ পায়রা – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি শান্তির ভণ্ডামি এবং যান্ত্রিক নিষ্ঠুরতার এক চরম ও বীভৎস চিত্রকল্প। এখানে শান্তির প্রতীক ‘পায়রা’ আর ‘শান্তির পতাকা’ আজ কেবল নামমাত্র—যাকে নিষ্ঠুরভাবে বিদ্ধ করা হয়েছে ছুঁচালো লোহার দণ্ডে। সেই দণ্ড শিরদাঁড়া ভেদ করে ইলেকট্রোডের মতো স্নায়ুর গভীরে প্রবেশ করে, যা আসলে আধুনিক সভ্যতার যান্ত্রিক শোষণ ও অমানবিক নির্যাতনের এক পরাবাস্তব রূপক।

কবিতাটির অন্তিমে এক প্রগাঢ় শূন্যতা ও ধ্বংসের ছবি ফুটে ওঠে। সময়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম যখন ফিরে তাকায়, তারা কোনো জীবন্ত অস্তিত্ব পায় না। পায় কেবল এক ‘মনুষ্যমূর্তি’ আর তার কাঁধে বসা ‘পাখি’—যারা উভয়েই পুড়ে কয়লা বা ‘অঙ্গার’ হয়ে গেছে। এটি যুদ্ধের ভয়াবহতা আর শান্তির নামে চলা পাশবিকতার এক নিথর ও কালো দলিল, যেখানে মানবতা আজ ছাই ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই শেষ পায়রা – জয় গোস্বামী

এই শেষ পায়রা। এই শেষ

শান্তির পতাকা। ঘাড়ে পোঁতা। কিন্তু তার
ছুঁচালো লোহার দণ্ড ঘাড়ে ঢুকে থামে না–এগোয়।
খোঁজে শিরদাঁড়া–ইলেকট্রোড।
পায়। ছোঁয়। গর্ত করে
আর দিন চলে যায় শতলক্ষ বছরের পার

তারপর যারা আসে, তারা দেখে বসে আছে
একটু মনুষ্যমূর্তি, কাঁধে পাখি–
দুজনই অঙ্গার!

Leave a Comment