এই রোকো পৃথিবীর গাড়িটা থামাও – সলিল চৌধুরী

‘এই রোকো পৃথিবীর গাড়িটা থামাও’—এটি কেবল একটি কবিতা নয়, বরং যান্ত্রিক ও স্বার্থমগ্ন এই মহাবিশ্বের বিরুদ্ধে এক নিঃসঙ্গ আত্মার প্রতিবাদী ইশতেহার। কিংবদন্তি শিল্পী ও কবি সলিল চৌধুরী এই কবিতায় পৃথিবীকে কল্পনা করেছেন একটি গতিশীল যাত্রীবাহী গাড়িরূপে, যেখানে মানুষ এক অনিশ্চিত গন্তব্যের যাত্রী।

কবিতাটির মূল সুর বিষাদ এবং এক প্রবল বিরাগ (Alienation)। আধুনিক জীবনের জটিলতা, পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি এবং মানুষের অন্তহীন স্বার্থপরতার ভিড়ে কবি যখন নিজেকে পথহারা মনে করেন, তখনই তিনি এই চলমান সংসার-রথ থামানোর আরজি জানান। এখানে ‘টিকিট’ হলো জীবনের উদ্দেশ্য, আর ‘লাগেজ’ হলো মানুষের অপূর্ণ স্বপ্ন ও স্মৃতির বোঝা।

এই রোকো পৃথিবীর গাড়িটা থামাও – সলিল চৌধুরী

এই রোকো

পৃথিবীর গাড়িটা থামাও

আমি নেমে যাব

আমার টিকিট কাটা অনেক দূরে

এ গাড়ি যাবে না

আমি অন্য গাড়ি নেব

 

আমার স্বপ্ন ভরা লাগেজ নামাও

এই কুলি মহাকাল

কাঁধে তুলে নাও

নিজেরই বৃত্তে ঘুরে মরে না যে গ্রহ

সেই গ্রহ গাড়িটাতে তুলে দিয়ে যাও

 

ভাড়াটা বড্ড বেশী

এক হাজার মায়া

আর দুশো ভালোবাসা

খুচরো খরচ কিছু আশা প্রত্যাশা

এছড়া জলাঞ্জলি দিতে হলো ভাষা

তা হোক

তবু

আমি নেমে যাব

আমার টিকিট কাটা অনেক দূরে

এ গাড়ি যাবে না

আমি অন্য গাড়ি নেব

 

এই রোকো রোকো

পৃথিবীর গাড়িটা থামাও

Leave a Comment