অন্ধকার আকাশবাতি – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি এক রহস্যময় ও রূপকধর্মী পথচলার আখ্যান। এখানে জীবনপথ কেবল কঠিন মাটি নয়, বরং ‘জলে তৈরি সড়ক’, যেখানে প্রতি পদক্ষেপে ফাটল, খাদ আর ধসে পড়ার ভয় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ‘মাটির ওপর ফুটে বেরোনো দাঁত’ যেন এক হিংস্র ও প্রতিকূল বাস্তবের প্রতিচ্ছবি।

কবিতার মূল শক্তি লুকিয়ে আছে এর বৈপরীত্যে। যেখানে সাধারণ চোখে দেখা মানুষ হোঁচট খায়, সেখানে ‘অন্ধ’ ব্যক্তিটি জলের ওপর প্রতিফলিত ‘আকাশবাতি’ বা অন্তর্দৃষ্টির আলোয় নিজের রাস্তা চিনে নেয়। এই জীবনযুদ্ধে নিঃসঙ্গতা নয়, বরং ‘দুই সঙ্গী’র (যা হতে পারে বিবেক, প্রেম বা কোনো দৈব শক্তি) উপস্থিতি পথকে নিরাপদ করে। তারা যাত্রাপথের সব ‘কাঁটা, কামড় আর গরল’ বা বিষাক্ত কীট বিনাশ করে এক প্রকার অভয় দান করে। এটি মূলত প্রতিকূলতার মাঝে এক আধ্যাত্মিক বা মানসিক উত্তরণের কবিতা, যেখানে অন্ধত্বই হয়ে ওঠে প্রকৃত দেখার মাধ্যম।

অন্ধকার আকাশবাতি – জয় গোস্বামী

অন্ধকার আকাশবাতি
এই সড়কে নয়ন

ফাটল, খাদ, গর্ত–সব
ধসে পড়ার সুযোগ

পার ক’রে আর মাটির ওপর
ফুটে বেরোনো দাঁত

ব্যর্থ ক’রে, নিশিজাগর,
জলের নীচে শয়ন!

জলে তৈরী সড়ক, তাতে
আকাশবাতি ফেলে

রাস্তা দ্যাখে অন্ধ–পাশে
এক সন্ধ্যাকাশ

দুই সঙ্গী হাঁটে, তাদের
গমনপথ থেকে

কাঁটা, কামড়, গরল আদি
গুপ্তকীট নাশ!

 

Leave a Comment