সংখ্যাবাচক শব্দ | ভাষা ও শিক্ষা

সংখ্যাবাচক শব্দ | ভাষা ও শিক্ষা , সংখ্যা মানে গণনা বা গণনা দ্বারা লব্ধ ধারণা। সংখ্যা গণনার মূল একক ‘এক’। কাজেই সংখ্যাবাচক শব্দে এক বা একাধিক, প্রথম, প্রাথমিক ইত্যাদির ধারণা করতে পারি। যেমন : এক টাকা, দশ টাকা। এক টাকাকে এক এক করে দশ বার নিলে হয় দশ টাকা। সুতরাং ‘যে শব্দ দ্বারা সংখ্যা বুঝায়, তাহা গণনা বা সংখ্যাবাচক শব্দ।” যেমন : এক, দুই, তৃতীয়, চতুর্থ, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি ‘আমাদের সংখ্যা দশমিক পদ্ধতিতে গোনা হয়। এক থেকে দশ, এগার থেকে বিশ, একুশ থেকে ত্রিশ, একত্রিশ থেকে চল্লিশ এই দশের এক-একটি গুচ্ছে সংখ্যা গোনাই বাংলার রীতি। এগার থেকে নিরানব্বই পর্যন্ত দুই অঙ্কের সংখ্যাগুলো বলার সময় আমরা প্রথমে এককের সংখ্যাটি বলি, পরে দশকেরটি।

সংখ্যাবাচক শব্দ | ভাষা ও শিক্ষা

বত্রিশ, তেত্রিশ, চুয়াল্লিশ, আটানব্বই এইসব সংখ্যাই তার প্রমাণ। ১৯,২৯, ৩৯, ৪৯ প্রভৃতি সংখ্যা বলার সময় পরের সংখ্যার উন বা কম এইভাবে বলা হয়। ১৯ উনিশ (ঊনবিংশ), ২৯ (ঊনত্রিশ), ৩৯ (উনচল্লিশ), ৬৯ (উনসত্তর) ইত্যাদি। বিভিন্ন গণনার ক্ষেত্রে ব্যবহারের সময় কোনো কোনো সংখ্যাবাচক শব্দের রূপের কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। যেমন : দুই সংখ্যাটি যখন যৌগিক শব্দের প্রথমে বসে তখন তার রূপ কোথাও দুই (দুই জন), কোথাও দু বা দো (দুজন, দোটানা ) এ-রকম হয়ে থাকে। তিন সংখ্যাটি তি (তিরাশি), তে (তেত্রিশ), চার সংখ্যাটি চু (চুয়াত্তর), চার (চার শ), চৌ (চৌষট্টি) ইত্যাদি রূপ লাভ করে। ছয় কখনও ছ (ছ শ)-তে রূপ নেয়। নয় কখনও ন (ন শ) তে রূপ নেয়।

 

সংখ্যাবাচক শব্দ | ভাষা ও শিক্ষা

 

পাঁচ সাত- আট-এর রূপবদল নেই ৷ সংখ্যাবাচক শব্দ বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় প্রকার হতে পারে। দুয়ে দুয়ে চার। এখানে ‘দুয়ে দুয়ে’ বিশেষ্য। দুজন লোক। প্রথম বই। এসব বাক্যে ‘দুজন”, “প্রথম’ শব্দ বিশেষণ। পয়লা বৈশাখ— এখানে ‘পয়লা’ বিশেষণ। কিন্তু আজ মাসের পয়লা। এখানে পয়লা বিশেষ্য। সংখ্যাবাচক শব্দ যখন বিশেষণরূপে অন্য শব্দের আগে ব্যবহৃত হয় তখন তা অবিকৃত থাকে। যেমন : এক গরু। দুই গাধা। কিন্তু শব্দের পরে বসলে খানিকটা পরিবর্তিত হয়। যেমন : দিন দশেক, জনা পাঁচেক ইত্যাদি। ক্রমসংখ্যা বোঝাতে শব্দের শেষে কখনও কখনও ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তি চিহ্ন যুক্ত হয়। যেমন : একের পৃষ্ঠা, পাঁচের পাতা। সংস্কৃত ক্রমবাচক শব্দও বাংলায় ব্যবহৃত হয়।

 

সংখ্যাবাচক শব্দ | ভাষা ও শিক্ষা

 

যেমন : প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। ক্রমবাচক সংখ্যা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি লেখার বেলায় ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ ইত্যাদি রূপে প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু উচ্চারণ যথারীতি প্রথম, দ্বিতীয় ইত্যাদি করতে হয়। ক্রমবাচক শব্দে রূপ দেওয়ার জন্য ‘নম্বর’ কথাটি যুক্ত হয়। যেমন : এক নম্বর বাড়ি, তিন নম্বর পৃষ্ঠা ।

 

সংখ্যাবাচক শব্দ | ভাষা ও শিক্ষা

তারিখবাচক সংখ্যার মধ্যে বৈচিত্র্য আছে। এক থেকে চার পর্যন্ত তারিখের ক্রমবাচক সংখ্যা এরকম : পয়লা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা। পাঁচ থেকে আঠার পর্যন্ত তারিখবাচক সংখ্যা তৈরি করা হয় ‘ই’ যোগ করে। যেমন : পাঁচই, ছয়ই, দশই, আঠারোই। উনিশ থেকে একত্রিশ পর্যন্ত ক্রমবাচক তারিখ পাওয়া যায়— ‘এ’ যোগ করে। যেমন : উনিশে, বিশে, পঁচিশে, ত্রিশে, একত্রিশে।

আজকাল তারিখবাচক শব্দ লেখায় সংক্ষিপ্ত রূপই প্রচলিত হয়ে গেছে। যেমন : ১ বৈশাখ, ৩০ শ্রাবণ ইত্যাদি । অতীন্দ্র মজুমদার সংখ্যা শব্দগুলোকে ১. বিশুদ্ধ সংখ্যা শব্দ ও ২. ক্রমিক সংখ্যা শব্দ— এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন। তাঁর মতে বাংলা বিশুদ্ধ সংখ্যা শব্দের (১, ২, ৩, ৪ ইত্যাদি) অধিকাংশই তদ্ভব, কয়েকটি দেশি কিংবা বিদেশি শব্দ।৫ সংখ্যা শব্দগুলো সংস্কৃত উৎস থেকে প্রাকৃত, অপভ্রংশ, প্রাচীন বাংলা, মধ্যস্তরের বাংলার মাধ্যমে বিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলায় এসেছে।

 

আরও দেখুন:

মন্তব্য করুন