বাক্যের গঠন | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা

বাক্যের গঠন | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা , বাক্যের গঠন নির্ভর করে প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর। ১. শব্দের (পদের) রূপ ও পারস্পরিক সংগতি এবং ২. এই সংগতি অনুসারে পদসমূহের বিন্যাস। [এই দুটি বিষয়ই ‘সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য’ ও ‘বাক্যে পদ সংস্থাপন রীতি’র অন্তর্গত, যা ওপরে ও নিচে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে।

বাক্যের গঠন | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উদাহরণ উল্লেখ করা যাক : “কোনও সাহেব যদি বলে, ‘রাস্তায় করে যাবার সময় গাড়ি দিয়ে যেয়ো’ বুঝব সে বাঙালি নয়।” —ব্যাকরণগত নিয়ম পালিত হয়নি বলে উক্তিটি যথার্থ বাক্য হয়নি। বাক্য অনেকগুলো পদ নিয়ে গঠিত হয়। তবে পদের সংখ্যা যেমন কমও হতে পারে, তেমনি তা বেশিও হতে পারে। বাক্যের অর্থ প্রকাশের জন্যে যেসব পদের দরকার বাক্যে সেসব পদই ব্যবহৃত হয়। সেখানে বাহুল্যভাবে পদ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। বাক্যে পাঁচ প্রকার পদের সবগুলোই যে একই সঙ্গে অবস্থান করবে গঠন পূর্ণ হয় না।

 

বাক্যের গঠন | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা

 

এমনও নয়। তবে সব সার্থক বাক্যেই ক্রিয়াপদ থাকতে হবে। ক্রিয়াপদ ছাড়া সার্থকবাক্য গঠন এমনকী একটি মাত্র ক্রিয়াপদ দিয়েও বাক্য হতে পারে। যেমন : পড়। এখানে ‘পড়’ কথাটির মাধ্যমে উক্তির অর্থ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলা ভাষায় কখনও বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্যও থাকে। যেমন: সীমা ভাল। রুমা কালো। এখানে দুটি বাক্যেই ‘হয়’ ক্রিয়াপদ ঊহ্য রয়েছে বাক্যের অর্জনীয় বিষয় ও বাক্যের বিশুদ্ধতা নান্য একটি আদর্শ বাক্য গঠন করতে হলে বাক্যের গুণের দিকে যেমন লক্ষ রাখা প্রয়োজন, তেমনি ব বাক্যের বিশুদ্ধতার দিকেও লক্ষ রাখতে হবে। সার্থক বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে অর্জনীয় বিষয়গুলো হল : ১. দুর্বোধ্যতা পরিহার করতে হবে।

 

বাক্যের গঠন | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা

 

অপরিচিত বা দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহারে বাক্যের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয় এবং বাক্য তার যোগ্যতা হারায়। যেমন : তার কথা আমার ‘নিতরাং’ (সর্বদা) মনে পড়ে। বাংলায় নিতরাং সর্বদা, শব্দটি অপ্রচলিত এবং দুর্বোধ্য হওয়ায় তা গ ব্যবহার করার কোনো সার্থকতা নেই। এরকম— তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ (চাতুরী বা মায়া অর্থে) করেছ।

২. অলঙ্কার বাহুল্য বা অলঙ্কারহীনতা, অলঙ্কারের ভুল প্রয়োগ এবং উপমার ভুল প্রয়োগ যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। যেমন : ভুল প্রয়োগ : শোকসাগরে সে উড়ে বেড়ায়। ভুল প্রয়োগ : আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হল। সঠিক প্রয়োগ : শোকসাগরে সে নিমজ্জিত হয়। সঠিক প্রয়োগ : আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হল।

৩. বাগধারা পরিবর্তন কর করা যাবে না। যেমন : ‘অকালকুষ্মাণ্ড’ না বলে ‘অকালকুমড়া’ বলা যাবে না। ৪. সাধু-চলিতের মিশ্রণ বা গুরুচণ্ডালী দোষ থাকবে না। তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশি শব্দ বা হালকা শব্দের সঙ্গে ভারী শব্দ ব্যবহার করা অনুচিত। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।

‘শবদাহ’ ‘মড়াপোড়া’” ‘গরুর গাড়ি’ প্রভৃতির স্থলে ‘শবপোড়া’, মড়াদাহ’, ‘গরুরশকট’ প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।

৫. বাহুল্যদোষ যেন না থাকে। বাহুল্যদোষ বিভিন্নভাবে ঘটতে পারে। যেমন: → বহুবচনের দু বার ব্যবহার। → বিশেষণের অতিশায়নের বর্ণনা সমার্থক শব্দের ব্যবহার। উদাহরণ অশুদ্ধ এসব লোকগুলোকে আমি চিনি। শুদ্ধ এ লোকগুলোকে আমি চিনি। । এসব লোককে আমি চিনি অশুদ্ধ তুমি আমার কাছে আরও প্রিয়তর। তুমি আমার কাছে আরও প্রিয়।/ তুমি আমার কাছে প্রিয়তর।

 

বাক্যের গঠন | বাক্যতত্ত্ব | ভাষা ও শিক্ষা

 

আরও দেখুন:

মন্তব্য করুন