বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২১ যারা পাচ্ছেন

সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয়। ২০২১ সালের “বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার” ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১ সালে পুরস্কার পাচ্ছেন ১৫ জন। আজ ২৩ জানুয়ারি ২০২২ রোববার বাংলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হয়।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ১৯৬০ সালে প্রবর্তন করা হয়। এটি মূলত বাংলাদেশের জাতিয় পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বাৎসরিক সাহিত্য পুরস্কার। বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন শাখায় বছরে ৯ জনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হতো। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বছরে ২ জনকে এই পুরস্কার প্রদানের নিয়ম করা হয়। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে চারটি শাখায় পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। ১৯৮৫, ১৯৯৭ এবং ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ- এই তিনবার এই পুরস্কার দেওয়া হয়নি।

বাংলা একাডেমি Bangla Academy 4 বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২১ যারা পাচ্ছেন

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২১

এবার যাঁরা বিভিন্ন শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁরা হলেন:

কবিতা :

আসাদ মান্নান:

আসাদ মান্নান (জন্ম ৩ নভেম্বর ১৯৫৭) একজন বাংলাদেশি কবি এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক। আসাদ মান্নান ১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার সাতঘরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।

কবি আসাদ মান্নান
কবি আসাদ মান্নান

আসাদ মান্নান ১৯৮১ সালে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিভাগের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সচিব পদমর্যাদায় বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭০-এর দশক থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেন।

আসাদ মান্নানের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: সুন্দর দক্ষিণে থাকে, সূর্যাস্তের উল্টোদিকে, সৈয়দ বংশের ফুল, দ্বিতীয় জন্মের দিকে, ভালোবাসা আগুনের নদী, তোমার কীর্তন, যে-পারে পার নেই সে-পারে ফিরবে নদী, হে অন্ধ জলের রাজা, নির্বাচিত কবিতা, প্রেমের কবিতা।

বিমল গুহ

বিমল গুহ একজন বাংলাদেশী কবি ও লেখক। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে বাংলাদেশের কবিতায় যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন কবি বিমল গুহ তাদের অন্যতম। বিমল গুহ ১৯৫২ সালের ২৭ শে অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রসন্নকুমার গুহ এবং মাতা মানদাবালা। পিতামাতার চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

কবি বিমল গুহ
কবি বিমল গুহ

কথাসাহিত্য:

ঝর্ণা রহমান

ঝর্ণা রহমান একজন বাংলাদেশি গল্পকার, কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, সংগীতশিল্পী ও শিশুসাহিত্যিক। তিনি ১৯৮০-এর দশক থেকে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, নাটক, কবিতা, ছড়া, ভ্রমণ, শিশুসাহিত্য রচনা করে আসছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৬০টি। পেশাজীবনে তিনি বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ঝর্না রহমান
ঝর্না রহমান

 

বিশ্বজিৎ চৌধুরী

বিশ্বজিৎ চৌধুরী (জন্ম ১ আগস্ট ১৯৬০) একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০২১ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। বিশ্বজিৎ চৌধুরী ১৯৬০ সালের ১ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর শেষ করে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে তিনি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন।

বিশ্বজিৎ চৌধুরী
বিশ্বজিৎ চৌধুরী

১৯৮৬ সালে লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। তার প্রথম শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ ‘লিন্ডা জনসনের রাজহাঁস’ ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা ও নাটকসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখেছেন। তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে, বিবাহবার্ষিকী ও অন্যান্য গল্প (ছোটগল্প), সম্ভ্রমহানির আগে ও পরে (গল্পগ্রন্থ), মাঠের ওপারে যাবে, লীলা? (কাব্যগ্রন্থ), নার্গিস ও বাসন্তী (উপন্যাস), তোমার পুরুষ কোথায়? (উপন্যাস) প্রভৃতি।

প্রবন্ধ/গবেষণা:

হোসেনউদ্দীন হোসেন

জন্ম ১৯৪১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার কৃষ্ণনগর গ্রামে। বর্তমানে গ্রামে থাকেন এবং কৃষি পেশায় নিযুক্ত। কৃষ্ণনগর গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। তারপর ঝিকরগাছা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে। ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৯ সালে আই, এ পাশ করেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি কোনো আস্থা না থাকায় একাডেমিক শিক্ষা তিনি এখানেই শেষ করেন। প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে কলকাতার দৈনিক লোকসেবক পত্রিকায় ছোটদের বিভাগে। এরপর পর্যায়ক্রমে কলকাতা ও ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত তার গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হতে থাকে।

হোসেনউদ্দীন হোসেন
হোসেনউদ্দীন হোসেন

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : নষ্ট মানুষ, অমৃত বৈদেশিক, সাধুহাটির লোকজন, ইঁদুর ও মানুষেরা, প্লাবন এবং একজন নুহ, ভলতেয়ার ফ্লবেয়ার কলসত্ব ত্রয়ী উপন্যাস ও যুগমানস, ঐতিহ্য আধুনিকতা ও আহসান হাবীব, বাংলার বিদ্রোহ, সমাজ সাহিত্য দর্শন প্রবন্ধ, রণক্ষেত্রে সারাবেলা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, লোকলোকোত্তর গাঁথা কিংবদন্তি, বনভূমি ও অন্যান্য গল্প, অনন্য রবীন্দ্রনাথ। ১৯৬৫ সালে হিন্দুস্তান পাকিস্তান যুদ্ধে এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

অনুবাদ:

আমিনুর রহমান

আমিনুর রহমান একজন বাংলাদেশী কবি, অনুবাদক, শিল্প সমালোচক ও প্রবন্ধকার। অনুবাদে অবদান রাখার জন্য ২০২২ সালে তাকে “বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২১” প্রদান করা হয়। আমিনুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ থেকে এম-ফার্ম ডিগ্রী লাভ করেছেন। তার ছয়টি কবিতার সংকলন এবং তিনটি গল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। কবির কবিতা ইংরেজি, আরবী, স্পেনীয়, ইতালীয়, চীনা, মালয়, মঙ্গোলীয়, জার্মান, নেপালি, রুশ, উর্দু, ফরাসী, হিন্দী সহ ২৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

আমিনুর রহমান
আমিনুর রহমান

 

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী একজন বাংলাদেশি শিক্ষক এবং অনুবাদক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক। অনুবাদে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০২১ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলার সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নে হলেও শৈশব কাটিয়েছেন ঢাকার পুরানা পল্টনে। কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে তিনি স্প্যানীয় ভাষা ও সাহিত্যে স্পেনের গ্রানাদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে তুলনামূলক সাহিত্যে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী
রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

 

নাটক:

সাধনা আহমেদ

সাধনা আহমেদ একজন বাংলাদেশি কবি, নাট্যকার ও অভিনয়শিল্পী। নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০২১ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। সাধনা আহমেদ ১৯৭১ সালের ২৫ জুন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলায়ে থাকাকালীন তিনি আবৃত্তি দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছোটবেলায় নিজ শহরে খেলাঘর আসর নামক একটি সাংস্কৃতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি নিজ শহরে ‘স্পর্শ’ নামে একটি আবৃত্তি পরিষদ গঠন করেন। ঢাকায় থাকাকালীন ১৯৯০-এর দশকে ‘থিয়েটার আরামবাগের’ সাথে যুক্ত হয়ে মঞ্চাভিনয় শুরু করেন।

সাধনা আহমেদ, নাটক বিভাগ
সাধনা আহমেদ, নাটক বিভাগ

 

শিশুসাহিত্য:

রফিকুর রশীদ

রফিকুর রশীদ একজন বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক ও ছোট গল্পকার। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম কথাসাহিত্যক হিসেবে পরিচিত। তিনি অগ্রণী ব্যাংক শিশু একাডেমী শিশুসাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার সহ নানা পুরস্কার পেয়েছেন। রফিকুর রশীদ ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৫৭ মেহেরপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম গোলাম রসুল এবং মায়ের নাম রওশন আরা বেগম। তিনি গাংনী হাই স্কুল থেকে এসএসসি (১৯৭৩), মেহেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯৭৫) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (১৯৭৯) ও স্নাতকোত্তর (১৯৮০) ডিগ্রী লাভ করেন।

রফিকুর রশীদ
রফিকুর রশীদ

 

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা:

পান্না কায়সার

পান্না কায়সার বাংলাদেশের একজন ঔপন্যাসিক, গবেষক ও জাতীয় সংসদের সাবেক সাংসদ। পান্না কায়সার ২৫ মে ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার আরেক নাম সাইফুন্নাহার চৌধুরী। তার স্বামী শহীদুল্লা কায়সার একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক এবং রাজনীতিক ছিলেন। পান্না কায়সার ঢাকায় এসেছিলেন প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দেয়ার পরে নিজের মত করে জীবন গুছিয়ে নিতে। তিনি ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। শিক্ষক হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন মুনির চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর মত শিক্ষকদের।

পান্না কায়সার
পান্না কায়সার

১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে শহীদুল্লাহ কায়সার এর সাথে তার বিয়ে হয়। সেদিন ঢাকা শহরে কার্ফিউ ছিল। পুরো দেশ তখন গণআন্দোলনে উত্তাল। শহীদুল্লাহ কায়সার এর হাত ধরে তার পরিচয় আধুনিক সাহিত্যের সাথে, রাজনীতির সাথে। তার সংসার জীবন স্থায়ী হয় মাত্র দুই বছর দশ মাসের মত। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আলবদর বাহিনীর কজন সদস্য শহীদুল্লা কায়সারকে তার বাসা ২৯ বি কে গাঙ্গুলী লেন থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তিনি আর ফেরেন নি।

বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণা :

হারুন-অর-রশিদ

অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সিলেকশান গ্রেডের একজন অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি “বাংলাদেশ স্কাউটস, রোভার অঞ্চলের “সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

হারুন-অর-রশিদ, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণা
হারুন-অর-রশিদ, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণা

 

বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞান/পরিবেশবিজ্ঞান:

শুভাগত চৌধুরী

১৯৪৭ সালের ১১জানুয়ারি তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আকিলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন জমিদার। তাঁর পিতা শ্রী শৈলেন্দ্র চৌধুরী এবং তাঁর মাতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক ড. মঞ্জুশ্রী চৌধুরী যাঁর লেখা গদ্য ‘রূপসী বাংলা’ শিরোনামে সপ্তম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশিত ছিল। তাঁর অনুজ ভ্রাতা অধ্যাপক ডাঃ অরূপ রতন চৌধুরী একজন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান উপস্থাপক। তাঁর একমাত্র বোন ড. মধুশ্রী ভদ্র।

শৈশবে জন্মস্থানে শিশু শিক্ষা লাভের পর মায়ের তৎপরতায় ভর্তি হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তি নিকেতনের পাঠ ভবনে। কবিগুরুর জ্যেষ্ঠ পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর সে সময় শান্তি নিকেতনের উপাচার্য ছিলেন। তিনি সিলেট মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এবং কর্মসূত্রে তৎকালীন আইপিজিএমআর এ নিযুক্ত ছিলেন। তিনি লন্ডনের সেন্ট থমাস মেডিক্যাল স্কুলে গবেষক হিসেবে বৃত্তি লাভ করেন। অধ্যাপক চৌধুরী নিউইয়র্ক মেডিক্যাল এসোসিয়েশন এর নির্বাচিত ফেলো। তাঁর লেখা পঞ্চাশটির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য জার্নালে ছাপা হয়।

শুভাগত চৌধুরী
শুভাগত চৌধুরী

তিনি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান, বিশেষতঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানের চর্চা ও প্রসারে ড. আব্দুল্লাহ্ আল মুতী শরফুদ্দিন এর অনুপ্রেরণায় অনলস শ্রম দিয়ে গেছেন। ডেভিডসনের মেডিসিন পাঠ্য বই বাংলায় অনুবাদ করে তিনি ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর ৬৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি স্বাস্থ্য বিষয়ক কলাম লিখে ‘বদ্যিবুড়ো’ নামে খ্যাতি অর্জন করেছেন। দৈনিক প্রথম আলোয় তাঁর নিয়মিত স্বাস্থ্য বিষয়ক কলাম ‘অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর কলম থেকে’ প্রকাশিত হয়ে আসছে।

১৯৭৮ সালে তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘ চিকিৎসা বিজ্ঞানের আবিষ্কারের কাহিনী’ মুক্তধারা থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের দায়িত্ব পালন করে তিনি ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বারডেমের ল্যাবরেটরি বিজ্ঞান বিষয়ের পরিচালক ছিলেন।

তিনি সাহিত্য ও স্বাস্থ্য বিষয়ক রচনার পাশাপাশি প্রায় পঞ্চাশটি নাটকে অভিনয় করেন এবং বিশটি নাটকে নির্দেশনা প্রদান করেন। ‘প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের লীলাভূমি কানাডা’ নামে তাঁর একটি ভ্রমণ বিষয়ক গ্রন্থ আছে। তিনি চিকিৎসা বিষয়ে অবদানের জন্যে শেরে বাংলা পুরস্কারে ভূষিত হন।

আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণ কাহিনি:

সুফিয়া খাতুন

সুফিয়া খাতুন একজন বাংলাদেশি লেখিকা। ‘আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনি’ শ্রেণীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০২১ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। সুফিয়া খাতুন ১৯২২ সালের মে মাসে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে’ ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। ২০০৬ সালে শিশু-কিশোরদের জন্য রচনা করেন ‘সোনা ঝরা দিন’ নামে একটি গ্রন্থ। এছাড়াও ‘আপনভূবন’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তার দীর্ঘ প্রবাস জীবন নিয়ে লিখিত গ্রন্থের নাম ‘প্রবাসের প্রাপ্তি’ যা ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়। ২০১৮ সালে তার আরও একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় যার নাম ‘নারীর চোখে জল’।

হায়দার আকবর খান রনো

হায়দার আকবর খান রনো বাংলাদেশের বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ। বর্তমানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য। তিনি একাধারে তাত্ত্বিক, বুদ্ধিজীবী এবং বহু গ্রন্থের লেখক। তিনি বাংলা একাডেমির কাছ থেকে ২০২২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

হায়দার আকবর খান রনো
হায়দার আকবর খান রনো

হায়দার আকবর খান রনো ১৯৪২ সালের ৩১ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। রনোর পৈতৃক নিবাস নড়াইলের বরাশুলা গ্রামে। তার মা কানিজ ফাতেমা মোহসীনা বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা হাতেম আলী খান ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী। গণসংস্কৃতি ফ্রন্টের প্রয়াত সভাপতি হায়দার আনোয়ার খান ঝুনো তার অনুজ। প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ সৈয়দ নওশের আলী তার নানা।

ফোকলোর:

আমিনুর রহমান সুলতান

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি ২০২১-এর সদস্যদের সম্মতিতে বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার দেবেন।

আমিনুর রহমান সুলতান
আমিনুর রহমান সুলতান

আরও পড়ুন:

 

“বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২১ যারা পাচ্ছেন”-এ 2-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন