সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি তাঁর চিরচেনা হাস্যরস ও ‘ননসেন্স’ লজিকের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এখানে এক কাল্পনিক ‘অ্যাঁকা চোরা’ শহরের অদ্ভুত সব নিয়মের কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞ চিকিৎসকদের বা ‘বদ্যিদের’ আলুভাতে না খাওয়ার পেছনে কবি এক উদ্ভট বৈজ্ঞানিক কারণ দাঁড় করিয়েছেন।
কাগজে লেখা সেই আজব তত্ত্ব অনুযায়ী, আলু খেলে নাকি মগজের ঘিলু নষ্ট হয়ে যায় এবং বুদ্ধি গজায় না। অতি সাধারণ একটি খাদ্য নিয়ে এমন আজগুবি ও গুরুগম্ভীর আশঙ্কার কথা বলে কবি মূলত আমাদের সমাজের হুজুগ এবং অদ্ভুত সব কুসংস্কারকে সূক্ষ্মভাবে বিদ্রূপ করেছেন। যুক্তির চেয়ে এখানে অযৌক্তিক কল্পনাই প্রধান, যা পাঠককে এক নির্মল কৌতুক ও আনন্দ দেয়। এটি সুকুমারীয় ধারার এক নিটোল মজাদার পদ্য।
কহ ভাই কহ রে – সুকুমার রায়
কহ ভাই কহ রে, অ্যাঁকা চোরা শহরে,
বদ্যিরা কেন কেউ আলুভাতে খায় না?
লেখা আছে কাগজে আলু খেলে মগজে
ঘিলু যায় ভেস্তিয়ে বুদ্ধি গজায় না।