কর্তৃকারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

কর্তৃকারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা , বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। যেমন— – টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?— টুম্পা; ‘টুম্পা’ কর্তৃকারক। এরূপ— মীরা গান গায়। মিতা নাচে। কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক। অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে সে হয় কর্তা। কর্তৃকারক নির্ণয়ের জন্যে প্রশ্ন হচ্ছে ‘কে’? যেমন— শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে ‘শিক্ষক’ কর্তৃকারক। ৮. কর্তৃকারকের প্রকারভেদ কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকারের হয়ে থাকে।

কর্তৃকারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

যেমন— ১। মুখ্যকর্তা যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে মুখ্য কর্তা বলে। যেমন: রানা পড়ে। রহিম স্কুলে যায়, ইত্যাদি। ২। প্রযোজক কর্তা মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে। যেমন— শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। ৩। প্রযোজ্য কর্তা মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে। যেমন— মা ছেলেকে ভাত খাওয়াচ্ছেন। ৪। ব্যতিহার কর্তা কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একসঙ্গে এক জাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ব্যতিহার কর্তা বলে। যেমন— রাজায় রাজায় লড়াই।

 

কর্তৃকারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

 

 

বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়। ⇒ বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা তিন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন— ১। কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মপদের প্রাধান্যসূচক বাক্যে) : ‘পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে। ‘ ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্যে) : আমার যাওয়া হবে না।

কর্তৃকারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

৩। কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা (বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়) : বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভাল। কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগ প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি বৃষ্টি পড়ে। সাপুড়ে সাপ খেলায়। রাজা প্রজা পালন করে ইত্যাদি।- আমাকে যেতে হবে। তোমাকে বাড়ি যেতে হবে ইত্যাদি। দ্বিতীয়া বিভক্তি তৃতীয়া বিভক্তি তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না। পঞ্চমী বিভক্তি : আমা হতে এ কাজ হবে না : তোমার যাওয়া উচিত। ষষ্ঠী বিভক্তি সাধন । সপ্তমী বিভক্তি পাগলে কিনা বলে। বুলবুলিতে ধান খেয়েছে ইত্যাদি।

 

কর্তৃকারক কারক ও বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

 

আরও দেখুন:

মন্তব্য করুন