একজন শিক্ষার্থীর দিনলিপি (১) | নির্মিতি | ভাষা ও শিক্ষা

একজন শিক্ষার্থীর দিনলিপি (১) | নির্মিতি | ভাষা ও শিক্ষা ,

একজন শিক্ষার্থীর দিনলিপি (১)

৪.৪.২০১৫

প্রতিদিনের দিনলিপি লেখার শুরুতেই প্রথমেই আমার জীবন-ভাবনাগুলো দু-চার কথায় লিখে রাখি। আজ ৪ এপ্রিল। সময় সকাল সাতটা বিশ মিনিট। আমার জীবনে আরও একটি সম্ভাবনাময় দিনের সূত্রপাত হল। প্রতিটি দিনই আমার কাছে নতুন, সম্ভাবনাময় এবং জীবন গঠনের নতুন প্রত্যয়ে জেগে ওঠার আহ্বান ।

একজন শিক্ষার্থীর দিনলিপি (১)

ভোর ৫টা- সকাল ৭টা

আজ ঘুম থেকে ওঠেছি খুব ভোরে। তারপর হাতমুখ ধুয়ে অজু করে নামাজ পড়ে বাইরে বেরুই। এক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করি, সময় পেলে একটু ব্যায়ামও করি। তারপর বাসায় ফিরে নাস্তা শেষে পড়তে বসি।

সকাল ৭টা— সকাল ৮টা

সকালে লেখাপড়ার খুব একটা সময় আমি পাই না। তাই যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ তা একবার চোখ বুলিয়ে নিই। বিশেষভাবে বিজ্ঞানের বিষয়গুলো, ইংরেজি গ্রামারের কোনো সূত্র ভুলে গেলে তা বার-বার পড়ে মনে রাখার চেষ্টা করি। যে বিষয়গুলো বোঝতে পারিনি সেগুলো খাতায় টুকে রাখি, তারপর কলেজে গিয়ে সহপাঠীদের কাছে বোঝার চেষ্টা করি, প্রয়োজনে স্যারের সাহায্য নিয়ে থাকি। কলেজ ব্যাগ গুছিয়ে নিই ।

সকাল ৮টা— সকাল ৯টা

এক ঘণ্টার মধ্যে গোসল, খাওয়া-দাওয়া এবং কলেজের জন্য প্রস্তুত হওয়া বেশ কষ্টকর হয়ে যায়। বেশ তাড়াহুরো করতে হয়। অনেকসময় খাবার না খেয়েই কলেজে ছুটতে হয়। মাকে বলি পেটে খিদে নেই, কলেজ থেকে ফিরে এসে খাবো। মা বিষয়টি বুঝেও না বোঝার মতোই থাকেন। তবে সঙ্গে একটা কেক-বিস্কিট হাতে দিয়ে বলেন রিক্সায় যেতে যেতে খেয়ে নিস। রিক্সায় বসে খেতে আমার ভালো লাগে না। মায়ের দেয়া খাবার কলেজ-ব্যাগে পড়ে থেকে থেকে পুনরায় বাসায় ফিরে আসে। মা জানতে পারলে নিশ্চয়ই রাগ করবেন। আজকের খাবারটা এক পথশিশুকে দিয়ে দিয়েছি। সে খুব খুশি হলো। তার আনন্দ দেখে মনে হলো তাদের প্রতি আমাদের স্নেহশীল হওয়া কর্তব্য এবং যতটুকু পারা যায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

 

একজন শিক্ষার্থীর দিনলিপি (১)

 

সকাল ৯টা— দুপুর ২টা

এ সময়টা আমার কলেজেই কাটে। কখনো কখনো তা তিনটে কিংবা চারটায় গড়ায়। তা অবশ্য নির্ভর করে কলেজ রুটিনের ওপর। সচরাচর দু টার মধ্যে কলেজ ছুটি হয়ে যায়। আজ ছুটি হয়েছে আরও এক ঘণ্টা আগে। দ্বিতীয় ঘণ্টার পর কলেজ ছুটি ঘোষণা করেছে। কলেজ উন্নয়ন নিয়ে স্যারদের আজ বিশেষ মিটিং আছে।

দুপুর ২টা— বিকেল ৪টা

এ সময়টা সাধারণত কলেজে কাটে, না হয় বাসায় কাটে। কখনো কলেজ থেকে এক ঘণ্টা আগে ফিরতে পারলে সে-সময়টুকু গল্পের বই, কিংবা টেলিভিশনে কোনো মুভি দেখি। বন্ধুদের বাসায়ও যাই। আজ বাসায় ফিরে এসেই মায়ের সঙ্গে মার্কেটে যেতে হয়েছে। মা আমার জন্য সুন্দর একটা হাত ঘড়ি কিনলেন। আমি আনন্দে মাকে জড়িয়ে ধরলাম।

 

একজন শিক্ষার্থীর দিনলিপি (১)

 

বিকেল ৪টা— সন্ধ্যা ৬টা

এ সময়টা সাধারণত আমি বাগান করি কিংবা খেলতে যাই। আজকাল যদিও খেলার মাঠ বলতে কিছু নেই। খেলা বলতে এখন যা বোঝায় তা হলো- যন্ত্র নিয়ে খেলা। মোবাইল ফোনে কথা বলা অথবা ফেইস বুকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া অথবা কম্পিউটার নিয়ে বসা। আমার এর কোনোটার প্রতিই বিশেষ আগ্রহ নেই। প্রয়োজনে কম্পিউটার ব্যবহার করি।

সন্ধ্যা ৬টা— রাত ১১টা

একটানা দু ঘণ্টা পড়া শেষে হয় খবর দেখি না হয় টেলিভিশনে কোনো অনুষ্ঠান, বিশেষত নাটক দেখি। সে-সঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার কাজটাও শেষ করি। ঘুমুতে যাওয়ার আগে দিনলিপি লিখি। পরবর্তী দিনের কার্যক্রম ঠিক করে ঘুমুতে যাই । বিশেষ কোনো ঘটনা থাকলে তা লিখে নিই। তারপর ঘুম।

আরও দেখুন:

“একজন শিক্ষার্থীর দিনলিপি (১) | নির্মিতি | ভাষা ও শিক্ষা”-এ 3-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন