আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

আদালত ঘরে

Table of Contents

আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

 

আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

আদালত ঘরে গিয়ে এলিনরের অতীতের কথাই মনে পড়ছিল। সরকারী উকিলের বক্তব্য শেষপর্যন্ত শোনেনি সে। পুরোনো দিনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছিল মনে মনে।…সেই প্রথম..যেদিন ঐ অশুভ চিঠিটা পেল…তারপর পুলিশ অফিসার অনর্গল বলতে লাগলেন, আপনি এলিনর ক্যাথরীন কার্লিসল, গত ২৭শে জুলাই বিষপ্রয়োগে মেরী জেরার্ডকে হত্যা করা অপরাধে আপনাকে গ্রেপ্তার করার পরোয়ানা আমি এনেছি এবং আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি যে আপনি যা বলবেন তা লিখে রাখা হবে, এবং তা আপনার বিচারের সময় সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভয়ংকর গরম সীসার মতো কথাগুলো ওর কানে ঢুকছিল, আর হাজার চোখ অসম্ভব কৌতূহল নিয়ে যেন এলিনরের সমগ্র সত্তাকে গ্রাস করতে চাইছিল। এলিনরের মনে হল জুরীরাই একমাত্র ওর দিকে তাকাচ্ছেন না কারণ…একটু পরেই ওঁরা যা বলবেন সেটা জানেন বলেই ওর দিকে তাকাচ্ছেন না।

.

৩.১.২

সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ড. লর্ডকে এখন আর সদা হাস্যময়, নম্র, বন্ধুত্বপর্ণ মোটেই মনে হচ্ছে না। পুরোদস্তুর পেশাদার–নিরুত্তাপ, নিস্পৃহ গলায় একসুরে উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন টেলিফোন পেয়ে তিনি হন্টারবেরী পৌঁছানোর কয়েকমিনিট পর মেরী জেরার্ড মারা যায়। কৌড্রোইয়ান্তে শ্রেণির মরফিন বিষক্রিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলেই তিনি মনে করেন।

স্যার এডউইন বামার জেরা করতে শুরু করলেন ড. পিটার লর্ডকে।

মেরী জেরার্ডের প্রতি আসামীর ব্যবহার কেমন ছিল বলতে পারনে কি?

অত্যন্ত মধুর এবং স্বাভাবিক।

একটু তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে স্যার এডুইন বামার বললেন, ঈর্ষা মেশানো ঘৃণার কোন চিহ্ন আপনি দেখেননি, যে কথা অনেকক্ষণ ধরে শুনেছি এখানে।

ড. লর্ড বললেন, দেখিনি।

এলিনরের মনে হল ড. লর্ড ওর জন্যই মিথ্যে কথা বলছেন।

ড. লর্ডের পর পুলিশ সার্জেন এলেন কাঠগড়ায়। মরফিনের ক্রিয়া কিভাবে হয় তার খুঁটিনাটি বর্ণনা দিলেন।

.

৩.১.৩

পরদিন কোর্টে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ ড. অ্যালান গারসিয়া সাক্ষ্য দিতে এসে বোঝালেন মরফিয়ার এক গ্রেনেই মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে।

স্যার এডুইন জেরা করতে লাগলেন ড, অ্যালানকে। এমন কোন প্রমাণ দেখাতে পারেন কি যে মরফিয়া খাওয়া হয়েছিল বিশেষ কোন একটা খাদ্যের মাধ্যমে?

ড. অ্যালান বুঝতে না পারায় স্যার এডুইন জানতে চাইলেন যে, মরফিয়া কি মেরী মাছের পেস্ট বা রুটি বা মাখন বা চা বা দুধ কোন একটা কিছুর সঙ্গে খেয়েছিল?

ড. জানালেন, এমন কোন বিশেষ প্রমাণ নেই যা দিয়ে বলা যায় মাছের পেস্টেই বিষ ছিল বা অন্য কিছুর মাধ্যমে বিষ খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে, এমনকি মরফিয়ার ট্যাবলেট আলাদাভাবেও খেয়ে থাকতে পারে মেরী জেরার্ড। তবে যেভাবেই মরফিয়া খাওয়ানো হোক না কেন অন্যান্য খাবার ও চা খাওয়ার সময়েই মরফিয়া খাওয়ানো হয়েছিল এ বিষয়ে তিনি নিঃসন্দেহ।

.

৩.১.৪

এরপর শপথ নিলেন ইনসপেক্টর ব্রিল। অভ্যস্ত স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে তিনি জানালেন খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে আসামীর কাছ থেকে জানেন যে, খারাপ মাছের মণ্ডের জন্য মেরীর মৃত্যু হয়ে থাকতেও পারে। বাড়ি তল্লাসী করে ঝাঁঝরির মুখে ধুয়ে মুছে সাফ করা একটা মাছের টিনের কৌটো আর একটা অর্ধেক ভর্তি মাছের টিন আর টেবিলের পাশে বেসিনের নীচে মেঝের একটা ফলকে ছোট্ট একটা মরফিন ট্যাবলেটের শিশির গায়ের কাগজপত্র এবং কাগজের টুকরো ঘটনার দিন সকালেও এসে থাকতে পারে বলে তার ধারণা জানালেন।

.

৩.১.৫

সাক্ষীর কাঠগড়ায় নার্স হপকিন্সেকে দেখে এলিনরের মনে হল ইনসপেক্টর ব্রিলের তুলনায় নার্স হপকিন্স অনেকটা মানবিক, হৃদয়বতী।

জেরা শুরু করলেন স্যার এডুইন।

গত ২৮শে জুন আপনি কোথায় ছিলেন?

নার্স হপকিন্স যথাযথ উত্তর দিলেন এবং সঙ্গের অ্যাটাচিকেসে কি কি জিনিষ ছিল তার যথাযথ বর্ণনা দিলেন।

শিশিতে কি ছিল? প্রশ্ন করলেন স্যার এডুইন।

আধ গ্রেনের কুড়িটা মরফিন হাইড্রোক্লোরাইড ট্যাবটেল ছিল।

নার্স হপকিন্স আরো জানালেন ২৮ শে জুন সন্ধ্যেবেলা অ্যাটাচিকেসটা হলঘরে রাখার। পরদিন সকাল ৯টা নাগাদ তিনি ওটার খোঁজ করেন। মরফিনের শিশিটা হারিয়ে যাবার কথা একমাত্র নার্স ও’ব্রায়ানকেই তিনি বলেন।

আপনার কেসটা হলঘরে এমনভাবে ছিল যে যাতায়াত করার সময় যে কেউ ওটার নাগাল পেতে পারতো? জিজ্ঞেস করলেন স্যার এডুইন।

নার্স হপকিন্স সংক্ষেপে জানালেন, হ্যাঁ।

স্যার স্যামুয়েল মৃতা মেরী জেরার্ডের সম্বন্ধে জানতে চাইলে নার্স হপকিন্স জানালেন, মেরী খুব ভালো মেয়ে ছিল।

মৃত্যুর সময় এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল কি যাতে তার সুখ শান্তি বিঘ্নিত হতে পারতো বা ভবিষ্যৎ দুঃখময় হয়ে উঠতে পারত? মানে মেরীর পক্ষে আত্মহত্যা করার তেমন কোন কারণই কি ছিল না?

নিশ্চয়ই না।

এলিনরের মনে হল, সব জিনিষটাই সত্যি…নার্স হপকিন্স ওটা বিশ্বাস করেন, উনি দ্বিমত নন যে কাজটা আমি করেছি। তাছাড়া উনি যা বলেছেন তা বর্ণে বর্ণে সত্যি। আর সেই কারণেই ব্যাপারটা ভয়াবহ।

সাক্ষীকে মরফিন লেবেলের টুকরোটা একটা ছোট পিচবোর্ডের ওপর সেঁটে দেখান হল এবং সাক্ষী জানাল টুকরোটা তার হারিয়ে যাওয়া শিশিরই লেবেলের মতোই যদিও জোর দিয়ে বলা অসম্ভব।

.

৩.২.১

স্যার এডুইন বামার এবার নার্স হপকিন্সকে জেরা শুরু করলেন। অ্যাটাচিকেস শুধু মিস কার্লিসলের নাগালের মধ্যেই ছিল, না, কি যে-কোন চাকর, বা ড. লর্ড, বা মিঃ ওয়েলম্যান বা নার্স ও’ব্রায়ান যে কেউ পেতে পারতো বা মেরীর ব্যাগে যে মরফিরা আছে তা জানা মিস কার্লিসলের পক্ষে সম্ভব ছিল কিনা বা ড. লর্ড বা মেরী জেরার্ডের পক্ষে তা সম্ভব ছিল না ইত্যাদি।

এডুইন বামার প্রশ্ন করলেন, সকালে আপনি নার্স ও’ব্রায়ানকে বলেছিলেন যে মরফিয়ার শিশি হারিয়েছে?

হা।

কিন্তু আমি আপনাকে বলছি যে, আপনি আসলে যা বলেছিলেন তা হল: মরফিন আমি বাড়িতে ফেলে এসেছি, ওটার জন্য আবার বাড়ি ফিরতে হবে।

নার্স হপকিন্স জানালেন, শিশিটা খুঁজে না পেয়ে ওই ধরনের মন্তব্য তিনি করেছিলেন। আসলে ওষুধটা নিয়ে কি করেছেন সেটাই আপনার খেয়াল ছিল না।

না, মনে আছে ওটা কেসের মধ্যে ভরেছিলাম।

তাহলে ২৯শে জুন সকালে কেন আপনি বলেছিলেন ওটা বাড়িতে ফেলে এসেছেন?

কারণ মনে হয়েছিল আমি তাই করেছি।

যেদিন মেরী জেরার্ড মারা যায়, সেদিন ২৭শে জুলাই গোলাপ গাছের কাটায় আপনার খোঁচা লেগেছিল–এমন কথা কি আপনি বলেছিলেন?

নার্স হপকিন্স বললেন, হ্যাঁ।

একটু সময় নিয়ে স্যার এডুইন প্রশ্ন করলেন, আপনি এখনও জোর দিয়ে বলছেন যে ২৮শে জুন আপনি যখন হান্টারবেরীতে আসেন তখন আপনার অ্যাটচিকেসে মরফিনের শিশি ছিল?

হা ছিল।

ধরুন যদি এখন নার্স ও’ব্রায়ান কাঠগড়ায় গিয়ে বলেন যে, আপনি বলেছিলেন সম্ভবত ওটা বাড়িতে ফেলে এসেছেন?

ওটা আমার কেসের মধ্যেই ছিল, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

কৃত্রিম দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্যার এডুইন বললেন, মরফিয়ার শিশি খুঁজে না পেয়ে আপনার একটুও অস্বস্তি হয়নি?

না…অস্বস্তি…না তো?

ও, তাহলে আপনি কোন রকম উদ্বিগ্নও হননি, যদিও মরফিয়ার মত বিপজ্জনক ওষুধ অতোটা হারিয়ে গেছে?

আমি ভাবিইনি ওটা কেউ নিয়েছে।

বুঝেছি, ঠিক সেই মুহূর্তে আপনার মনে পড়েনি ওটা কোথায় রেখেছিলেন?

মোটেই না। অ্যাটাচির মধ্যেই ছিল।

কুড়িটা আধ গ্রেনের ট্যাবলেট, অর্থাৎ দশ গ্রেনের মত মরফিয়াতে অনেকগুলো মানুষ মারা যায় সে কথাটা ভেবে উদ্বিগ্ন হননি? আপনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া উচিত ছিল না কি? আইনের চোখে এই অসাবধানতা কিন্তু অপরাধ।

 

আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

একথা কি ঠিক যে ৬ই জুলাই বৃহস্পতিবার মেরী জেরার্ড উইল করেছিল?

নার্স হপকিন্স জানালেন, মেরী উইল করাটা যুক্তিযুক্ত মনে করেই করেছিল কোন মানসিক অবসাদ বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দুঃশ্চিন্তা থেকে নয়।

নার্স হপকিন্স জানালেন, এলিনর কার্লিসল মহানুভবতা দেখিয়ে দুহাজার পাউণ্ড দিয়েছিল।

বলুন তো, মেরী জেরার্ড আর মিঃ রডারিক ওয়েলম্যানকে নিয়ে কোন গুজব গ্রামে রটেছিল?

মেরীব প্রতি উনি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।

তার কোন প্রমাণ আছে আপনার কাছে?

না, শুধু জেনেছি, শুনেছি।

ওহ! শুধু জেনেছেন–শুনেছেন, তাই না, এতে কিন্তু জুরীরা খুব একটা বিশ্বাস করবেন বলে মনে হয় না। মনে পড়ছে কি, সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আপনি একবার বলেছেন রডারিকের ব্যাপারে মেরীর কোন সম্পর্কই ছিল না, কারণ এলিনর বাগদত্তা ছিলেন, এমনকি মেরী লণ্ডনেও রডারিককে ও কথা বলেছেন।

ওই কথা ও আমাকেও বলেছিল।

মেরী জেরার্ড যখন আপনার সঙ্গে উইলে কিভাবে কিলিখতে হবে তাই নিয়ে আলোচনা করছিল, তখন কি আসামী জানালা দিয়ে দেখেছিল?

হ্যাঁ, দেখেছিলেন।

কি বলেছিলেন উনি?

উনি বলেছিলেন, তাহলে মেরী তুমি তোমার উইল করছ। ভারী মজার ব্যাপার তো, এই বলে হাসতে লাগলেন। ঐ মুহূর্তে চিন্তাটা ওর মাথায় এসেছিল। মেরীকে সরিয়ে দেবার চিন্তা। এইসময়েই খুন করার কথাটা মাথায় ঢোকে।

জজ কড়া গলায় বললেন, শুধু প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখুন।

এলিনর ভাবতে লাগল…কি আশ্চর্য,…যখন কেউ সত্যি কথা বলছে…তখন এটা বাদ দেওয়া হচ্ছে।

.

৩.২.২

এবার কাঠগড়ায় এলেন নার্স ও’ব্রায়ান।

২৯শে জুন সকালবেলায় নার্স হপকিন্স কোন কথা আপনাকে বলেছিলেন?

হ্যাঁ, উনি বলেছিলেন ওঁর ব্যাগ থেকে মরফিনের শিশি হারিয়ে গেছে।

আপনি জানতেন কি অ্যাটাচিটা সারারাত হলঘরে ছিল?

হ্যাঁ।

মিসেস ওয়েলম্যানের মৃত্যুর সময় আসামী এবং মিঃ রডারিক ওয়েলম্যান দুজনে ঐ বাড়িতে ছিলেন–অর্থাৎ ২৮শে জুন থেকে ২৯শে জুন পর্যন্ত?

হ্যাঁ।

মিসেস ওয়েলম্যানের মৃত্যুর পরের দিন–২৯শে জুন তারিখের কোন ঘটনা আপনার জানা আছে কি?

আমি মিঃ রডারিক ওয়েলম্যানকে দেখেছিলাম মেরী জেরার্ডের সঙ্গে। উনি মেরীকে বলছিলেন তাকে ভালোবাসেন।

তখন কিন্তু আসামী ওঁর বাগদত্তা ছিলেন।

হা।

তারপর কি হল?

মেরী ওঁকে বলেছিল ঐ আচরণের জন্য লজ্জা পাওয়া উচিত, যেহেতু বিশেষ করে ওঁর সঙ্গে এলিনরের বিয়ের পাকা হয়ে আছে।

মেরীর প্রতি আসামীর মনোভাব সম্পর্কে আপনার কি ধারণা?

ঘৃণা করত, এমন করে তাকাত যেন ভস্ম করে দেবে।

স্যার এডুইন বললেন, একথা কি ঠিক নয় যে নার্স হপকিন্স বলেছিলেন তার ধারণা মরফিন উনি বাড়িতে ফেলে এসেছেন?–

হ্যাঁ, বলেছিলেন মানে দেখুন। ব্যাপারটা এইভাবে…পরে…।

তখন উনি ওটার সম্বন্ধে খুব একটা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন না?

না, কারণ তার মনে হয়েছিল, ওটা তিনি বাড়িতে ফেলে এসেছেন, উনি ভাবতে পারেননি কেউ ওটা নিয়েছে।

ঠিক তাই, মরফিয়ার প্রয়োগে মেরী জেরার্ড মারা যাবার পরেই ওঁর কল্পনাশক্তি কাজ করতে লাগল।

জজ বাধা দিলেন, স্যার এডুইন আমার মনে হয় আগের সাক্ষীকে আপনি এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছেন।

ধর্মবতারের মর্জি…বাও করলেন স্যার এডুইন, তারপর ঘুরে প্রশ্ন করলেন, মেরীর প্রতি আসামীর আচরণের কথা হচ্ছিল, আচ্ছা ওদের মধ্যে কখনও ঝগড়া হয়েছে?

না, ঝগড়া হয়নি।

মেয়েটির প্রতি এলিনর কার্লিসল সবসময় খুশি ছিলেন?

হা, ঐ দৃষ্টিতে উনি তাকে দেখতেন।

বেশ, বেশ, বেশ…কিন্তু ঐ ধরনের উত্তরে আমাদের কাজ হবে না। আপনি তো আয়রল্যাণ্ডের লোক, তাই না?

হা।

এবং আয়ারল্যাণ্ডের লোকেরা খুবই কল্পনাপ্রবণ হয়, তাই না?

নার্স ও’ব্রায়ান উত্তেজনায় চেঁচিয়ে উঠলেন, আমার প্রতি কথা সত্যি।

.

৩.২.৩

মুদিখানার মালিক মিঃ অ্যাবট কাঠগড়ায় এলেন। বেশ উত্তেজিত অনিশ্চয়তার ভাব (আবার একটু রোমাঞ্চিত নিজের মর্যাদা বৃদ্ধিতে), সংক্ষিপ্ত সাক্ষ্য দিলেন। তাকে জেরা করা হয়নি।

.

৩.৩.১

আসামীপক্ষের সওয়াল :

জুরী মহোদয়গণ, আপনাদের সমক্ষে আমার বলা অনুচিত হবে না, এবং আমি চাইলেও বলতে পারি আসামীর বিরুদ্ধে প্রকৃতপক্ষে কোন কেই নেই। অভিযোক্তারা বারবার একটি কথা বলেছেন, যে এলিনর কার্লিসল মরফিন সংগ্রহ করার পর (সেটা হাতিয়ে নেবার সুযোগ ঐ বাড়িতে উপস্থিত সকল ব্যক্তির পক্ষে সমান ছিল, এবং বিষটা যে বাড়িতেই ছিল এ সম্বন্ধেও সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়ে গেছে), মেরী জেরার্ডকে বিষ খাওয়াতে এগিয়ে গিয়েছিল। বাদীপক্ষ এখানে যে ঘটনার উপর সবিশেষ জোর দিয়েছেন তা হল সুযোগ। উদ্দেশ্য প্রমাণ করতেও তারা পারেননি। তার কারণ হল যে, কোন উদ্দেশ্য ছিল না। বিবাহের সম্পর্কে ভেঙ্গে যাবার বিষয়টিকে বাদীপক্ষ উদ্দেশ্য হিসাবে দেখাতে চেয়েছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন-বাগদান করার পর বিয়ে ভেঙে যাওয়াই যদি উদ্দেশ্য হয় তাহলে পৃথিবীতে শতশত খুন হত। আর এখানে এই বিবাহ সম্পর্কটি কোন চিত্তবৃত্তিঘটিত আবেগের অর্থাৎ প্রায় ভালোবাসার ব্যাপার নয়, সম্পূর্ণভাবে এক পরিবারিক বন্ধন। আমি প্রমাণ করতে চাই এই আকর্ষণটা এত গভীর ছিল না। (ওহ রডি…রডি…প্রেমের উত্তাপ নাকি তত তীব্র ছিল না। তাছাড়া, এই বিবাহ সম্পর্কে ছেদ টেনেছিল স্বয়ং আসামী। বৃদ্ধা মিসেস ওয়েলম্যানকে খুশি করাই ছিল এলিনর কার্লির্সল ও রডারিক ওয়েলম্যানের মধ্যে বাগদানের উদ্দেশ্য। উনি মারা যাবার পর এরা দুজনেই মনে করেছিল বিবাহিত হবার পক্ষে যতোটা আকর্ষণ থাকা দরকার তার তাদের মধ্যে নেই। অবশ্য তারা পরস্পরের কাছে পরম মিত্র হয়ে থাকবে। মাসির সম্পত্তি পাবার পর সহৃদয়া এলিনর কার্লির্সল বেশ মোটা টাকা দিতে মনস্থ করেছিলেন মেরী জেরার্ডকে, আর সেই মেয়েটিকেই কিনা খুন করার অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত। এর চেয়ে পরিহাসের আর কি হতে পারে।

 

আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

এলিনর কার্লিসলের বিরুদ্ধে একটিই অভিযোগ আর তা হল, যে পরিস্থিতিতে বিষপ্রায়োগের ঘটনাটা ঘটেছিল।

সরকারপক্ষের বক্তব্যের সারমর্ম এই :

এলিনর কার্লিসল ছাড়া আর কেউ মেরী জেরার্ডকে খুন করতে পারে না। অতএব সম্ভাব্য একটা উদ্দেশ্য তারা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমি আগেই আপনাদের বলেছি তারা কোন কারণ দেখাতে পারেননি, যেহেতু প্রকৃতপক্ষে খুন করার উদ্দেশ্যই এখানে নেই।

এখন দেখা যাক একথা কি সত্যি যে এলিনর কার্লিসলকে ছাড়া আর কেউ মেরী জেরার্ডকে খুন করতে পারে না? না, তা নয়। এলিনর যখন আউটহাউসে গিয়েছিল মেরীকে ডাকতে তখন কেউ এসে স্যাণ্ডউইচে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিল, একথাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাক্ষ্যপ্রমাণের মূল আইনে এ কথা বলা আছে যে, সাক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যদি অন্য কোন বিকল্প তত্ত্ব উপস্থাপিত করা যায় তবে আসামীকে রেহাই দেওয়া যায়। আমি আপনাদের দেখাতে চাইব আরও এক ব্যক্তি ছিল, মেরীকে বিষ দেবার সমান সুযোগ যার ছিল, এবং খুন করার উদ্দেশ্যও তার ক্ষেত্রে অনেক জোরালো, এ ব্যাপারে সাক্ষ্য উপস্থিত করব আমি। তবে তার আগে বলতে চাই যে, একমাত্র সুযোগ থাকা ছাড়া অন্য কোন প্রমাণ যেখানে অনুপস্থিত সেখানে শুধু ঐ একটা কারণ দেখিয়ে পৃথিবীর কোন জুরী এই মহিলাকে দোষী বললেন না। এবং সেই সঙ্গে এটাও যদি দেখান যেতে পারে যে অন্য কারুর সুযোগ ছিল এবং খুন করার উদ্দেশ্যটিও জোরদার। সরকার পক্ষের অন্ততঃ একজন সাক্ষী যে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিন তা প্রমাণ করার জন্য আমি একজন সাক্ষীকে ডাকবো। কিন্তু তার আগে আমি আসামীকে উপস্থিত করব, তারই মুখে তার কাহিনী শুনুন আপনারা, এবং আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি কত যুক্তিহীন।

.

৩.৩.২

স্যার এডুইন নম্রভাবে ও উৎসাহ দেবার মত করে বারবার শেখানো প্রশ্নগুলি করছিলেন।

রডারিক ওয়েলম্যানকে আপনার ভালো লাগত?

ভীষণ ভালো লাগত। ও আমার ভাই-এর মত ছিল-খুড়তুতো ভাই-এর মতো।…ওকে আমি সবসময় খুড়তুতো ভাইয়ের মতোই দেখতাম।

এর থেকে ধীরে ধীরে…বিয়ের কথা যখন উঠল-তখন বেশ ভালোই লেগেছিল, কারণ এমন একজনকে বিয়ে করতে যাচ্ছিলাম যাকে ছোটোবেলা থেকে চিনতুম।

হয়তো ঠিক তা নয়, মানে যাকে খুব একটা মাখামাখি ভালোবাসা বলে তাই না?

না না…আমার দুজন দুজনকে খুব ভালোভাবে চিনতুম।

মিসেস ওয়েলম্যান মারা যাবার পরে আপনাদের সম্পর্কে মধ্যে সামান্য চিড় ধরেছিল কি?

হ্যাঁ, ধরেছিল।

এর কারণ কি?

মনে হয় আংশিকভাবে টাকা-পয়সা।

টাকা-পয়সা?

হ্যাঁ, রডারিক অস্বস্তি বোধ করছিল। ওর ধারণা হয়েছিল লোকে বলবে ও আমাকে টাকা পয়সার জন্য বিয়ে করেছে।

তবে মেরী জেরার্ডের জন্য আপনাদের বিয়ের সম্পর্কটা ভাঙ্গেনি?

আমার মনে হয় রডি ওর দিকে একটু ঝুঁকেছিল, তবে সেটা খুব সিরিয়াস ব্যাপার নয়।

বাড়াবাড়ি হলে কি আপনি খুব ঘাবড়ে যেতেন?

নিশ্চয়ই না, আমি মনে করতাম ওদের ব্যাপারটা খুব খাপ খাচ্ছে না, ব্যস এইটুকুই।

এইবার বলুন, ২৮শে জুন আপনি নার্স হপকিন্সের অ্যাটাচি থেকে মরফিনের শিশি নিয়েছিলেন, না নেননি?

নিইনি।

আপনার কাছে কখনও মরফিন ছিল কি?

কখনও না।

আপনি কি জানেন আপনার মাসি আদৌ কোন উইল করেননি।

না, আমার খুব আশ্চর্য লেগেছিল।

আপনার কি মনে হয় ২৮শে জুন রাতে যখন উনি মারা যান, তার আগে উনি কি আপনাকে কোন কথা বলে যেতে চাইছিলেন?

আমি যা বুঝেছিলাম–মেরী জেরার্ডের জন্য কোন বন্দোবস্ত করেননি, এবং সেটাই করতে চাইছিলেন। এবং তাঁর ইচ্ছা পূরণ করার জন্য আপনি নিজের থেকে ঐ মেয়েটিকে কিছু টাকা দেবেন ঠিক করেছিলেন?

হ্যাঁ, আমি লরা মাসির ইচ্ছাটাকে পূরণ করতে চেয়েছিলাম। এবং মেরী আমার মাসিকে যেভাবে সেবাযত্ন করত তার জন্য আমি মেরীর কাছে কৃতজ্ঞ ছিলাম।

আপনি কি ২৬শে জুলাই লণ্ডন থকে মেডেনসফোর্ড এসে কিংস আর্মসে উঠেছিলেন?

হা।

কেন এসেছিলেন এখানে?

বাড়িটার একজন খদ্দের পেয়েছিলাম, উনি তাড়াতাড়ি দখল চাইছিলেন। আমি এসেছিলাম মাসির ব্যক্তিগত জিনিসপত্রগুলো বেছে নিয়ে যেতে, আর বাকী সব বন্দোবস্ত করে যেতে।

২৭শে জুলাই হান্টারবেরী হলে যাবার সময় পথে কিছু খাবার কিনেছিলেন নাকি?

হ্যাঁ, আমি ভেবেছিলাম আবার গ্রামে কেন ফিরে যাব। সবার জন্য ওখানেই পিকনিকের মত করে একটু খেয়ে নিলে মন্দ হয় না।

তারপর কি আপনি হান্টারবেরীতে গিয়ে জিনিসপত্র বাছাবাছি করছিলেন?

হা।

এবং তারপর কি করলেন?

অমি রান্নাঘরে এসে কিছু স্যাণ্ডউইচ কাটলাম তারপর আউটহাউসে গিয়ে জেলা নার্স আর মেরী জেরার্ডকে বাড়িতে ডাকলাম কিছু খাবার জন্য।

এটা কেন করলেন?

ওরা ঐ রোদে আবার গ্রামে যাবে, খেয়ে আবার ফিরবে, ওদের কষ্ট বাঁচাবার জন্য।

যে স্যাণ্ডউইচগুলো আপনি কেটেছিলেন ওগুলো কোথায় ছিল?

ভাড়ার ঘরে একটা প্লেটের ওপর।

জানালা কি খোলা ছিল?

হ্যাঁ।

আপনি যখন ছিলেন না, তখন যেকোন লোকের পক্ষে ভাড়ার ঘরে ঢোকা সম্ভব ছিল?

নিশ্চয়ই।

যদি কেউ বাইরে থেকে আপনাকে স্যাণ্ডউইচ কাটতে দেখে থাকে তবে তারা কি মনে করতে পারত?

তারা মনে করত আমি পিকনিক লাঞ্চ তৈরী করছি।

খাবারটা যে আপনি ভাগ করে খাবেন সে কথা কি তাদের পক্ষে জানা সম্ভব হত?

না, ওদের দুজনকে ডাকার কথাটা মাথায় যখন এল তখন দেখলাম প্লেটের ওপর অনেক স্যাণ্ডউইচ জমে গেছে।

তাহলে কেউ যদি আপনার অনুপস্থিতিতে ওখানে ঢুকে স্যাণ্ডউইচে বিষ মিশিয়ে দেয়, তবে তার মানে যে তারা আপনাকে বিষ দিতে চেয়েছিল?

আমার তো তাই মনে হয়।

যখন আপনারা তিনজনে বাড়িতে ফিরলেন, কি হল?

আমরা চা খাওয়ার ঘরে গেলাম, তারপর আমি স্যাণ্ডউইচ এনে ওদের দুজনকে দিলাম।

ওদের সঙ্গে আপনিও কি কিছু পান করেছিলেন?

আমি জল খেয়েছিলাম। টেবিলে বিয়ার ছিল, তবে নার্স আর মেরী চা খেতে চাইল। পাশের ঘরে গিয়ে তৈরী করে ট্রে সাজিয়ে নিয়ে এলেন নার্স হপকিন্স। মেরী চা ঢালল।

তারপর কি হল?

নার্স হপকিন্স গিয়ে গ্যাস বন্ধ করে এলেন।

তারপর?

কয়েক মিনিট পরে আমি ট্রে আর স্যাণ্ডউইচের প্লেটটা তুলে নিয়ে চলে গেলাম পাশের ঘরে। নার্স হপকিন্স ওখানে ছিলেন দুজনে মিলে ধুয়ে ফেললাম।

ওর কব্জির ছড়ে যাবার দাগ সম্বন্ধে কিছু বলেছিলেন কি আপনি?

আমি জানতে চেয়েছিলাম কি করে খোঁচা লাগল?

উনি বললেন, আউটহাউসের বাইরে একটা গোলাপ গাছের কাঁটা ঢুকে গেছে, এখুনি বের করে নেব।

সে সময় তার ভাবভঙ্গী কেমন ছিল?

আমার মনে হয় ওঁর খুব গরম লাগছিল, কারণ ঘাম দেখা যাচ্ছিল, মুখেরও রং অদ্ভুত।

তারপর?

আমরা ওপরে গেলাম, উনি আমাকে জিনিষপত্র গোছাতে সাহায্য করলেন।

কখন আবার আপনারা নীচে এলেন?

প্রায় একটা তো বটেই।

মেরী জেরার্ড কোথায় ছিল?

চা খাবার ঘরে বসেছিল। খুব জোরে শ্বাস নিচ্ছিল আর আচ্ছান্নের মত হয়েছিল, আমি ডাক্তারকে নার্সের কথামত ফোন করলাম। মেরী মারা যাবার একটু আগে ডাক্তার এসেছিলেন।

কাঁধ দুটো উঁচু করে এডুইল নাটকীয়ভাবে প্রশ্ন করলেন, মিস কার্লিসল, আপনি কি মেরী জেরার্ডকে খুন করেছেন?

না।

 

আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

৩.৩.৩

স্যার স্যামুয়েল অ্যাটেনবেরী এবার উঠলেন আসামীকে জেরা করতে। এলিনর বুঝলো এবার তাকে এমন কিছু প্রশ্ন তিনি করবেন যার উত্তর তাকে শেখানো যায়নি।

আপনি বলছেন যে, মিঃ রডারিক ওয়েলম্যানের সঙ্গে আপনার বিয়ের কথা পাকা, মোটামুটি স্থির ছিল?

হা।

আপনি তাকে পছন্দ করতেন?

খুব পছন্দ করতাম।

আমি বলছি, আপনি রডারিক ওয়েলম্যানকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং মেরী জেরার্ডকে ওয়েলম্যান ভালোবাসতে শুরু করেছিলেন বলে আপনি হিংসেতে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন?

না (কথাটা বলল একটু উম্মার সঙ্গে) ক্রুর ভঙ্গীতে স্যার স্যামুয়েল বললেন, আমি বলছি, রডারিক ওয়লম্যানকে ফিরে পাবার জন্য আপনি সুপরিকল্পিতভাবে মেরীকে পথ থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

একেবারেই নয়। (হতাশার সুর, একটু ক্লান্ত)। প্রশ্নের পর প্রশ্ন…স্বপ্নের মত..দুঃস্বপ্ন অবশ্যই…রাতের বিভীষিকা যেন…। প্রশ্নের বন্যা বইতে লাগল…তীক্ষ্ণভাবে বিদ্ধ করার মতো প্রশ্ন..কতকগুলো প্রশ্ন বিভ্রান্তিকর। নিজের ভূমিকা সম্পর্কে সদা সচেতন, ভুল করেও যেন বলে না ফেলে, হ্যাঁ, আমি ওর মৃত্যু কামনা করেছিলাম…হা স্যাণ্ডউইচ কাটার সময় আমি কেবলই ওর মৃত্যুর কথা চিন্তা করছিলাম…।

শান্ত থাকতে হবে, এবং যতটা সম্ভব সংক্ষেপে উত্তর দিতে হবে।

শান্ত, মোলায়েম গলায় স্যার এডুইন আরো গোটাকতক প্রশ্ন করলেন, জেরার ফলে তার সম্বন্ধে যে ভুল ধারাণার সৃষ্টি করানো হয়েছিল সেগুলোর সংশোধন করার জন্য। কাঠগড়া থেকে নেমে আবার আসামীর ডকে গিয়ে ঢুকল এলিনর, জুরীদের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল…এরপর।

.

৩.৩.৪

ঐ তো রডি..রডি পিটপিট করছে পুরো ব্যাপারটাই তার অপছন্দ হচ্ছে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। কেমন যেন অবাস্তব মনে হচ্ছে তাকে। গোটা দুনিয়াটা তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।…যেন আমি এলিনর কার্লিসল নই…আমি একজন আসামী। ওরা আমায় ফাঁসিই দিক, বা ছেড়েই দিক আগের মতো আর হবে না।…একটা কিছু যদি থাকত, একটা কিছু অবলম্বন করার মতো…।

আপনার প্রতি মিস কার্লিসলের মনোভাব কেমন ছিল?

বরং আমি বলব, ও আমাকে খুব চাইত, কিন্তু আত্মহারা

আপনাদের বিয়ের যে এনগেজমেন্ট ছিল, সেটা আপনার

ওহ, নিশ্চয়ই। আমাদের বহু বিষয়ে মিল ছিল।

মিঃ ওয়েলম্যান, দয়া করে জুরীদের বলুন কেন আপনাদের বিয়ে ভেঙ্গে গেল।

দেখুন, মিসেস ওয়েলম্যান মারা যাবার পর আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছিলাম। নিজের অবস্থা কপর্দকশূন্য, তাই বড়লোক মহিলাকে বিয়ে করাটা আমার খুব ভালো লাগছিল না। সত্যি কথা বলতে কি আমাদের এনগেজমেন্ট বাতিল করেছিলাম দুজনেই একমত হয়। এবং আমরা দুজনেই যেন মুক্তি পেয়েছিলাম।

মেরী জেরার্ডের সঙ্গে আপনার কিরকম সম্পর্ক ছিল?

ওকে আমার খুব সুন্দর লাগতো।

আপনি কি ওকে ভালোবাসতেন?

সামান্য একটু।

শেষ কবে ওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল আপনার?

দাঁড়ান ভেবে দেখি। ৫ই বা ৬ই জুলাই হবে।

ইস্পাতের শান গলায় নিয়ে স্যার এডুইন প্রশ্ন করেলন, আমার ধারণা তারপরেও মেরীর সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছিল।

না, আমি বাইরে চলে গিয়েছিলাম–ভেনিসে, ডালমেশিয়ায়।

কবে ইংল্যাণ্ডে ফিরলেন?

একটা টেলিগ্রাম পেয়ে দাঁড়ান বলছি..যতদূর মনে পড়ছে ১লা আগস্ট।

কিন্তু আসলে আপনি ২৭শে জুলাইতে ইংল্যাণ্ডে ছিলেন।

না।

দেখুন মিঃ ওয়েলম্যান আপনার পাশপোর্ট থেকে দেখা যাচ্ছে যে আপনি ২৫শে জুলাই ইংল্যাণ্ডে ফিরে আবার ২৭শে জুলাই চলে যান, কথাটা কি ঠিক নয়।

রডারিকের মুখ শুকিয়ে গেছে, কয়েক মিনিট চুপ করে থাকার পর টেনে টেনে বলল, হ্যাঁ, মানে কথাটা ঠিক।

২৫ তারিখে লণ্ডনে আপনি মেরী জেরার্ডের বাসায় ওর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন?

হা গিয়েছিলাম।

আপনি কি ওকে বিয়ে করার কথা বলেছিলেন, মেরী কি উত্তর দিয়েছিল?

হ্যাঁ, ও রাজী হয়নি।

আপনি কি জানতেন না যে, এলিনর কার্লিসল মারা গেলে তার সব সম্পত্তি আপনি পাবেন?

কথাটা এই প্রথন শুনছি।

২৭শে জুলাই সকালবেলায় আপনি কি মেডেনফোর্ডে ছিলেন?

ছিলাম না।

স্যার এডুইনের পর উঠলেন সরকারী উকিল–

আপনি বলছেন আপনার অনুমান যে আসামী আপনাকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন না।

কথাটা আমিই বলেছি।

মিঃ ওয়েলম্যান আপনি কি উদার হৃদয়সম্পন্ন প্রেমিক? যদি কোন মহিলা আপনাকে ভীষণ ভালোবাসেন অথচ আপনি তাকে ভালবাসেন না, তবে কি আপনার মনোভাব মহিলার কাছে গোপন রাখবেন?

নিশ্চয়ই না।

 

আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

৩.৩.৫

আপনি কি গোলাপ ফুলের চাষ করেন মিঃ আলফ্রেড ওয়ারগ্রেভ?

হ্যাঁ।

আপনি কি গত ২০ শে অক্টোবর মেডেনসফোর্ডে গিয়ে হান্টারবেরী হলের আউট হাউসে একটা গোলাপগাছ পরীক্ষা করেছিলেন?

হা।

ঐ গাছটার একটু বর্ণনা দেবেন?

গাছটা লতান গোলাপ, জেফিররাইন দ্রুহিন। মিষ্টি গন্ধওয়ালা গোলাপী ফুল হয়। কাটা হয় না।

.

৩.৩.৬

আপনার নাম জেমস আর্থার লিটলভেন। আপনি একজন পাশ করা কেমিস্ট; জেনকিন্স অ্যাণ্ড হেল কোম্পানীতে চাকরী করেন?

হ্যাঁ, করি।

দয়া করে বলবেন কি এই কাগজের টুকরোটা কিসের?

একজিবিটটা সাক্ষীকে দেওয়া হল।

আমাদের একটা ওষুধের লেবেলের টুকরো। হাইপোডারমিক ট্যাবলেটের শিশির গায়ে যে ধরনের লেবেল আমরা লাগাই।

যেটুকু টুকরো দেখছেন তা থেকে কি আপনার পক্ষে বলা সম্ভব, আপনাদের কোন ওষুধের লেবেল এটা?

হ্যাঁ, বিনা দ্বিধায় বলতে পারে এই লেবেলটা অ্যাপোমরফিন হাইড্রোক্লোরাইড ১/২০ গ্রেন-এর হাইপোডারমিক ট্যাবলেটের শিশির।

মরফিন হাইড্রোক্লোরাইডের নয় তো?

না, তা হতেই পারে না।

কেন নয়?

এধরনের শিশিতে মরফিন কথাটার এম অক্ষরটা বড় হাতের লেখা থাকে। এখানে মরফিনের এম অক্ষরটি দেখা যাচ্ছে ছোট হাতের লেখা। ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে দেখলে পরিষ্কার দেখা যাবে।

দয়া করে জুরীদের ওটা দেখতে দিন, ওঁরা ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে দেখবেন, আপনি যা বলছেন তার প্রমাণ হিসাবে ঐ ধরনের লেবেল সঙ্গে এনেছেন কি?

জুরীদের হাতে তুলে দেওয়া হল এই ধরনের লেবেল, আপনি বলেছেন এটা অ্যাপোমরফিন হাইড্রোক্লোরাইডের শিশির লেবেল? অ্যাপোমরফিন হাইড্রোক্লোরাইড জিনিষটা আসলে কি?

এর ফর্মুলা হল সি ১৭ এইচ ১৭ এন, ও ২, সীল করা শিশির মধ্যে হাইড্রোক্লোরাইড অ্যাসিডের মিশ্রণের দ্বারা মরফিনকে ঘীনভূত করে যে মরফিন তৈরী হয়, এটা তারই একটি বিশিষ্ট রূপ। মরফিন থেকে এক অণু জল শুকিয়ে যায়।

অ্যাপোমরফিনের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধর্মগুলি কি কি?

পরিচিত সবরকম ওষুধের মধ্যে অ্যাপোমরফিন হল দ্রুত শক্তিশালী বমি করাবার ওষুধ। দু-এক মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করে দেয়।

তাহলে কেউ যদি মরফিনের প্রাণঘাতী ডোজ খেয়ে থাকে এবং তার কয়েক মিনিটের মধ্যে এক ডোজ অ্যাপোমরফিন ইনজেকশন দেওয়া যায় তবে তার কি ফল হবে?

প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বমি হবে এবং মরফিন বমির সঙ্গে বেরিয়ে যাবে পেট থেকে।

অতএব যদি দুজন মানুষ একই স্যাণ্ডউইচ খেয়ে থাকে বা একই কেটলী থেকে চা খেয়ে থাকে, এবং তাদের একজনকে যদি অ্যাপোমরফিন ইনজেকশন দেওয়া হয়, তাহলে কি ফল হবে, ধরে নেওয়া যাক যে স্যাণ্ডউইচ বা চায়ে মরফিন মেশানো ছিল।

যাকে ঐ ইনজেকশন দেওয়া হবে তার পেট থেকে মরফিন সমেত যা খেয়েছে তা বমি হয়ে উঠে আসবে।

এবং তার বিশেষ কোন ক্ষতি হবে না?

না।

হঠাৎ আদালতে চাপা উত্তেজনা দেখা দিল। জজ সবাইকে শান্ত হবার জন্য হুকুম দিলেন।

.

৩.৩.৭

আপনার নাম আমেলিয়া মেরী সেডলি এবং আপনি ১৭ চার্লস স্ট্রীট, বুনাম্বা, অকল্যাণ্ডে থাকেন?

হা।

মিসেস ড্রোপার নামের কাউকে চেনেন?

হ্যাঁ, প্রায় কুড়ি বছর ধরে তাকে চিনি আমি।

তার বিয়ের আগের কুমারী নামটা জানেন কি?

হা, ওর বিয়েতে ছিলাম আমি, ওর নাম ছিল মেরী রাইলি?

তিনি কি নিউজিল্যাণ্ডের অধিবাসী?

না, ও ইংল্যাণ্ড থেকে এসেছিল।

এই মামলা শুরু হবার প্রথম দিন থেকে তো আপনি কোর্টে আসছেন?

হা।

এই মেরী রাইলি–বা ড্রেপারকে আপনি কোর্টে দেখেছেন?

হা।

কোথায় দেখেছেন তাকে?

সাক্ষীর কাঠগড়ায়।

কোন নামে?

জেসি হপকিন্স।

আর এ বিষয়ে আপনি নিঃসন্দেহ যে এই জেসি হপকিন্স হলেন সেই মহিলা যাকে আপনি মেরী রাইলি বা ড্রোপার নামে চেনেন?

আদৌ সন্দেহ নেই।

এর আগে শেষ কবে আপনি মেরী ড্রেপারকে দেখেছিলেন?

পাঁচ বছর আগে, যখন সে ইংল্যাণ্ডে ফিরে যায়।

মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানিয়ে স্যার এডুইন স্যার স্যামুয়েলকে বললেন, এবার উনি আপনার সাক্ষী।

স্যার স্যামুয়েল বিব্রত মুখে বলে উঠলেন, মিসেস সেডলি, আমি বলছি আপনি হয়তো ভুল করছেন।

আমার কোন ভুল হয়নি।

চেহারার মিল থাকায় আপনার ভুল হওয়া সম্ভব।

আমি মেরী ড্রেপারকে খুব ভালোভাবে চিনি। নার্স হপকিন্স একজন পাশ করা জেলা নার্স।

মেরী ড্রেপার বিয়ের আগে হাসপাতালের নার্স ছিল।

আপনি বুঝতে পারছেন কি যে একজন সরকারী সাক্ষীর বিরুদ্ধে মিথ্যে সাক্ষ্য দেবার অভিযোগ করছেন আপনি?

আমি যা বলছি, বুঝেসুঝেই বলছি।

.

৩.৩.৮

এডওয়ার্ড জন মার্শাল আপনি বেশ কয়েকবছর নিউজিল্যাণ্ডের থাকার পর সম্প্রতি ১৪নং রেন স্ট্রীট, ভেন্টফোর্ডে বাস করছেন?

হা।

আপনি মেরী ড্রেপারকে চেনেন কি?

নিউজিল্যাণ্ডে বহু বছর ধরে আমরা পরস্পরকে চিনতাম।

ওঁকে কি আজ আপনি আদালতে দেখেছেন?

দেখেছি। উনি নিজের নাম বললেন, জেসি হপকিন্স, অথচ উনি যে মিসেস ড্রেপার তাতে কোন সন্দেহ নেই।

জজ মাথা তুললেন, সুস্পষ্ট অথচ শান্ত গলায় বললেন, আমার মনে হয়, সাক্ষী জেসি হপকিন্সকে আবার ডাকাটাই ঠিক হবে।

কারুর মুখে কথা নেই, মৃদু গুঞ্জন…মাই লর্ড জেসি হপকিন্স কয়েক মিনিট আগে আদালত ছেড়ে চলে গেছেন।

 

আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

৩.৩.৯

কাঠগড়ায় উঠলেন এরকুল পোয়ারো।

মঁসিয়ে পোয়ারো এই কাগজটা আপনি চিনতে পারছেন?

নিশ্চয়ই।

কিভাবে এটা আপনার হাতে আসে?

জেলা নার্স মিসেস হপকিন্স আমাকে দিয়েছিলেন।

স্যার এডুইন বললেন, আপনার অনুমতি নিয়ে মাই লর্ড আমি এই কাগজটা জোরে জোরে পড়ব, তারপর জুরীদের দেব।

.

৩.৪.১

আসামী পক্ষের শেষ সওয়াল :

জুরী মহোদয়গণ, এবার দায়দায়িত্ব সব আপনাদের, এলিনর কার্লিসল মুক্তি পাবে কি পাবে না, সেটা আপনারই বলবেন। সব সাক্ষ্যপ্রমাণ শোনার পর যদি মনে করেন এলিনর কার্লিসল মেরী জেরার্ডকে বিষ দিয়েছিল, তবে তাকে আপনারা দোষী সাব্যস্ত করবেন।

কিন্তু যদি মনে করেন যে অন্য কারুর বিরুদ্ধে সমপরিমাণ প্রমাণ আছে, এবং সম্ভবত অনেক বেশী জোরদার প্রমাণ সেটা, তবে আদৌ দ্বিধা করবেন না মিস কার্লির্সলকে মুক্তি দিতে। এতদিন আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে গোড়ার দিকে ঘটনাটা যা মনে হয়েছিল এখন তা আর মনে হচ্ছে না।

গতকাল এরকুল পোয়ারার নাটকীয় সাক্ষ্যের পর আমি অন্য সাক্ষীদের ডেকে নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে সমর্থ হয়েছি যে এই মেয়েটি, মেরী জেরার্ড আসলে লরা ওয়েলম্যানের অবৈধ কন্যা। এবং কথাটা সত্যি বলে, স্বভাবতই অনুমান করা যেতে পারে, এবং মহামান্য জজসাহেব নিশ্চয়ই আমাদের সেইমত বলবেনও যে মিসেস ওয়েলম্যানের নিকটতম আত্মীয় তার বোনঝি এলিনর কার্লিসল নয়, বরং তার অবৈধ কন্যাসন্তান মেরী জেরার্ড। এবং মিসেস ওয়েলম্যানের মৃত্যুতে তার বিশাল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছিল মেরী জেরার্ড। জুরী মহোদয়গণ এটাই হল সমগ্র পরিস্থিতির সারমর্ম। প্রায় ২ লক্ষ পাউণ্ডের সম্পত্তির মালিক হয়েছিল মেরী জেরার্ড। কিন্তু একথা সে নিজে অবহিত ছিল না। এমনকি মিসেস হপকিন্সের পরিচয়ও সে জানতো না। আপনারা হয়তো মনে করতে পারেন যে মেরী রাইলি বা মিসেস ড্রেপারের যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত কারণ থেকে থাকতে পারে নিজের নাম হপকিন্স পাল্টে নেবার। যদি তাই হয়, তবে সেই কারণটা উনি জানালেন না কেন?

আমরা যেটুকু জেনেছি তা হল: নার্স হপকিন্সের প্ররোচনায় মেরী জেরার্ড উইল করে এবং তার যাবতীয় সম্পত্তি এলিজা রাইলিকে দিয়ে যায়। আমরা এও জানি যে, নিজের পেশার দিক দিয়ে মরফিন ও আপোমরফিন সহজেই পেতে পারেন এবং কোন ওষুধের কি গুণ সেটা তিনি ভালোভাবেই জানেন। তাছাড়া এটাও প্রমাণিত হয়েছে, যে নার্স হপকিন্স মিথ্যা সাক্ষ্যও দিয়েছেন, যখন তিনি বলেছেন কাটাহীন গোলাপ গাছের কাঁটাও তার কব্জিতে দাগ হয়েছে। ইনজেকশনের সঁচের দাগটার জন্য একটা অজুহাত দেখাতে গিয়ে তাড়াতাড়িতে ঐ মিথ্যে কথাটা বলে ফেলেছেন উনি। একথা মনে রাখবেন যে, শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেবার সময় আমার বলেছিলেন যে, নার্স হপকিন্স যখন ভাড়ার ঘরে বাসনপত্র ধোবার জন্য তার কাছে এসেছিলেন তখন নার্সকে করুণ, অসুস্থ লাগছিল–পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল একটু আগে যেন তিনি খুব অসুস্থ হয়েছিলেন।

আর একটা বিষয়ের উপর জোর দিতে চাই–যদি মিসেস ওয়েলম্যান আরও ২৪ ঘণ্টা বাঁচতেন তবে তিনি নিশ্চয়ই উইল করতেন এবং খুব সম্ভব মেরী জেরার্ডের জন্য উপযুক্ত বন্দোবস্ত করতেন। তবে প্রচুর সম্পত্তি নিশ্চয়ই দিতেন না, কারণ মিসেস ওয়েলম্যান নিশ্চয়ই চাইতেন যে তার পরিচয় না দেওয়া মেয়েটি নিজের জগতে নিজস্ব পরিচয় নিয়েই সুখে থাক।

অপর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমার কিছু বলার নেই, শুধু বলতে চাই যে ঐ অপর ব্যক্তিটিরও সমান সুযোগ ছিল এবং খুন করার উদ্দেশ্য আরও গভীর ছিল।

এই দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিচার করলে জুরী মহোদয়গণ, আপনাদের কাছে নিবেদন করছি যে মিস এলিনর কার্লিসলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে…।

.

৩.৪.২

জুরীদের মামলার বিষয় বোঝাতে গিয়ে মিঃ জাস্টিস বেডিংফিল্ড বললেন,…নিজেদের যুক্তি বিচারে আপনাদের নিঃসন্দেহ হতে হবে যে প্রকৃতপক্ষে এই আসামীই ২৭শে জুলাই তারিখে মেরী জেরার্ডকে বিপজ্জনক ডোজের মরফিয়া খাইয়ে দিয়েছিল। যদি সম্পূর্ণভাবে নিঃসন্দেহ না হন তবে আসামীকে মুক্তি দেবেন।

সরকারী পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে মেরী জেরার্ডকে বিষ দিতে পারার সুযোগ একমাত্র ছিল আসামীরই। আসামী পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়েছে বিকল্প প্রমাণ করার। মেরী জেরার্ডের আত্মহত্যার তত্ত্বও উপস্থাপিত হয়েছে, এবং এই তত্ত্বের সমর্থনে প্রমাণ হিসাবে বলা হয়েছে মারা যাবার অনতিকাল আগে মেরী জেরার্ড উইল করেছিল। তবে সে যে নিজের সম্বন্ধে বীতশ্রদ্ধ হয়েছিল, বা তার মনে কোন অশান্তি ছিল সে সম্বন্ধে আদৌ কোন প্রমাণ নেই। এটাও প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, এলিনর কার্লির্সল যখন আউট হাউস থেকে মেরীদের ডাকতে গিয়েছিল, সেই অবসরে ভাড়ার ঘরে ঢুকে স্যাণ্ডউইচে মরফিন মিশিয়ে দিয়েছে। তা যদি সত্য হয় তবে উদ্দেশ্য ছিল এলিনর কার্লির্সলকে খুন করা, ভুলবশতঃ মেরী জেরার্ড সেটা খেয়ে মারা গেছে। তৃতীয় বিকল্পটি হল এই যে, মরফিন মেশাবার সুযোগ আর একজনেরও ছিল, এবং সেটা মেশানো হয়েছিলো চায়ের সঙ্গে, স্যাণ্ডউইচে নয়। এই তত্ত্বের সমর্থনে আসামীপক্ষ থেকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা হয়েছে মিঃ লিটনডেনকে, তিনি শপথ গ্রহণ করে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে ভঁড়ার ঘরের মেঝেতে ফাটলে যে লেবেলের টুকরো পাওয়া গেছে সেটা মরফিনের, যা হল বমি করার জোরালো ওষুধ। দুধরনের লেবেলের নমুনা আপনাদের দেখানো হয়েছে। আমার মতে লেবেলের বাকী অংশটুকু খোঁজার চেষ্টা না করে এবং তাড়াতাড়ি ওটা যে মরফিনের লেবেল এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে পুলিশ মাত্রাতিরিক্ত অসাবধানতার দোষে দোষী।

সাক্ষী হপকিন্স বলেছে যে আউট হাউসের গোলাপ গাছের কাঁটা ফুটেছিল তার কব্জিতে। সাক্ষী ওয়াদ্রেভ গাছটাকে পরীক্ষা করে অভিমত দিয়েছেন ঐ ধরনের গাছে কাটা হয় না। আপনারাই সিদ্ধান্ত নেবেন নার্স হপকিন্সের কব্জিতে দাগ কেন হয়েছিল এবং কেনই বা সে মিথ্যা করা বলবে…

যদি সরকারী পক্ষ আপনাদের মনে বিশ্বাস জন্মাতে সক্ষম হয়ে থাকেন যে আসামী ছাড়া কারুর পক্ষে এই অপরাধ করা সম্ভব নয়, তবে আপনারা আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করবেন।

যদি আসামীপক্ষের উপস্থাপিত বিকল্প তত্ত্বটিকে আপনারা যুক্তিযুক্ত মনে করেন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের সঙ্গে তার সঙ্গতি খুঁজে পান, তবে আসামীকে রেহাই দিতে হবে।

আপনাদের যেসব প্রমাণ পেশ করা হয়েছে শুধু তারই ভিত্তিতে সাহস, ধৈর্য্যের এবং সুচিতার সাহায্যে আপনারা আপনাদের অভিমত দেবেন এটাই আমার অনুরোধ।

.

৩.৪.৩

এলিনরকে আবার আদালতে আনা হলো। জুরীরা যথাস্থানে সার বেঁধে বসলেন।

জুরী মহোদয়গণ, আপনারা আপনাদের সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে ঐক্যমত হয়েছেন কি?

হ্যাঁ।

কাঠগড়ার মধ্যে বসে থাকা আসামীকে দেখুন এবং বলুন যে সে অপরাধী না। নিরপরাধ।

নিরপরাধ।

.

৩.৫.১

পাশের দরজা দিয়ে এলিনরকে ওরা বারের করে আনল। যারা এগিয়ে এসে ওকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছিল তাদের মুখগুলো এলিনরের চেনা..রডি…বড় গোঁফওয়ালা ডিটেকটিভ পোয়ারো..

ও কিন্তু এগিয়ে গেল লর্ডের দিকে।

আমি এখান থেকে বেরোতে চাই…

মসৃণ গতিতে ডেমলার ছুটে চলেছে লণ্ডনকে পিছনে ফেলে, গাড়িতে ড. লর্ড আর এলিনর। ডাক্তার একটা কথাও তাকে বলেননি, আশীর্বাদের ধারার মতো এই নিঃশব্দের মধ্যে নিশ্চল হয়ে বসেছিল এলিনর। প্রতিমুহূর্তে এগিয়ে চলেছে…এক নতুন জীবনের দিকে, এটাই ও চাইছিল…এত নতুন জগৎ.হঠাৎ এলিনর বললো, আমি…আমি এমন একটা শান্ত জায়গায় যেতে চাই…যেখানে কোনো চেনামুখ থাকবে না… ।

ধীর গলায় ড. লর্ড বললেন, সব ঠিক করা আছে, আপনাকে একটা স্যাটেরিয়ামে নিয়ে যাচ্ছি। শান্ত জায়গা। সুন্দর বাগান। কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না…। দীর্ঘশ্বাস ফেলে এলিনর বললো, আমি ঠিক ওটাই চাইছি। ডাক্তার বলেই হয়তো ওর মনের ও শরীরের অবস্থা বুঝে এই বন্দোবস্ত করেছেন, মনে মনে খুশি হলো এলিনর। ক্রমশ এক নিরাপদ দূরত্বে চলে যাচ্ছে সে..ড. লর্ডের থাকায় অনেকটা স্বস্তি আছে যেন। লণ্ডনের শহরতলী পার হয়ে যাচ্ছে তারা। শেষপর্যন্ত কথা বললো এলিনর, সবটাই আপনার জন্যে..আপনার জন্যে। ড. লর্ড বললেন, পোয়ারোর জন্য। লোকটা যেন জাদু জানে। অবাধ্য মেয়ের মতো এলিনর মাথা নাড়ল, আপনার জন্য। ওঁকে আপনিই জোগাড় করে কাজ করিয়ে নিয়েছেন। পিটার লর্ড একটু হাসলেন, সেটা ঠিক যে ওঁকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে হয়েছে।

আপনি কি বিশ্বাস করতেন আমি করিনি, নাকি আপনার দ্বিধা ছিল?

পুরোপুরি বিশ্বাস কখনই করিনি।

এলিনর বললো, ঠিক এই জন্যেই প্রথম দিকে আমি প্রায় বলে ফেলতে যাচ্ছিলাম, আমি দোষী…কারণ জানেন, কথাটা কিন্তু আমি ভেবে ছিলাম…ঐ নার্সের বাড়ির সামনে যখন আমি হেসেছিলাম ঐ চিন্তাটা আমার মাথায় এসেছিল।

ড. লর্ড বললেন, হ্যাঁ আমি জানতাম।

আশ্চর্য হয়ে এলিনর বললো, এখন খুব অদ্ভুত লাগে…গোপন সম্পদের মত। সেদিন আমি মাহের মণ্ড কিনলাম। স্যাণ্ডউইচ তৈরী করছিলাম, তখন নিজের সঙ্গে ছলনা করে চলেছিলাম আমি…আমার মাথায় ঘুরছিলো একটা কথা : এর সঙ্গে আমি বিষ মিশিয়ে দিয়েছি, ও যখন এটা খাবে, মরবে…আর আমার রডিকে আমি ফিরে পাবো।

ড. লর্ড বললনে, এই ধরনের চিন্তা অনেকে করে। সেটা কিন্তু খুব খারাপ নয়। কল্পনার মধ্যে দিয়ে মনের ভার লাঘব করে নেওয়া যায়।

এলিনর বললো, হ্যাঁ, ঠিক তাই। কারণ তারপরই আমার মনের কালিমা মুছে গিয়েছিল। ঐ নার্সটা যখন আউট হাউসের গোলাপ গাছের কথা বললো, তখনই আমি আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলাম, মনের নীচতাবোধ মুহূর্তে উবে গেল। তারপর একটু কেঁপে উঠে বলো, পরে যখন আমি সকালের চা খাওয়ার ঘরে গিয়ে দেখলাম ও মারা যাচ্ছে, তখন আমার মনে হয়েছিল খুন করার চিন্তা করা আর সত্যি সত্যিই খুন করার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য আছে কি?

প্রচুর পার্থক্য আছে। খুন করার চিন্তা করলে কারুর কোন ক্ষতি হয় না। লোকে অবশ্য উল্টোপাল্টা নানা কথা বলে।…বলে খুনের চিন্তা করা আর খুন করা একই জিনিষ। আসলে তা নয়। অনেকক্ষণ ধরে খুন করার চিন্তা থাকলেও হঠাৎ মনোভাবে দ্রুত পরিবর্তনও আসতে পারে। মনে হয় এতক্ষণ কি যা তা ভাবছিলাম।

এলিনর কান্নার সুরে বললো, আপনি শুধু ভালো ভালো কথা বলে আশ্বাস দিচ্ছেন।

অসংলগ্ন ভাবে ড. লর্ড বললেন, আদৌ নয়…শুধু সাধারণ বুদ্ধি…হঠাৎ এলিনরের চোখ জলে ভরে উঠলো, আদালতে ঘুরে ফিরে বার বার আমি আপনাকে দেখেছি। মনে সাহস পেতাম। আপনাকে দেখতে…খুব সাধারণ লাগতো…।

জোরে হেসে উঠে আবার বললো, কথাটা খুব অভদ্রের মতো বললাম।

ড. লর্ড বললেন, আমি বুঝতে পারছি, মানুষ যখন কোন বিভীষিকার মধ্যে পড়ে তখন সাধারণ মানুষকেই সে চায় আশ্রয় হিসাবে। আরও কিছুক্ষণ চলার পর গাড়ি থামলো পাহাড়ের কোলে একটা সুন্দর ছোটো সাদা রঙের বাড়ির সামনে, ড. লর্ড বললেন, এখানে খুব নিরাপদে থাকবেন আপনি, কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না।

এক অজানা চাপা উচ্ছ্বাসে এলিনর হাত রাখলেন ড. লর্ডের হাতের ওপর, বললো, আপনি..আপনি আসবেন তত আমার সঙ্গে দেখা করতে?

নিশ্চয়ই।

প্রায়ই আসবেন তো?

আপনি যেমনটি চাইবেন, ড. লর্ড বললেন।

আসবেন নিশ্চয়ই…প্রায়ই আসবেন।

.

৩.৬.১

এরকুল পোয়ারো বললেন, তাহলে দেখছেন তো বন্ধু, মানুষ যে-সব মিথ্যে কথা বলে সেগুলো সত্যি কথার মতোই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে?

ড. লর্ড বললেন, সকলেই কি আপনার কাছে মিথ্যে কথা বলছে?

হ্যাঁ। কেননা কোন কারণে, বুঝতে পারছেন তো, যে মানুষটির কাছে সত্যি কথাটা বলা ছিল একটা গুরুদায়িত্ব এবং এ ব্যাপার যে ছিল স্পর্শকাতর আর খুঁতখুঁতে–সেই মানুষটি আমাকে খাইয়ে ছিল সবচেয়ে বেশি।

ড. লর্ড অস্ফুট স্বরে বললেন, এলিনর নিজে, তাই না?

ঠিক তাই। প্রমাণগুলো বলে দিচ্ছিল ওই দোষী। আর সে নিজেও তার স্পর্শকাতর মন আর অত্যন্ত খুঁতখুঁতে বিবেক নিয়ে ঐ অনুমানকে নস্যাৎ করার কোন চেষ্টাই করেনি। প্রকৃত কাজটা না করলেও, খুনের চিন্তা করেছিল এই অপরাধবোধেই সে তাই নিজেকে দোষী বলে স্বীকার করে নিতে চলেছিল, যে অপরাধ সে আদৌ করেনি। দীর্ঘশ্বাস চেপে ড. লর্ড বললেন, অবিশ্বাস্য।

পোয়ারো মাথা নাড়লেন, আদৌ নয়। সে নিজেকেই দোষী বলে মনে করেছিল, সাধারণ মানুষের চিন্তাশক্তির মাপকাঠি দিয়ে নয়, আরও উচ্চস্তরের মানবিকতার মাপকাঠি দিয়ে।

ড. লর্ড বললেন, হ্যাঁ, উনি ঐ ধরনেরই মহিলা।

এরকুল পোয়ারো বললেন, তদন্ত শুরু করার প্রথম থেকেই এলিনর কার্লিসলই যে অপরাধী তার নানা জোরালো প্রমাণ পাচ্ছিলাম। কিন্তু আপনার প্রতি আমার দায়িত্ব আমি পালন করেছি, আমি দেখলাম অন্য আরেক জনের বিরুদ্ধেও জোরালো কেস পাওয়া যাচ্ছে।

নার্স হপকিন্স?

না, প্রথমে তা ছিল না। আমার নজর প্রথমে পড়েছিল রডারিকওয়েলম্যানের ওপর। তার ব্যাপারেও অবশ্য আমাকে প্রথমে একটা মিথ্যে দিয়ে শুরু করতে হয়েছিল। ও আমাকে বলেছিল ৯ই জুলাই ইংল্যাণ্ড ছেড়ে যায়। ফেরে ১লা আগস্ট। কিন্তু কথায় কথায় নার্স হপকিন্স আমাকে বলেছিল যে মেরী জেরার্ড রডারিককে একবার মেডেনসফোর্ডে এবং আর একবার যখন ও মেরীর সঙ্গে লণ্ডনে দেখা করেছিল তখন রডারিককে বেশি ঘনিষ্ঠতা দেখানোর জন্য কড়া কথা শুনিয়েছিল। আপনি আমায় বলেছিলেন যে মেরী লণ্ডনে যায় ১০ জুলাই। অর্থাৎ রডারিক ইংল্যাণ্ড ছাড়ার একদিন পরে। তাহলে কবে লণ্ডনে মেরীর সঙ্গে রডারিকের দেখা হল? আমার যে সিঁধিলে চোর বন্ধু আছে,তার শরণাপন্ন হলাম, রডারিকের পাশপোর্ট দেখতে হবে। দেখা গেল যে, সে ইংল্যাণ্ডে ফিরে এসেছিল, ২৫ থেকে ২৭ শে জুলাই পর্যন্ত ছিল। এবং ইচ্ছাকৃতভাবেই মিথ্যে কথা বলেছে ও।

ভাঁড়ার ঘরে প্লেটে স্যাণ্ডউইচ রেখে এলিনর মেরীদের ডাকতে গেল আউট হাউসে–ঐ সময়টুকুর কথা আমার মনে ভীষণভাবে দাগ কেটেছিল। কিন্তু তাতে এই ধারণাও মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, যদি ঐ সময়ের মধ্যে বিষ মেশানো হয়ে থাকে তবে হত্যাকরীর লক্ষ্য ছিল এলিনর, মেরী জেরার্ড নয়। এলিনর কার্লিসলকে হত্যা করার কোন উদ্দেশ্য ছিল কি রডারিকের? হ্যাঁ, খুব সঙ্গত কারণ ছিল। এলিনর তার উইলে সব সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করেছিল রডারিক ওয়েলম্যানকে। এবং খুঁটিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম ঐ ব্যাপারটা জেনে ফেলার পুরো সুযোগ রডারিকের ছিল।

ড. লর্ড বললেন, তবে কেন আপনি ধরে নিলেন যে ও নিরপরাধ?

আর একটা মিথ্যা কথার জন্যে। খুব বোকার মতো একটা মিথ্যে কথার জন্যে, নার্স হপকিন্স বলেছিল গোলাপের কাটাতে তার কব্জি ছড়েছে। আমি নিজে গিয়ে গাছটা দেখলাম…ওতে কোন কাটাই ছিল না।…স্পষ্ট বোঝা গেল নার্স হপকিন্স মিথ্যে কথা বলছে। আর মিথ্যেটা এতই বাজে ভাবে ধরা পড়ে গেল যে ওর ওপর আমার সন্দেহ শুরু হয়ে গেল।

নার্স হপকিন্সকে নিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম আমি। তার আগে পর্যন্ত ওকে আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য সত্যবাদী সাক্ষী মনে হয়েছিল। মেরীর প্রতি ওর প্রচণ্ড স্নেহ-ভালোবাসার মধ্যেই যে ও এলিনরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছিল–এটাই আমার ধারণা হয়েছিল। কিন্তু ঐ মিথ্যে কথাটা ধরা পড়ার পর থেকে ওর প্রতিটি কথার বিচার করতে শুরু করলাম। এবং দেখলাম এমন কিছু একটা আছে যা আমার বিদ্যেবুদ্ধি ধরতে পারেনি। নার্স হপকিন্স মেরী জেরার্ড সম্বন্ধে এমন কিছু একটা জানে, এবং সেটা যাতে জানাজানি হয়ে যায় তার জন্যে সে সচেষ্ট।

চমকে গিয়ে ড. লর্ড বললেন, আমি তো উল্টোটাই ভেবেছিলাম।

বাইরে থেকে তাই মনে হবে। এমন অভিনয় করছিল যেন সে জানে কিন্তু কিছুতেই বলতে চাইছে না। কিন্তু ওর কথাগুলো বারবার চিন্তা করে দেখলাম যে কটা কথা ও উচ্চারণ করেছে বা বলেছে ওর উদ্দেশ্য ছিল তার উল্টোটা বলার, প্রকাশ করার। নার্স ও’ব্রায়ানের সঙ্গে কথা বলার পর আমার সন্দেহ পাকা হল, হপকিন্স খুব চালাকি করে ও’ব্রায়ানকে না জানিয়ে কাজটা হাসিল করে নিল।

তখন ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো যে নার্স হপকিন্স নিজের চাল চেলে যাচ্ছে। রডারিক আর হপকিন্স, দুজনের মিথ্যে কথাগুলো ওজন করতে শুরু করলাম। এর সরল ব্যাখ্যা দুজনের মধ্যে কে দেবে?

 

আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

রডারিক-এর ব্যাপারে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর পেয়ে গেলাম : বড্ড অভিমানী ভদ্রলোক, ও যে তার প্ল্যানমাফিক বিদেশে সবটা সময়ে কাটায়নি, চুপিসাড়ে এসে মেরীর সঙ্গে দেখা করেছে। হৃদয়ের টানে, এবং কোনরকম প্রশ্রয় পায়নি, এতে তার ব্যক্তিসত্তা অপমানিত হয়েছে তাই ও প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি, বলেছিল একেবারে ১লা আগষ্ট ইংল্যাণ্ডে ফিরেছে। তাছাড়া খুন হবার সময় ঘটনাস্থলের ধারে-কাছে ছিল না রডারিক। খুনের কথা কিছু জানতোও না, তাই নিজের দুর্বলতার দিকটাও ঢাকবার জন্যে বেমালুম মিথ্যে বললে।

তারপর আসা যাক নার্স হপকিন্সের কথায়। ওর মিথ্যে কথার সরল ব্যাখ্যা কি হতে পারে? যতো ভাবতে লাগলাম, ততই জটিল হয়ে উঠল ব্যাপারটা, কব্জিতে ক্ষতচিহ্নের জন্যে অমন একটা বাজে মিথ্যে কথা বলার কি দরকার তার? ঐ দাগটার বিশেষত্ব কি?

আমি নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলাম। চুরি হওয়া মরফিনটা কার ছিল? নার্স হপকিন্সের। মিসেস ওয়েলম্যানকে মরফিন কে দিয়ে থাকতে পারে? নার্স হপকিন্স, বেশ, কিন্তু ওটা পাওয়া যাচ্ছে না এ বিষয়ে সোরগোল তুলল কেন? এর একটাই উত্তর, যদি নার্স হপকিন্স নিজেই অপরাধী হয় তবে, কারণ অপর খুনটা, অর্থাৎ মেরী জেরার্ডের খুনের ব্যাপারটা পরিকল্পনা আগেই হয়ে গেছে, কাকে শিখণ্ডী করা হবে তাও ঠিক হয়ে গেছে। অতএব দেখতে হবে ঐ শিখণ্ডীর পক্ষে মরফিন জোগাড় করা কতটা সম্ভব।

আরও একটা ঘটনা খাপ খেয়ে গেল, এলিনরকে লেখা বেনামী চিঠি। এলিনর ও মেরীর মধ্যে সম্পর্কে চিড় ধরানো। উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার-এলিনর চলে আসবে এবং মিসেস ওয়েলম্যানের ওপর তার প্রভাব কমাবার চেষ্টা করবে। কিন্তু রডারিক ওয়েলম্যান যে পাগলের মত মেরীর প্রেমে পড়ে যাবে, একথা স্বপ্নেও ভাবা যায়নি–কিন্তু ঘটনাটাকে খুব সহজ কাজে লাগিয়ে নিলে নার্স হপকিন্স। এতে অভিসন্ধির ব্যাপারে এলিনরকে শিখণ্ডী করার কাজটা আরও সহজ হয়ে উঠল।

কিন্তু দুটো খুনের কারণ কি? মেরী জেরার্ডকে সরিয়ে ফেলার কথা নার্স হপকিন্স কেন চিন্তা করল? আশার আলো দেখতে পেলাম…তবে তখনও আলোটা খুব ক্ষীণ। মেরীর ওপর নার্স হপকিন্সের প্রচণ্ড প্রভাব ছিল, এবং সেই প্রভাব খাঁটিয়ে মেরীকে দিয়ে ও একটা উইলও করিয়ে নিল। কিন্তু তাতে তো নার্স হপকিন্সের কোন লাভ হচ্ছে না? লাভ হচ্ছিল মেরীর এক মাসির, যে নিউজিল্যাণ্ড থাকে, তখন হঠাৎ মনে পড়ে গেল গ্রামেই কে একজন বলেছিল মেরীর ঐ মাসিও ছিলেন হাসপাতালের নার্স।

তখন আর আলোটা অত ক্ষীণ নয়। অপরাধের পরিকল্পনা…পদ্ধতি ক্রমশঃ সুস্পষ্ট হয়ে উঠতে লাগল। পরের ধাপটাও খুব সোজা, নার্স হপকিন্সের সঙ্গে আর একবার দেখা করলাম। নাটকের অভিনয় দুজন ভালোভাবেই করলাম। শেষপর্যন্ত যে কথাটা ও বারবার বলতে চাইছিল সে কথাটাই যেন ওকে দিয়ে জোর করে আমি বলিয়ে নিচ্ছি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করল। তবে যখন বললে ওর পক্ষে সবচেয়ে ভালো হত, তার চেয়ে একটু আগেই বলে ফেলতে হল কিন্তু এমন সুযোগ সে হাতছাড়া করতে চাইল না। ফলে প্রচণ্ড অনিচ্ছার ভান করে ঐ চিঠিটা বের করে দিল। বুঝলে বন্ধু তখন আমি আর অনুমানের জগতে রইলাম না। আমি জেনে গেলাম সবকিছু। চিঠিটাই ওকে ধরিয়ে দিল।

ড. লর্ড বললেন কিভাবে?

বন্ধু হে, চিঠির খামের ওপরে লেখা ছিল মেরীকে পাঠাতে হবে আমার মৃত্যুর পর, কিন্তু চিঠির সারমর্ম থেকে জানা যায় মেরী জেরার্ড সত্যি কথাটা জানতো না। তাছাড়া খামের ওপর পাঠাতে হবে (দিতে হবে না) কথাটা অনেক সংকেত বহন করে আনল। চিঠিটা মেরীকে লেখা হয়নি, হয়েছিল অপর একজন মেরীকে। এলিজা রাইলি চিঠি লিখেছিলেন তার বোন মেরী রাইলিকে, যে নিউজিল্যাণ্ডে থাকত।

মেরী জেরার্ডের মৃত্যুর পর নার্স হপকিন্স চিঠিটা আউট হাউস থেকে পায়নি। পেয়েছিল বহু আগে, যখন সে নিউজিল্যাণ্ডে থাকত, ও চিঠিটা ওকে পাঠান হয়েছিল নিউজিল্যাণ্ডে, দিদির মৃত্যুর পর।

মনের চোখ দিয়ে কোন কিছু একবার দেখে নিতে পারলে পরের কাজটা সহজ হয়ে যায়। এরোপ্লেনে সহজে আসা যায় বলে একজন সাক্ষীর পক্ষে সম্ভব হল নিউজিল্যাণ্ড থেকে এসে আদালতে হাজির হওয়া। সে নিউজিল্যাণ্ডে মেরী ড্রেপারকে ভালো ভাবে চিনত।

ড. লর্ড বললেন, ধরুন যদি আপনি ভুল করতেন, নার্স হপকিন্স আর মেরী ড্রেপার যদি সম্পূর্ণ আলাদা দুজন লোক হতো?

পোয়ারো বললেন, আমি কখনও ভুল করি না।

ড. লর্ড হেসে উঠলেন, পোয়ারো বলতে লাগলেন, এখন আমরা এই মহিলা মেরী রাইলি বা ড্রেপার সম্বন্ধে অনেক খবর পেয়েছি। নিউজল্যাণ্ডের পুলিশ ওর বিরুদ্ধে যথেষ্ট সাক্ষীসাবুদ যোগাড় করতে পারেনি, তখন নজর রেখে চলেছিল, তারপর হঠাৎ একদিন মহিলা উধাও হয়ে গেল দেশ ছেড়ে। ওখানে ওর এক বুড়ি রোগী ছিল, যিনি স্নেহের নার্স রাইলিকে মোটামুটি ভালোই সম্পত্তি দিয়ে গিয়েছিলেন। যার মারা যাবার ব্যাপারটা বেশ রহস্যময়। ডাক্তারও খুব আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন। মেরী ড্রেপারের স্বামীও ওর নামে মোটা টাকার বীমা করেছিলেন, স্বামীও হঠাৎ মারা যান এবং তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। দুর্ভাগ্যবশতঃ, স্বামী প্রথম প্রিমিয়ামের চেকটা লিখে রেখেছিলেন, পোস্ট করতে ভুলে গিয়েছিলেন। অন্য মৃত্যুগুলো তার নিজের এক্তিয়ারের মধ্যেই ঘটেছিল। মহিলার কোন অনুশোচনা বা বিবেক বলে কিছু ছিল না।

একথা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে যে চিঠির বিষয়টাকে নিজের কাজে লাগাবার মতো ধূর্ত বুদ্ধির অভাব নার্স হপকিন্সের ছিল না। নিউজিল্যাণ্ডে ওর থাকা ক্রমশঃ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠায়, সে এদেশে চলে এল এবং হপকিন্স এই নাম নিয়ে (ঐ নামে বিদেশে তার এক নার্স সহকর্মী ছিল, যে ওখানেই মারা যান) নিজের পেশার কাজ শুরু করে দিল। তার লক্ষ্য ছিল মেডেনসফোর্ডে। বুড়ি মিসেস ওয়েলম্যানের গুপ্তকথা ফাস করে দেবার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করার পরিকল্পনাও তার থেকে থাকতে পারত, তবে মিসেস ওয়েলম্যান ছিলেন কড়া ধাঁচের মহিলা, ওতে খুব সুবিধে হবে না এটা নার্স রাইলি বা হপকিন্স বুঝে ফেলেছিল। ফলে ও পথে পা বাড়াল না। এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে মিসেস ওয়েলম্যানের সম্পত্তির পরিমাণ সম্বন্ধেও খোঁজখবর নিয়েছিল আর হয়তো দৈবক্রমে জানতে পেরে গিয়েছিল বুড়ি কোন উইল করেননি।

ফলে জুন মাসের ঐ সন্ধ্যেবেলায় নার্স ও’ব্রায়ান যখন ওকে বললে যে মিসেস ওয়েলম্যান উকিল ডাকছেন উইল করার জন্য, হপকিন্স আর দেরী করল না। মিসেস ওয়েলম্যানকে উইল না করেই মরতে হবে। যাতে তার অবৈধ মেয়ে সব সম্পত্তি পায়। ইতিমধ্যে মেরী জেরার্ডের সঙ্গে খুব ভাব জমিয়ে নিয়েছে হপকিন্স, এবং প্রায় হাতের মুঠোয় পুরে ফেলেছে স্নেহ ভালোবাসা দেখিয়ে। তারপরের কাজ হল বুঝিয়ে-সুঝিয়ে মেরী জেরার্ডকে দিয়ে উইল করানো, যাতে সে তার সম্পত্তি মাসিকে দিয়ে যায়, এমনকি উইলের কথাগুলো পর্যন্ত নিজের ইচ্ছামত করে লিখিয়ে নিল। সম্পর্কের কোন উল্লেখ করা হল না, শুধু লেখা হল–স্বৰ্গত এলিজা রাইলির বোন মেরী রাইলি। একবার ওতে সই হবার পর মেরীর ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেল। তারপর শুধু সুযোগের অপেক্ষায় থাকা। আমার অনুমান, খুন করার পুরো প্ল্যানটা ও এঁটে ফেলেছিল। নিজেকে বাঁচাবার জন্য অ্যাপোমরফিন ব্যবহার করবে তাও ঠিক করে রেখেছিল। হয়তো ঠিক করেছিল এলিনর আর মেরীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাবে। কিন্তু যখন এলিনর আউট হাউসে এসে স্যাণ্ডউইচ খাবার নেমন্তন্ন করল তখন ঐ সুবর্ণসুযোগটাকে হাতের কাছে পেয়ে ও কাজে নেমে পড়ল। পরিস্থিতি এমনই ছিল যে এলিনর শাস্তি পেতই।

ধীরে ধীরে ড. লর্ড বললেন, আপনি না থাকলে এলিনরের শাস্তি হতই।

সঙ্গে সঙ্গে পোয়ারো বললেন, না বন্ধু, ওঁর উচিত আপনার কাছে কৃতজ্ঞ হওয়া।

আমি? আমি তো কিছুই করিনি। আমি চেষ্টা করেছিলাম…।

বাকীটা ড. লর্ড বললেন, না, পোয়ারো হেসে বললেন, হ্যাঁ, বন্ধু, আপনি প্রচণ্ড চেষ্টা করেছিলেন, তাই না? আপনি অধৈৰ্য্য হয়ে উঠেছিলেন, কিছুই করতে পারছি না দেখে। আপনার মনে ভয়ও হচ্ছিল উনি দোষী প্রমাণিত না হয়ে যান। ফলে চরম অধৈৰ্য্য হয়ে গিয়ে আপনিও আমাকে মিথ্যে কথা বললেন। ভবিষ্যতে আপনার উচিত হবে জ্বর-জ্বালার চিকিৎসার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ রাখা। খুনের কিনারা করতে চেষ্টা করবেন না। ড. লর্ড লজ্জায় লাল হয়ে উঠলেন–আপনি বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন…মানে প্রথম থেকেই? আপনি আমার হাত ধরে ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে গেছেন। আপনার নিজেরই জার্মান দেশলাই বাক্স খুঁজে পেতে সাহায্য করলেন আমায়। একেবারে ছেলেমানুষী ব্যাপার।

ড. লর্ড এড়াতে চাইলেন প্রসঙ্গটা। পোয়ারো বলেই চললেন, মালীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দিলেন আপনি এবং ওকে দিয়ে বললেন, যে ঐ দিন সকালে রাস্তার ওপরে ও আপনার গাড়িটা দেখেছে। অথচ আমাকে বোঝাতে চাইলেন ওটা আপনার গাড়ি নয়। অন্য কেউ এসেছিল, উদ্দেশ্য আমি যাতে বিশ্বাস করি ওখানে বাইরের লোক এসেছিল।

আমি একটা গাধা, বললেন ড. লর্ড।

ওদিন সকালে হান্টারবেরীতে কেন গিয়েছিলেন আপনি?

আরে ওটা নেহাতই বোকামী আমার…আমি শুনেছিলাম উনি এসেছেন, একবার দেখার জন্য ওখানে গিয়েছিলাম। গিয়ে যে কথা বলব তার জন্য কিন্তু যাইনি। আমি..আমি শুধু একবার চোখে দেখবার জন্য গিয়েছিলাম। ঝোঁপের ধার থেকে ওঁকে স্পষ্ট দেখলাম মাখন আর রুটি কাটছেন… ।

সেই শার্লোট আর কবি ওয়ারদারের মতো…তারপর বন্ধু…

আর বলার কিছু নেই। ঝোঁপের ধারে দাঁড়িয়ে যতক্ষণ উনি ছিলেন, দেখলাম।

প্রথম দর্শনেই কি এলিনর কার্লিসলের প্রেমে পড়েছিলেন?

মনে হয় তাই।…

যাই হোক উনি এবং রডারিক ওয়েলম্যান এরপর সুখেই থাকবেন আশা করি।

বন্ধু হে, ও ধরনের কোন আশাই আপনার করা উচিত হবে না।

কেন নয়। মেরী জেরার্ডের ব্যাপারটার জন্য উনি নিশ্চয়ই রডারিক ওয়েলম্যানকে ক্ষমা করবেন। ওটা সাময়িক উন্মত্ততা মাত্র।

ব্যাপারটা অত সহজ নয় বন্ধু, ফাটলটা অনেক গভীরে সৃষ্টি হয়েছে। অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে ব্যবধানের মত। মৃত্যুর উপত্যকা পার হয়ে এসে কেউ আর অতীতে ফিরতে চায় না, নতুন ভাবে শুরু করতে চায়। অতীত সেখানে কোন কাজ লাগে না…

নতুন জীবন…সেই জীবনই এলিনর কার্লিসল শুরু করতে চলেছেন..আর আপনিই ওকে নতুন জীবন দিয়েছেন।

না, আমি নয়।

হ্যাঁ, আপনার ইচ্ছাশক্তি, আপনার গোঁয়ারতুমির ফলেই আমি বাধ্য হয়েছিলাম যেমনটি বলেছিলেন সেই মতো কাজ করতে। স্বীকার করুন এখন, আপনার প্রতিই উনি কৃতজ্ঞ তাই না?

হ্যাঁ, উনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, এমনকি প্রায়ই যেতে বলেছেন ওঁর কাছে..।

হ্যাঁ, আপনাকে ওঁর খুবই প্রয়োজন।

ড. লর্ড, ওঁর কাছে রডারিকের যতো প্রয়োজন ততটা নয়।

রডারিক ওয়েলম্যানের প্রয়োজন উনি কখনই অনুভব করেননি। উনি ওকে ভালোবাসতেন, মনের অনিচ্ছা সত্ত্বেও খানিকটা মরিয়া হয়ে।

উনি কখনোই আমাকে ওর মতো ভালোবাসতে পারবেন না–শান্তভাবে পোয়ারো বললেন, হয়তো না। কিন্তু আপনাকে ওঁর খুবই দরকার, আপনাকে ঘিরেই উনি নতুন জগৎ গড়তে পারবেন আবার। পোয়ারো শান্তস্বরে বললেন, বাস্তবকে মেনে নিতে পারেন না? উনি রডারিক ওয়েলম্যানকে ভালোবাসতেন, তাতে কি হয়েছে? আপনাকে পেলে উনি তো সুখী হতে পারেন…।

 

আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]
আগাথা ক্রিস্টি

আমাদের আরও পোষ্ট দেখুনঃ

Bangla Gurukul Logo আদালত ঘরে -স্যাড সাইপ্রেস ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

মিসেস আরিয়াদে অলিভার -হ্যালুইন পার্টি ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

কোয়ারী হাউসের দিকে -হ্যালুইন পার্টি ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

পাহাড়ের মাথায় উঠে -হ্যালুইন পার্টি ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

ভ্রুকুটি করলো পোয়ারো -হিকরি ডিকরি ডক (১৯৫৫) ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

মিস লেমনকে নোট দিতে -হিকরি ডিকরি ডক (১৯৫৫) ( এরকুল পোয়ারো সমগ্র-আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ) [ অনুবাদ সাহিত্য ]

বনফুল (১৮৮০) | কাব্যগ্রন্থ | কবিতা সূচি | পর্যায় : সূচনা (১৮৭৮ – ১৮৮১) | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মন্তব্য করুন