অসমাপিকা ক্রিয়ার বিভক্তি ও প্রয়োগ | ক্রিয়া বিভক্তি ও ধাতু বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

অসমাপিকা ক্রিয়ার বিভক্তি ও প্রয়োগ | ক্রিয়া বিভক্তি ও ধাতু বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা , ধাতুর সঙ্গে কালনিরপেক্ষ – ইয়া (য়ে), —ইতে (তে) অথবা —ইলে (লে) বিভক্তি যুক্ত হয়ে অসমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন— যত্ন করলে রত্ন মেলে। তাকে খুঁজে নিয়ে আসতে চেষ্টা করবে। অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা অসমাপিকা ক্রিয়াঘটিত বাক্যে কর্তার (কর্তৃকারক) ব্যবহার দেখা যায়— এক কর্তা : বাক্যস্থিত সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা এক বা অভিন্ন হতে পারে। যেমন— তুমি কাজ পেলে আর কি বাড়ি আসবে? ‘পেলে’ (অসমাপিকা ক্রিয়া) এবং ‘আসবে (সমাপিকা ক্রিয়া)— উভয় ক্রিয়ার কর্তা এখানে ‘তুমি’।

অসমাপিকা ক্রিয়ার বিভক্তি ও প্রয়োগ | ক্রিয়া বিভক্তি ও ধাতু বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

অসমান কর্তা : বাক্যস্থিত সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা এক না হলে সেখানে কর্তাগুলোকে অসমান কর্তা বলে। যেমন— আমি তাকে যেতে বললে সে যাবে। অসমান কর্তা দু ধরনের; যেমন : ক. শর্তাধীন কর্তা : এ জাতীয় কর্তাদের ব্যবহার শর্তাধীন হতে পারে। যেমন— তোমরা বাড়ি এলে আমি রওয়ানা হব। অর্থাৎ বাড়ি আসার ওপর আমার রওনা হওয়া নির্ভর করছে, ফলে এখানে কর্তৃপদের ব্যবহার শর্তাধীন। উল্লিখিত বাক্যটিতে ‘এলে’ অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা ‘তোমরা’ এবং ‘রওয়ানা হব’ সমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা ‘আমি’। খ. নিরপেক্ষ কর্তা : শর্তাধীন না হয়েও সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার ভিন্ন ভিন্ন কর্তৃপদ থাকতে পারে।

 

অসমাপিকা ক্রিয়ার বিভক্তি ও প্রয়োগ | ক্রিয়া বিভক্তি ও ধাতু বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

 

সে ক্ষেত্রে প্রথম কর্তৃপদটিকে বলা হয় নিরপেক্ষ কর্তা। যেমন— সূর্য অস্তমিত হলে যাত্রীদল পথ চলা শুরু করল। এখানে ‘যাত্রীদলের’ পথ চলার সঙ্গে ‘সূর্য’ অস্তমিত হওয়ার কোন শর্ত বা সম্পর্ক নেই বলে ‘সূর্য’ নিরপেক্ষ কর্তা। অসমাপিকা ক্রিয়ার বিভক্তি ও প্রয়োগ ১। ‘—ইয়া’ > ‘এ’ বিভক্তি : মুখ ধুয়ে পড়তে বস (অনন্তরতা বা পর্যায় বোঝাতে)। চেঁচিয়ে কথা বলো না (ক্রিয়া-বিশেষণ অর্থে)। সেখানে আর গিয়ে কাজ নেই (ভাব-বাচক বিশেষ্য গঠনে)। ঢাকা গিয়ে বাড়ি যাব (অব্যয় পদের অনুরূপ)। মেয়েটি কুসঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে গেল (হেতু অর্থে)। ‘হৃদয়ের কথা কহিয়া কহিয়া গাহিয়া গাহিয়া গান।’ (ক্রিয়ার অবিচ্ছিন্নতা বোঝাতে) ৷

 

অসমাপিকা ক্রিয়ার বিভক্তি ও প্রয়োগ | ক্রিয়া বিভক্তি ও ধাতু বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

 

২। ‘—ইলে’ > ‘–লে’ বিভক্তি : চারটা বাজলে স্কুল ছুটি হবে (কার্য পরম্পরা বোঝাতে)। এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে (সম্ভাব্যতা বোঝাতে)। তুমি গেলে সে আসবে (সাপেক্ষতা বোঝাতে)। একবার মরলে কি কেউ ফেরে? (প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে)। ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে?’ (দার্শনিক সত্য প্রকাশে)। এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে (বিধি নিষেধ)। আজ গেলেও যা, কাল গেলেও তা (সম্ভাবনার বিকল্পে)। ৩। ‘—ইতে’ > ‘–তে’ বিভক্তি : এখন আমি যেতে চাই (ইচ্ছা প্রকাশ)। সোমা গাইতে জানে (দেখা বা জানা অর্থে)। টিনা এখন হাঁটতে পারে (সামর্থ্য বোঝাতে)। মেলা দেখতে ঢাকা যাব (উদ্দেশ্য বা নিমিত্ত অর্থে)।

 

অসমাপিকা ক্রিয়ার বিভক্তি ও প্রয়োগ | ক্রিয়া বিভক্তি ও ধাতু বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা

 

বাল্যকালে বিদ্যাভ্যাস করতে হয় (বিধি বোঝাতে)। এখন ট্রেন ধরতে হবে (আবশ্যকতা বোঝাতে)। রানি এখন ইংরেজি পড়তে শিখেছে (সূচনা অর্থে)। লোকটাকে দৌড়াতে দেখলাম (বিশেষণ বাচকতায়)। তোমাকে তো এ গ্রামে থাকতে দেখি নি (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে)। ‘কোন দেশেতে তরুলতা সকল দেশের চাইতে শ্যামল’ (অনুসর্গ রূপে)। পদ্মফুল দেখতে সুন্দর (বিশেষণের সঙ্গে অন্বয় সাধনে)। ৪। ‘—ইতে’ > ‘–তে’ বিভক্তির দ্বিত্ব প্রয়োগ : ‘কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা’ (নিরন্তরতা প্রকাশে)। ‘সেঁউতিতে পদ দেবী রাখিতে রাখিতে’ (সমকাল বোঝাতে)। টীকা : রীতিসিদ্ধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমাপিকা ক্রিয়া অনুপস্থিত থেকে অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহারে বাক্য গঠিত হতে পারে। যেমন— গরু মেরে জুতা দান। আঙুল ফুলে কলাগাছ

আরও দেখুন:

“অসমাপিকা ক্রিয়ার বিভক্তি ও প্রয়োগ | ক্রিয়া বিভক্তি ও ধাতু বিভক্তি | ভাষা ও শিক্ষা”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন