স্বরধ্বনি | অনুনাসিক স্বর | ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব | অধ্যায় ৩ | ভাষা ও শিক্ষা

স্বরধ্বনি | অনুনাসিক স্বর | ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব | অধ্যায় ৩ | ভাষা ও শিক্ষা , যে-বাধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আগত বাতাস মুখের মধ্যে কোনোভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় না সেগুলোই হলো স্বরধ্বনি (vowel)। স্বরধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজেই সম্পূর্ণরূপে উচ্চারিত হতে পারে। যেমন- অ, আ, ই, উ। কিছু স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস বাধাহীনভাবে একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়। যেমন— আঁ, ই, এঁ, ওঁ ইত্যাদি। ভাষাবিদগণ নানাভাবে স্বরধ্বনির সংজ্ঞার্থ প্রদান করেছেন।

  স্বরধ্বনি

যেমন : ‘যে ধ্বনি, অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই অবাধে উচ্চারিত হতে পারে, এবং যাকে আশ্রয় করে অন্য ধ্বনি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় স্বরধ্বনি। ৮ যেমন : যেমন— অ, আ, ই, উ ইত্যাদি । ‘যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস-তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও কোনো প্রকার বাধা পায় না, তাদের বলা হয় স্বরধ্বনি। ’৫ যেমন : যেমন— অ, আ, ই, উ ইত্যাদি। 

 [৩.৬-১] [৩.৬-২] স্বরধ্বনি | অনুনাসিক স্বর | ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব | অধ্যায় ৩ | ভাষা ও শিক্ষা

“যে ধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ব্যতিরেকে স্বয়ং পূর্ণ ও পরিস্ফুটভাবে উচ্চারিত হয়, এবং যাহাকে আশ্রয় করিয়া অন্য ধ্বনি প্রকাশিত হয়, তাহাকে স্বরধ্বনি (Vowel sound) বলে। ৬ যেমন— অ, আ, ই ইত্যাদি। বাংলা মান্য চলিত ভাষায় স্বরধ্বনি আছে সাতটি। এগুলো হলো : অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ও কথা বলার সময় আমরা যে কেবল সাতটি স্বরধ্বনিই উচ্চারণ করি তা নয়। এই ধ্বনিগুলোর কাছাকাছি আরও অনেক স্বরধ্বনি আমরা উচ্চারণ করি।

 [৩.৬-১] [৩.৬-২] স্বরধ্বনি | অনুনাসিক স্বর | ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব | অধ্যায় ৩ | ভাষা ও শিক্ষা

তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, কথা বলার সময় আমরা যত রকম উচ্চারণই করি না কেন, সেগুলোর প্রত্যেকটিই এই সাতটির কোনো-না-কোনোটির উচ্চারণবৈচিত্র্য হিসাবে গ্রাহ্য । বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনির সংখ্যা সাতটি হলেও এর বর্ণমালায় এখন স্বরবর্ণের সংখ্যা এগারোটি। এগুলো হলো : অ আ এই ঈ উ ঊ ঋ এ ও

অনুনাসিক স্বর

বাংলায় দু ধরনের স্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়— মৌখিক (oral) ও অনুনাসিক (nasalized) স্বরধ্বনি। মৌখিক স্বরধ্বনি সাতটিরই অনুনাসিক রূপ আছে। যেমন : অঁ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ওঁ। স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস বাধাহীনভাবে একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বেরিয়ে এলে যেরকম ধ্বনি হয় তাকে বলা হয় অনুনাসিক বা সানুনাসিক স্বরধ্বনি। যেমন : অঁ— পঁয়ত্রিশ, আঁ— হাঁস, অ্যা— স্যাঁতসেঁতে । লক্ষ রাখতে হবে যে, মৌখিক স্বরের অনুনাসিক উচ্চারণ করলে দুটি ভিন্ন অর্থবাহী শব্দ তৈরি হবে।

 [৩.৬-১] [৩.৬-২] স্বরধ্বনি | অনুনাসিক স্বর | ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব | অধ্যায় ৩ | ভাষা ও শিক্ষা

যেমন : কাদা (কাদা-পাঁক), কাঁদা (কান্না); পাক (রান্না), পাঁক (কাদা)। যেহেতু এই স্বরধ্বনিগুলো (অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, বাংলায় শব্দের অর্থপার্থক্য ঘটাতে সক্ষম তাই এগুলো বাংলার স্বরধ্বনিমূল (vowel phoneme) বা স্বরস্বনিম।

 

আরও দেখুন:

“স্বরধ্বনি | অনুনাসিক স্বর | ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব | অধ্যায় ৩ | ভাষা ও শিক্ষা”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন