অঘ্রাণ প্রান্তরে কবিতা | জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা | জীবনানন্দ দাশ

অঘ্রাণ প্রান্তরে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর “জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা ” সংকলনের অংশ।

 

অঘ্রাণ প্রান্তরে কবিতা | জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা | জীবনানন্দ দাশ

 

অঘ্রাণ প্রান্তরে কবিতা – জীবনানন্দ দাশ

জানি আমি তোমার দু চোখ আজ আমাকে খোঁজে না

আর পৃথিবীর পরে-

বলে চুপে থামলাম, কেবলি অশত্থপাতা পড়ে আছে ঘাসের ভিতরে

শুকনো মিয়োনো ছেঁড়া; –অঘ্রাণ এসেছে আজ পৃথিবীর বনে;

সে সবের ঢের আগে আমাদের দুজনের মনে

হেমন্ত এসেছে তবু; বললে সে, ‘ঘাসের ওপরে সব বিছানো পাতার

মুখে এই নিস্তব্ধতা কেমন যে – সন্ধ্যার আবছা অন্ধকার

 

ছড়িয়ে পড়েছে জলে’; –কিছুক্ষণ অঘ্রাণের অস্পষ্ট জগতে

হাঁটলাম, চিল উড়ে চলে গেছে-কুয়াশার প্রান্তরের পথে

দু একটা সজারুর আসা যাওয়া; উচ্ছল কলার ঝাড়ে উড়ে

চুপে সন্ধ্যার বাতাসে

লক্ষ্মীপেঁচা হিজলের ফাঁক দিয়ে বাবলার আধাঁর গলিতে নেমে আসে;

আমাদের জীবনের অনেক অতীত ব্যপ্তি আজো যেন

লেগে আছে বহতা পাখায়

ঐ সব পাখীদের; ঐ সব দূর দূর ধানক্ষেতে, ছাতকুড়োমাখা

ক্লান্ত জামের শাখায়;

নীলচে ঘাসের ফুলে ফড়িঙের হৃদয়ের মতো নীরবতা

ছড়িয়ে রয়েছে এই প্রান্তরের বুকে আজ হেঁটে চলি – আজ কোনো কথা

নেই আর আমাদের; মাঠের কিনারে ঢের ঝরা ঝাউফল

পড়ে আছে; শান্ত হাত, চোখে তার বিকেলের মতন অতল

কিছু আছে; খড়কুটো উড়ে এসে লেগে আছে শাড়ির ভিতরে,

সজনে পাতার গুঁড়ি চুলে বেধে গিয়ে নড়ে চড়ে,

পতঙ্গ পালক জল – চারিদিকে সুর্যের উজ্জ্বলতা নাশ;

 

আলেয়ার মত ঐ ধানগুলো নড়ে শূন্যে কি রকম অবাধ আকাশ

হয়ে যায়; সময়ও অপার – তাকে প্রেম আশা চেতনার কণা

ধরে আছে বলে সে-ও সনাতন; কিন্তু এই ব্যর্থ ধারণা

সরিয়ে মেয়েটি তার আঁচলের চোরকাঁটা বেছে

প্রান্তর নক্ষত্র নদী আকাশের থেকে সরে গেছে

যেই স্পষ্ট নির্লিপ্তিতে – তাই-ই-ঠিক; –ওখানে স্নিগ্ধ হয় সব!

অপ্রেমে বা প্রেমে নয় – নিখিলের বৃক্ষ নিজ বিকাশে নীরব।

 

অঘ্রাণ প্রান্তরে কবিতা | জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা | জীবনানন্দ দাশ

 

আরও দেখুনঃ

 

 

অঘ্রাণ প্রান্তরে কবিতা | জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা | জীবনানন্দ দাশ

মন্তব্য করুন