আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি জয় গোস্বামীর এই ক্ষুদ্রায়তন পঙ্ক্তিমালাটি এক অপার্থিব রূপক আর মরমী চেতনার সংমিশ্রণ। এখানে কবি একটি চিরচেনা পারিবারিক আঙিনাকে মহাজাগতিক ও আধ্যাত্মিক ক্যানভাসে রূপান্তর করেছেন।
কবিতাটিতে ‘জননী’ বা মা-কে তুলনা করা হয়েছে অবারিত ‘আঙিনা’র সঙ্গে, যা পরম আশ্রয়ের প্রতীক। তাঁরই স্নেহাশিসে সন্ততি আজ ‘বটচারা’র মতো দৃঢ় ও প্রাণবন্ত। এখানে ‘বাতাস’ যেন এক চিরচঞ্চল ‘পথবালক’, আর অবয়বহীন অন্ধকারের মধ্যে আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘লণ্ঠন’ রূপী কন্যাটি। অতি পরিচিত গার্হস্থ্য অনুষঙ্গ ব্যবহার করে কবি এখানে সম্পর্ক ও প্রাণের এক গূঢ় রহস্যময় সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন, যেখানে স্থিরতা আর গতির মাঝে এক গভীর মানবিক সংযোগ দৃশ্যমান।
জননী এই আঙিনা – জয় গোস্বামী
জননী এই আঙিনা–আজ
শরীর বটচারা
বাতাস পথবালক, আর
মেয়েটি লণ্ঠন!