বাবা,আজ ঈদ-তোমাকে আজ বড় বেশি মনে পড়ছে !
এই যে,তোমার আদরের নাতি জিসান,
ছোট্টবেলায় যাকে তুমি পিঠে চড়িয়ে
ঘোড়া সেজে ঘুরে বেড়াতে আর
ও,ওর ছোট্ট হাতে একটা বেত নিয়ে
হ্যাট হ্যাট করে পর-মুহূর্তে তোমার
গলা জড়িয়ে হেসে কুটি কুটি হতো;
সে এখন একুশ বছরের টগবগে যুবক,
তার এখন যুদ্ধে যাবার সময়,বাবা !
তোমার বংশের প্রথম নাতনী সিলভিয়া,
ও এখন পুরোদস্তুর মহিলা ডাক্তার !
আর তোমার জামাই,যাকে তুমি
এক্কেবারে ছেলেমানুষ ভেবে,স্নেহে আদরে
ভরিয়ে রাখতে,সে যে আজ কত দায়িত্ববান
বাড়ির কর্তা,তোমার মত সবদিকে চোখ !
ওরা পাজামা-পাঞ্জাবী,টুপি পরে;
হাতে জায়নামায নিয়ে ঈদগাহে যাচ্ছে,
আমার যে ওদের যেতে ভারী ইচ্ছে
হচ্ছে বাবা,লজ্জায় বলতে পারছি না !যেমনি করে সকালে গোসল সেরে,নতুন জামা
পরে,তোমার আঙ্গুল ধরে নামাযে যেতাম !
জামাতে সবাই সেজদায় গেলে,আমি
মাথা তুলে সফেদ জন-সমুদ্র দেখতাম !
নামাযের পর সবার কী যে কোলাকুলি আর
এ বাড়ি,ও বাড়ি ঘুরে ঘুরে সালাম আর সালামী,
খেয়ে দেয়ে বেড়ানো আর বেড়ানো !
বাবা,সেই দৃশ্যটা যে প্রতিবছর আমার
চোখের সামনে ফিরে ফিরে এসে দাঁড়ায়
আর আমার দু’চোখ ভিজিয়ে দিয়ে যায় !