জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক তীব্র যাতনা, আদিমতা এবং পরাবাস্তব রূপান্তরের আখ্যান। এখানে কবি নিজেকে কেবল একজন মানুষ হিসেবে নয়, বরং এক আদিম বলির পশুরূপে কল্পনা করেছেন। ‘পশুরক্ত’ পাওয়া যাওয়ার অনুষঙ্গটি মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রবৃত্তি এবং সভ্যতার নিচে চাপা পড়া আদিম যন্ত্রণাকেই সামনে নিয়ে আসে।
কবিতাটিতে এক ভয়াবহ অথচ মহিমান্বিত দৃশ্যকল্প তৈরি হয়েছে। পর্বতচূড়ায় উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা দেহ থেকে নির্গত রক্তে আকাশ লাল হওয়ার চিত্রটি ত্যাগের এক চরম মুহূর্তকে নির্দেশ করে। সবশেষে, সূর্যের বদলে সমুদ্রের জলে ‘মহিষমুণ্ড’ আর ‘বেঁকে যাওয়া শিঙের’ প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠা—অস্তিত্বের এক চূড়ান্ত ও রূঢ় রূপান্তরকে তুলে ধরে। এটি মূলত নিজের ভেতরে থাকা পশুত্ব, বলিদান এবং সৃষ্টির এক যন্ত্রণাদায়ক বহিঃপ্রকাশ, যা পাঠককে এক অদ্ভুত শিহরণ দেয়।
আমাকে প্রত্যেকবার কেটে – জয় গোস্বামী
আমাকে প্রত্যেকবার কেটে
পশুরক্ত পাওয়া যাবে–পর্বতচূড়ায়
পা থেকে আমার ধড় উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখলেই
পাখিরা চিৎকার করবে–লাল হবে আকাশ
সমুদ্রের জলে
আমার মহিষমুণ্ড, বেঁকে যাওয়া শিঙ
দেখা দেবে সূর্যের বদলে!