জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক ভয়াবহ ও মহাজাগতিক ধ্বংসের দৃশ্যকল্প। এখানে ‘জ্বলতে জ্বলতে পাখি পড়া’—কেবল একটি দৃশ্যের বর্ণনা নয়, বরং এক চরম বিপন্নতা ও অস্তিত্বের দহনের সংকেত। সেই দহন যখন কবির কোটি যুগের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, তখন উন্মোচিত হয় এক রূঢ় বাস্তবতা।
মাথার ওপরে ‘হা করা আকাশগর্ত’ এবং ‘লৌহমেঘ’—প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর ও যান্ত্রিক রূপকে ফুটিয়ে তোলে। এই ভয়াবহতার নিচে পৃথিবী যেন ক্রমশ এক অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। সেই তলিয়ে যাওয়ার কোনো শব্দ নেই, আছে শুধু এক ‘নিঃশব্দ চিৎকার’—যা অবরুদ্ধ যাতনা ও আসন্ন বিনাশের প্রতীক। এটি মূলত সমকালীন পৃথিবীর অবক্ষয় এবং আসন্ন কোনো মহাপ্রলয়ের এক তীব্র ও গুমোট চিত্রকল্প।
জ্বলতে জ্বলতে পাখি পড়ছে – জয় গোস্বামী
জ্বলতে জ্বলতে পাখি পড়ছে
জ্বলে ‘ছ্যাৎ’ আওয়াজে আমার
ঘুম ভাঙে
কোটি কোটি যুগ পরেকার
ঘুম,
যার মাথার ওপরে
হা করা আকাশগর্ত, লৌহমেঘ, আর
তার নিচে, ঘুরতে ঘুরতে, ক্রমশ তলিয়ে যাওয়া পৃথিবীর নিঃশব্দ চিৎকার।