জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক অপার্থিব মমতা, রূপক আর দীর্ঘশ্বাসের ছবি। এখানে ‘মা’ কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং এক আলোকবর্তিকা বা পরম আশ্রয়ের প্রতীক, যিনি আকাশের কোনো এক উচ্চতায় দাঁড়িয়ে এক অতৃপ্ত সন্তানের দিকে চেয়ে আছেন।
নিম্নে ‘স্রোত’ আর ‘আগুনজ্বলা সাপ’ জীবনের তীব্র দহন, প্রলোভন ও বিপদের ইঙ্গিত দেয়। কবি নিজেকে কল্পনা করেছেন এক ‘শিকলবাঁধা বাঁশি’ হিসেবে—যা বন্দিত্বের যন্ত্রণার মাঝেও সুর বা সৃষ্টির তৃষ্ণায় কাতর। নদীর অগ্নিময় স্রোত থেকে কিছু একটা তুলে নেওয়ার আর্তিটি মূলত শিল্পীর জীবনের এক অনিঃশেষ সংগ্রাম। আকাশের জানলায় মায়ের ক্ষণিক উপস্থিতি এবং পরে সরে যাওয়া—মানুষের একাকীত্ব আর পরম মমতাকে ছুঁতে না পারার চিরন্তন হাহাকারকে এক পরাবাস্তব মাধুর্যে ফুটিয়ে তুলেছে। এটি স্মৃতির এক বিষণ্ণ ও মায়াবী দৃশ্যপট।
মা এসে দাঁড়ায় – জয় গোস্বামী
মা এসে দাঁড়ায়
জানালায়
নিম্নে স্রোত, নদী
জল থেকে লাফিয়ে উঠছে এক একটা আগুনজ্বলা সাপ
আমি সে-নদীর থেকে তুলে নিতে আসি
আমি শিকলবাঁধা বাঁশি
আকাশের উঁচু জানলায়
মা এসে দাঁড়ায়
সরে যায়।