রেণু মা, আমার ঘরে তক্ষক ঢুকেছে – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি এক ঘোরলাগা পরাবাস্তবতা এবং আধ্যাত্মিক উত্তরণের গল্প বলে। এখানে ‘রেণু মা’ একটি আশ্রয় বা মাতৃতান্ত্রিক ঐশ্বরিক সত্তার প্রতীক। ঘরে তক্ষকের প্রবেশ এবং তার ডাক কেবল কোনো প্রাণীর আগমন নয়, বরং এক অশুভ বা রহস্যময় সংকেতের ইঙ্গিত দেয়।

কবিতার চিত্রকল্পগুলো অত্যন্ত প্রখর—জ্যোৎস্নায় কাক পুড়ে যাওয়া কিংবা দড়ি ভেবে সাপ ধরে গাছে ওঠা আমাদের ইন্দ্রিয়কে সচকিত করে। কিন্তু এই ভয়ের আবহ শেষ পর্যন্ত এক অলৌকিক আনন্দে রূপান্তরিত হয়। যখন ‘রেণু মা’ হাততালি দেন, তখন সেই ভয়ংকর সাপ থেকে বিষ খসে যায় এবং তক্ষকটি তার পার্থিব রূপ ছেড়ে ‘জ্যোতির্ময়’ হয়ে আকাশে উড়ে যায়। এটি মূলত মানুষের অন্তরের ভয় ও বিষকে শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে এক আলোকোজ্জ্বল মুক্তির দিকে নিয়ে যাওয়ার রূপক। এক অদ্ভুত মায়াবী আবহে এখানে অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার চিত্র ফুটে উঠেছে।

রেণু মা, আমার ঘরে তক্ষক ঢুকেছে – জয় গোস্বামী

রেণু মা, আমার ঘরে তক্ষক ঢুকেছে
তক্‌-খো, তক্‌-খো–তার ডাক

রেনু মা, সংকেতগাছ দূরে দাঁড়িয়েছে
জ্যোৎস্না লেগে পুড়ে গেছে কাক

আমি সে-গাছের ডালে, দড়ি ভেবে, সর্প ধরে উঠি
সর্প থেকে বিষ খসে যায়

রেণু মা, তোমার হাতে তালি বাজে–রাতের আকাশে
ডানা মেলে জ্যোতির্ময় তক্ষক পালায়

Leave a Comment