শিশুর দেহ কবিতা – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের ‘শিশুর দেহ’ একটি আনন্দময় ও শিক্ষামূলক কবিতা, যা শিশুর দৈহিক গঠন ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সহজ ও মজাদারভাবে বর্ণনা করে। কবি শিশুর দেহের সৌন্দর্য, কৌতূহল এবং স্বাভাবিক আচরণকে উপস্থাপন করেছেন রসাত্মক ও কল্পনাপ্রবণ ভাষায়। ছোটদের জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করতে, তাদের কৌতূহল ও সচেতনতা জাগ্রত করার জন্য এই কবিতা বিশেষভাবে উপযোগী। এটি শিশুদের নিজের দেহ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলে এবং আনন্দদায়ক শিক্ষার মাধ্যমে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

শিশুর দেহ কবিতা – সুকুমার রায়

চশমা-আঁটা পণ্ডিতে কয় শিশুর দেহ দেখে-
“হাড়ের পরে মাংস দিয়ে, চামড়া দিয়ে ঢেকে,
শিরার মাঝে রক্ত দিয়ে, ফুসফুসেতে বায়ু,
বাঁধল দেহ সুঠাম করে পেশী এবং স্নায়ু।”
কবি বলেন, “শিশুর মুখে হেরি তরুণ রবি,
উৎসারিত আনন্দে তার জাগে জগৎ ছবি।
হাসিতে তার চাঁদের আলো, পাখির কলকল,
অশ্রুকণা ফুলের দলে শিশির ঢলঢল।”
মা বলেন, “এই দুরুদুরু মোর বুকেরই বাণী,
তারি গভীর ছন্দে গড়া শিশুর দেহখানি।
শিশুর প্রাণে চঞ্চলতা আমার অশ্রুহাসি,
আমার মাঝে লুকিয়েছিল এই আনন্দরাশি।
গোপনে কোন্‌ স্বপ্নে ছিল অজানা কোন আশা,
শিশুর দেহে মূর্তি নিল আমার ভালবাসা।”

 

Leave a Comment