সুকুমার রায়ের শ্রীগোবিন্দ-কথা কবিতা কিশোর পাঠকের জন্য লেখা একটি শিক্ষামূলক ও মনোরম রচনা। এতে তিনি রূপকথার মতো কল্পনাপ্রবণ, রোমাঞ্চকর গল্প বলার মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিপাদন করেছেন। কবিতার কেন্দ্রে শ্রীগোবিন্দ চরিত্র, যার জীবন ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাহস, সততা, বন্ধুত্ব এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সুকুমার রায়ের চিত্রণশৈলী হাস্যরস, কল্পনা ও সৃজনশীলতার মিশ্রণে শিশু-পাঠকের মনকে আকর্ষণ করে। এটি বাংলা শিশু সাহিত্য ও শিক্ষামূলক কবিতার একটি চিরস্মরণীয় নিদর্শন।
শ্রীগোবিন্দ-কথা কবিতা – সুকুমার রায়
আমি অর্থাৎ শ্রীগোবিন্দ মানুষটি নই বাঁকা!
যা বলি তা ভেবেই বলি, কথায় নেইক ফাঁকা।
এখনকার সব সাহেবসুবো, সবাই আমায় চেনে
দেখ্তে চাও ত দিতে পারি সাটিফিকেট এনে।
ভাগ্য আমায় দেয়নি বটে করতে বি-এ পাশ,
তাই বলে কি সময় কাটাই কেটে ঘোড়ার ঘাস?
লোকে যে কয় বিদ্যে আমার ‘কথামালা’ই শেষ—
এর মধ্যে সত্যি কথা নেইক বিন্দুলেশ।
ওদের পাড়ার লাইব্রেরিতে কেতাব আছে যত
কেউ পড়েছে তন্নতন্ন করে আমায় মতো?
আমি অর্থাৎ শ্রীগোবিন্দ এমনি পড়ার যম
পড়াশুনো নয়ক আমার কারুর চেয়ে কম।
কতকটা এই দেখেশিখে কতক পড়েশুনে,
কতক হয়ত স্বাভাবিকী প্রতিভারই গুণে
উন্নতিটা করছি যেমন আশ্চর্য তা ভারি,
নিজের মুখে সব কথা তার বলতে কি আর পারি?
বলে গেছেন চন্ডীপতি কিংবা অন্য কেউ
“আকাশ জুড়ে মেঘের বাসা, সাগরভরা ঢেউ,
জীবনটাও তেমনি ঠাসা কেবল বিনা কাজে—
যেদিক দিয়ে খরচ করি সেই খরচই বাজে!”
আমি অর্থাৎ শ্রীগোবিন্দ চলতে ফিরতে শুতে
জীবনটাকে হাঁকাই নেকো মনের রথে জুতে।
হাইড্রোজেনের দুই বাবাজি অক্সিজেনের এক
নৃত্য কবেন গলাগলি কান্ডখানা দেখ্,
আহ্লাদেতে এক্সা হলে গলে হলেন জল
এই সুযোগে সুবোধ শিশু “শ্রীগোবিন্দ” বল্।