সাহিত্য পাঠ : পদ্য পাঠ | বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি

সাহিত্য পাঠ : পদ্য পাঠ ক্লাসটি যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বাংলা প্রস্তুতির (Competetive Exam Bangla Preparation) জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ও চাকরি প্রস্তুতি পরীক্ষাসমূহে এই বিষয় থেকে নানাবিধ প্রশ্ন আসে। ভিডিওটি থেকে তোমরা এসব কিছু সম্পর্কে জানতে পারবে। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না। যারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ক্লাস করছে (University Admission Class), প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের এটি অবশ্যই জানা দরকার। তাছাড়া যারা বিসিএস প্রস্তুতি (BCS Preparation) নিচ্ছে তাদের জন্যও বিষয়টা একই ভাবে জরুরী।

 

সাহিত্য পাঠ : পদ্য পাঠ

কবিতাকাব্য বা পদ্য হচ্ছে শব্দ প্রয়োগের ছান্দসিক কিংবা অনিবার্য ভাবার্থের বাক্য বিন্যাস — যা একজন কবির আবেগ-অনুভূতি, উপলব্ধি ও চিন্তা করার সংক্ষিপ্ত রূপ এবং তা অত্যাবশ্যকীয়ভাবে উপমা-উৎপ্রেক্ষা-চিত্রকল্পের সাহায্যে আন্দোলিত সৃষ্টির উদাহরণ। পৃথিবী নামক গ্রহের তাবৎ বিষয়কে পুঁজি করে কবিতা ফলত সুমধুর শ্রুতিযোগ্যতা যুক্ত করে। কাঠামোর বিচারে কবিতা নানা রকম। যুগে যুগে কবিরা কবিতার বৈশিষ্ট্য ও কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছেন। কবিতা শিল্পের মহোত্তম শাখা হিসেবে পরিগণিত।

এর আয়তন প্রকারের উপর নির্ভরশীল।

 

সাহিত্য পাঠ

 

কবিতা (গ্রিক: “ποίησις,” poiesis, “নির্মাণ” অথবা “তৈরি করা”; ইংরেজি: Poetry) শিল্পের একটি শাখা যেখানে ভাষার নান্দনিক গুণাবলির ব্যবহারের পাশাপাশি ধারণাগত এবং শব্দার্থিক বিষয়বস্তু ব্যবহার করা হয়।[স্পষ্টকরণ প্রয়োজন] কবিতার রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, এবং কবিতাকে সংজ্ঞায়িত করার প্রাথমিক প্রচেষ্টা, যেমন এরিস্টটলের পোয়েটিকস, অলঙ্কারশাস্ত্র, নাটক, সংগীত এবং হাস্যরসাত্ম বক্তব্যের বিভিন্ন ব্যবহারসমূহের উপর দৃষ্টিপাত করে। কবিতা সাহিত্যের আদিমতম শাখা।

 

প্রকার

রুবাই

এটি আরবীয় অঞ্চলের চার পংক্তির একটি কবিতা। ওমর খৈয়াম তার রুবাই-এর জন্য বিখ্যাত।

সিজো

এটি সীমিত দৈর্ঘ্যের কোরীয় কবিতা। সাধারণত ৪ পংক্তিতে লেখা হয়।

ক্বাসিদা

ক্বাসিদা-কবিতা ইংরেজজাতি দ্বারা নিষিদ্ধ কবিতার বই। মুসলিম ধর্মে বিশ্বাসিগণ একে ক্বসিদা শরীফ বলে। মুসলিম জাতির বিভিন্ন দুর্যোগ-কালে এ ক্বাসিদা পাঠ করা হয় যাতে মুসলমানরা প্রাণ শক্তি ফিরে পান। মুসলমানদের উপর এর প্রভার লক্ষ্য করে ব্রিটিশ বড় লাট লর্ড কার্জনের শাসনামলে (১৮৯৯-১৯০৫) ভারতবর্ষে এ ক্বাসিদা (কবিতা) নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ কবিতাকে আরবী ও ফার্সি ভাষায় বলা হয় ক্বাসিদা।

ল‍্যাবেরি কবিতা

ল‍্যাবেরি কবিতা (Laberi poem) হলো এক ধরনের বিশেষ কবিতা, যা ছোট ছোট স্তবকে লেখা হয়। এ কবিতায় অল্প কথায় ভাব সম্পন্ন করতে হয়। এ কবিতা যারা লেখেন, তাদের ল‍্যাবেরি কবি (Laberi poet) বলে। এ কবিতার কিছু অনন‍্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একে বিশেষ করে তুলেছে। বেশ কয়েকটি স্তবক থাকে। স্তবকগুলো তিন লাইন বা চরণ বিশিষ্ট হয়। তৃতীয় লাইনটি প্রথম ও দ্বিতীয় চরণের তুলনায় বড় হয়। এটি আধুনিক সাহিত্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা লেখার ধরন। বাংলা এবং ইংরেজি সাহিত‍্যে সর্বাধিক ল‍্যাবেরি কবিতা লেখা হয়েছে। এ কবিতার অন্ত্যমিলের বিন্যাস দুই ধরণের।

চতুর্দশপদী

চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা যার উদ্ভব হয় ইউরোপে। এর বৈশিষ্ট্য হল — এরূপ কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত এবং প্রতিটি চরণে মোট ১৪টি অক্ষর থাকবে।

ইংরেজি চতুর্দশপদী প্রথম পরিচিতি পেয়েছিল ১৬তম শতাব্দিতে ‘টমাস ওয়াট’ এর প্রয়োগের মাধ্যমে। কিন্তু এর প্রচলন প্রবল হয়ে উঠে স্যার ফিলিপ সিডিনি এর Astrophel and Stella (১৫৯১) প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে। তার পরের দুই শতক উইলিয়াম শেকসপিয়র, এডমন্ড স্পেন্সার, মাইকেল ড্রায়টন ইত্যাদি ব্যক্তিত্বরা চতুর্দশপদী কবিতাকে নতুন নতুন ধাপে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এরূপ কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল নারীর প্রতি ভালোবাসা।

হাইকু

হাইকু (একবচনে “হাইকি”) একধরনের সংক্ষিপ্ত জাপানি কবিতা। তিনটি পংক্তিতে যথাক্রমে ৫, ৭ এবং ৫ জাপানি শ্বাসাঘাত মোরাস মিলে মোট ১৭ মোরাসের সংক্ষিপ্ত পরিসরে একটি মুহূর্তে ঘটিত মনের ভাব প্রকাশ করা হয়। জাপানি হাইকু একটি লাইনে লিখিত হয়। সেই বাক্যটিতে ১৭টি মোরাস থাকে। সাধারণত একটি ছবি বর্ণনা করার জন্য হাইকু লিখিত হয়। মোরাস ও মাত্রা একই ব্যাপার নয়। ইউরোপীয়গণ ১৭ মোরাসকে ১৭ দল মনে করে হাইকু লেখার সূত্রপাত করে। তাদের দেখাদেখি বাংলা ভাষায় ১৭ মাত্রার হাইকু লেখার প্রচলন হয়। মোরাস, দল ও মাত্রা এক-একটি ভাষার নিজস্ব শ্বাস অনুসারী।

সেই অনুযায়ী ১২ মোরাসে ১৭ সিলেবল হয়। ইউরোপে ইমেজিস্ট আন্দোলনের পর ১৭ সিলেবলের পরিবর্তে আরো বেশি সিলেবলের হাইকু লেখা শুরু হয়েছে। জ্যাক কেরুয়াক প্রমুখ মার্কিন কবিগণ স্বীকার করেছেন যে মার্কিন উচ্চারণ জাপানি উচ্চারণ হইতে সম্পূর্ণ পৃথক। তারা ১৭ দল ও তিন বাক্যবন্ধন অস্বীকার করে হাইকু লিখেছেন। বাংলা ভাষায় প্রথম আন্তর্জাতিক হাইকু কবি সম্মেলন হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, কলকাতায় কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ভবনে, ‘যুথিকা সাহিত্য পত্রিকা’র আয়োজনে।

 

লিমেরিক

লিমেরিক (Limerick) একটি ইংরেজি শব্দ। শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে সরাসরি বাংলা কবিতার জগতে এসেছে। লিমেরিক ছোট কবিতার (Little Poems) এক অনন্য রচনা শৈলী। ৫টি চরণে গঠিত এই ফর্মে অন্ত্যমিলের বিন্যাস- ক ক খ খ ক। ৩য় ও ৪র্থ পঙ্‌ক্তি ১ম, ২য় ও ৫ম এর চেয়ে মাপে ছোট হয়। ইংরেজি নার্সারী রাইম (Nursery rhyme) থেকে এর উৎপত্তি। সাধারণতঃ লিমেরিকের বক্তব্য অর্থবোধক হয় না, বরং দ্যোতনাযুক্ত হয়। বাংলা লিমেরিকের উদাহরণ —

“তাতীর বাড়ি ব্যাঙের বাসা

কোলা ব্যাঙের ছা।

খায় দায়,

গান গায়,

তাইরে নাইরে না।

 

লিমেরিকের ইতিহাসঃ

লিমেরিক আয়ারল্যান্ডের একটি জায়গার নাম। ফ্রান্সের সৈন্যদলের আইরিশ ব্রিগেডিয়াররা ওই লিমেরিকে অবস্থান কালে এ রকম ছোট ছোট ছড়ার গান গাইত এবং শেষ লাইনে থাকত ধোয়াশার মতো এ কথাটি “Let us come up to Limerick”। (সুর করে কোরাসের মাধ্যমে এ গানগুলো গাওয়া হত।) কোন এক অজানা কবির হাতে সৃষ্টি হয় এ গীতিকবিতা। সৈন্যরা হয়ত লিমেরিকের এই ধরনটার অনুকরনে মুখে মুখে ছড়া তৈরী করে মুখে মুখে গান গাইত। যুদ্ধশেষে যে যার বাড়ী ফিরে তারা তাদের বংশধদের এ গান শোনাতো। লিমেরিক স্থান থেকে আগত বলে ছোট ছোট এই গীতিকবিতাগুলোর নাম হয়ে যায় লিমেরিক

আঠারো খ্রিষ্টাব্দের গোড়ার দিকে ইংরেজি সাহিত্যে লিমেরিকের প্রচলনতা ও সাহিত্যিক জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এডোয়ার্ড লিয়রের হাত ধরে (A Book of Nonsense in the year 1846), তবে লিয়ের এগুলোকে কখনো লিমেরিক অভিধায় রাখেননি। এরপর এই ফর্মে লিখতে থাকেন Alfred Lord Tennyson, Shakespeare, Rudyard Kipling, Dante Gabriel Rossetti, Ogden Nash, H. G. Wells, W. H. Auden, T. S. Eliot, James Joyce, and Lewis Carroll – এঁদের মতো আরো অনেক বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিক।

গজল

গজল আরব থেকে এর উৎপত্তি হলেও ফার্সি ভাষায় এটি বিশেষ বিকাশ লাভ করে। পরবর্তীতে উর্দু ভাষায় এটি সমধিক জনপ্রিয়তা পায়। আরবি, ফার্সি, পশতু, উর্দু ছাড়াও হিন্দি, পাঞ্জাবী, মারাঠি, বাংলা এমনকি ইংরেজিতেও গজল লেখা হয়। প্রাথমিক দিকে ইমাম গাজালি, মওলানা জালালুদ্দিন রুমি, হাফিজ, সিরাজী, ফরিদুদ্দিন আত্তার, হাকিম শানাঈ প্রমুখ গজল লিখে বেশ নাম করেন। পরবর্তিতে আমির খসরু, মির তকি মির, ইবরাহিম জক, মির্জা গালিব, দাগ দেলবি এবং আধুনিক কালে আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, কাজী নজরুল ইসলাম, ফিরাক গোরখপুরী গজল লেখক হিসাবে নাম করেন।

গজল হালকা মেজাজের লঘু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। আবার হালকা-গম্ভীর রসের মিশ্রণে সিক্ত আধ্যাত্মিক গান। গজল প্রেমিক-প্রেমিকার গান হলেও এ গান এমন একটি শৈলী যাতে প্রেম ও ভক্তির অপূর্ব মিলন ঘটেছে। পার্থিব প্রেমের পাশাপাশি গজল গানে আছে অপার্থিব প্রেম, যে প্রেমে স্রষ্টার প্রতি আত্মার আকুতি নিবেদিত। গজল গানে স্রষ্টা আর তার প্রেরিত মহাপুরুষদের প্রতি ভক্তির সঙ্গে মোক্ষ লাভের ইচ্ছা এসে মেলবন্ধন ঘটিয়েছে পার্থিব প্রেমের সঙ্গে।

 

পদ্য পাঠ

 

শব্দকবিতা

i-কবিতা

চ্যাটি কবিতা

কাজল কবি রচিত পথের ধারে একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা।

অণুকবিতা

ছোট আকারের কবিতা। যাতে খুব অল্প কথায় কবি তার মনের ভাব প্রকাশ করে।

পরমাণু কবিতা

পরমাণু কবিতা হল এক বিশেষ ধরনের কাব্য। এখানে সর্বোচ্চ ৯ শব্দের মধ্যে এই কবিতা লিখতে হয়। ভাবসম্প্রসাণযোগ্য। বাংলা ভাষায় পরমাণু কবিতা নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক কবি সম্মেলন হয়েছে ২১ মার্চ ২০২১ সালে কলকাতায় কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ভবনে, আয়োজক ছিল ‘যুথিকা সাহিত্য পত্রিকা’। এই কবিতার জনক হলেন সোমনাথ নাগ।

 

সাহিত্য পাঠ : পদ্য পাঠ নিয়ে বিস্তারিত :

 

Leave a Comment