“চল চল চল” – কাজী নজরুল ইসলাম হলো সাহস, উদ্দীপনা এবং সংগ্রামী চেতনার এক অনন্য কবিতা। এটি পাঠককে অবিরাম পরিশ্রম, অগ্রগতি এবং সংকল্প শক্তিতে উদ্বুদ্ধ করে। নজরুলের কবিতায় যেমন দেখা যায়, তিনি মানুষের মনে অপরাজেয় ইচ্ছাশক্তি এবং সংগ্রামী মনোভাব জাগ্রত করতে চেয়েছেন, তেমনি “চল চল চল” তাতেও তা স্পষ্ট।
কবিতার ভাষা সরল, কিন্তু প্রভাবশালী। প্রতিটি স্তবকে অনুভূত হয় অদম্য সাহস, অনমনীয় চেতনা এবং সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার দৃঢ় সংকল্প। কবি এখানে বার্তা দিয়েছেন যে, মানুষ যদি স্থির থাকে বা থেমে যায়, তবে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়; জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, থামার নয়।
“চল চল চল” কেবল দৈনন্দিন জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য নয়, বরং জাতি ও সমাজের জন্য সংগ্রামের অনুপ্রেরণার প্রতীক। এটি বিশেষভাবে যুব সমাজকে সাহসী, উদ্যমী ও স্বনির্ভর হতে উৎসাহিত করে। নজরুলের অনুপ্রেরণামূলক শক্তি এখানে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ পেয়েছে, যা পাঠকের মনকে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জোগায়।
সংক্ষেপে, “চল চল চল” হলো সাহস, সংগ্রাম ও অগ্রগতির এক চিরন্তন আহ্বান, যা ব্যক্তি ও জাতির উন্নয়নে প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে।
চল চল চল কবিতা – কাজী নজরুল ইসলাম
চল চল চল!
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণি তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল রে চল রে চল
চল চল চল।।
ঊষার দুয়ারে হানি’ আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।
নব নবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশ্মশান,
আমরা দানিব নতুন প্রাণ
বাহুতে নবীন বল!
চল রে নও-জোয়ান,
শোন রে পাতিয়া কা-
মৃত্যু-তরণ-দুয়ারে দুয়ারে
জীবনের আহবান।
ভাঙ রে ভাঙ আগল,
চল রে চল রে চল
চল চল চল।।
ঊর্ধ্ব আদেশ হানিছে বাজ,
শহীদী-ঈদের সেনারা সাজ,
দিকে দিকে চলে কুচ-কাওয়াজ-
খোল রে নিদ-মহল!
কবে সে খেয়ালী বাদশাহী,
সেই সে অতীতে আজো চাহি’
যাস মুসাফির গান গাহি’
ফেলিস অশ্রুজল।
যাক রে তখত-তাউস
জাগ রে জাগ বেহুঁস।
ডুবিল রে দেখ কত পারস্য
কত রোম গ্রীক রুশ,
জাগিল তা’রা সকল,
জেগে ওঠ হীনবল!
আমরা গড়িব নতুন করিয়া
ধুলায় তাজমহল!
চল চল চল।।
চল চল চল কবিতা আবৃত্তিঃ