ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ | ভাষা আন্দোলন-স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ | বাংলা রচনা সম্ভার

ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ | ভাষা আন্দোলন-স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ | বাংলা রচনা সম্ভার ,  ভূমিকা : দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ধর্মীয় কারণে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান একটি ইসলামী রাষ্ট্র হলেও এর সমাজ ব্যবস্থায় একক আদর্শগত কোনো যোগসূত্র ছিল না। এর কারণ পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার ভাষাগত বিরোধ। এ কারণে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের সাথে কোনো দিন একাত্মতা অনুভব করতে পারেনি। 

ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ | ভাষা আন্দোলন-স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ | বাংলা রচনা সম্ভার

ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ

আর এ কারণেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অব্যবহিত পরেই ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব বাংলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ‘তমুদ্দুন মজলিস’ নামক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। যার প্রভাব বাংলার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের পরতে পরতে দেখতে পাওয়া যায় এবং যার সার্থক পরিণতি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ।

ভাষা আন্দোলন: বাংলার জাতীয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ঘটনার বীজ রোপিত হয় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অব্যবহিত পরেই যখন নিখিল পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক উপায়ে পূর্ব পাকিস্তানে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়। এরই প্রেক্ষিতে ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে ‘তমুদ্দুন মজলিস’ নামক সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয় ।

 

কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যায়মূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলায় তিন পর্যায়ে ভাষা আন্দোলন পরিচালিত হয়:

ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্যায়: নভেম্বর, ১৯৪৭ করাচিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে পূর্ব বাংলায় এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড প্রতিবাদ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ঢাকায় সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় এবং কতিপয় দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নীতি গৃহীত হয় । এ পরিষদের দাবি ছিল নিম্নরূপ:

ক. বাংলা ভাষা হবে পূর্ব বাংলার একমাত্র শিক্ষার বাহন এবং অফিস-আদালতের প্রধান মাধ্যম ।

 খ. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে দুটি বাংলা ও উর্দু।

ভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়: ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্যগণ বিশেষত কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি জানান। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এ দাবির বিরোধিতা করেন । ফলে ঢাকায় ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী মহলে চরম অসন্তোষ দেখা দেয় এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি  সর্বত্র ধর্মঘট পালিত হয়। এভাবে সংগ্রাম পরিষদ ১৫ মার্চ পর্যন্ত ধর্মঘট ও হরতাল পালনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলন অব্যাহত রাখে। অবশেষে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন বাংলা ভাষার দাবি সমর্থনের আশ্বাস দিলে আন্দোলন প্রশমিত হয়। কিন্তু ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় এবং কার্জন হলের এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা’ ঘোষণা দিলে আন্দোলন পুনরায় চাঙ্গা হয়ে ওঠে এবং দেশব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়।

ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়

ক. নাজিমুদ্দিনের ঘোষণা: ১৯৫০ সালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এবং ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন পুনরায় একই ঘোষণা দেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। ফলে ছাত্র-বুদ্ধিজীবী মহলে দারুণ ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। এ আন্দোলনের অংশ হিসেবেই ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় সর্বাত্মক ছাত্র-ধর্মঘট পালিত হয় |

খ. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি: উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা বাংলা আন্দোলনকে আরো তীব্রতর করার লক্ষ্যে ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি এক জনসভায় ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করা হয়। এতে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ভাষা দিবস হিসেবে পালন করার এবং দেশব্যাপী হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গ. ঐতিহাসিক মিছিল ও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ : ২১ ফেব্রুয়ারির উক্ত কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য তৎকালীন গভর্নর নুরুল আমীন সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু সংগ্রাম পরিষদ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল বের করলে পুলিশের সাথে ছাত্র-জনতার এক মারাত্মক সংঘর্ষ বাঁধে। এক পর্যায়ে পুলিশ মিছিলের উপর গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে প্রাণ হারান এবং আহত হন বহু সংখ্যক। এর ফলে সারা বাংলায় আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় এ ঘটনার প্রতিবাদে তিনদিন একটানা হরতাল পালিত হয় এবং দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে ।

ঘ. রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ: অবশেষে তীব্র বিক্ষোভের মুখে সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং সাময়িকভাবে প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন াংলাকে অন্যতম জাতীয় ভাষা করার সুপারিশ সংবলিত এটি প্রস্তাব প্রাদেশিক পরিষনে উপস্থাপন করেন। প্রাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। অতঃপর ১৯৫৬ সালের সংবিধানের ২১৪নং অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা নিলে বাঙালি জাতির বিজয় অর্জিত হয়।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্তঃ রেহমান সোবহান ‘বুর্জোয়া রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংকট’ নামক প্রবন্ধে বা বন, বস্তুত যে অন্তর্নিহিত দুং লতা পাকিস্তানের ভাঙন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল কারণ, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই, রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে। উল্লিখিত বক্তব্য থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল হাতিয়ার ছিল ভাষা আন্দোলন ।

এ আন্দোলন পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে একধাপ এগিয়ে দেয়। জনগণের মধ্যে এ আন্দোলনে এক নতুন জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে এবং এ চেতনাই ক্রমে ক্রমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটায়। জনগণের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে  বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় এ আন্দোলন । তাই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণচেতনার প্রথম বহিঃপ্রকাশ এবং স্বাধিকার আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এ আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল নিম্নোক্তভাবে :

১. ১৯৫৪-এর সাধারণ নির্বাচন: ১৯৫৪-এর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী মেনিফেস্টো ২১ দফার প্রথম দফাতেই ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি। এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনের ২২৮টি আসন লাভ করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। এপ্রিল ১৯৫৪ আইন পরিষদের অধিবেশনে মুসলিম লীগ পর্যন্ত বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মত পোষণ করে। এটি ছিল বাঙালি জাতির ৫২-র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন।

২. ১৯৫৬ সালের সংবিধানে স্বীকৃতি: মার্চ ১৯৫৬ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহীত হয়। ১৯৫৪ সালের প্রথম আইন পরিষদে গৃহীত ভাষা ফর্মুলা এ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় । এটা ছিল বাংলা ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয়। সংবিধানের ২১৪নং অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয় । একই সাথে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা এবং ইংরেজিকে পরবর্তী ২০ বছরের জন্য সরকারি ভাষা হিসেবে চালু রাখার কথা উল্লেখ করা হয় ।

 

৩. রাজনৈতিক স্বাধিকার আন্দোলনে ভূমিকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধিকার আন্দোলনে ভাষা আন্দোলন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নোক্তভাবে: 

ক. ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই বাঙালি জাতি সর্বপ্রথম অধিকার সচেতন হয়ে ওঠে।

খ. ভাষা আন্দোলনই সর্বপ্রথম রক্তের বিনিময়ে জাতীয়তাবাদী গণদাবি আদায়ের শিক্ষা ও প্রেরণা দান করে।  

গ. ভাষা আন্দোলন বাঙালিদেরকে ঐক্যের দুর্ভেদ্য প্রাচীর গঠন এবং অধিকার আদায়ে ইস্পাত কঠিন শপথে বলিয়ান করে তোলে । 

ঘ. এ আন্দোলন বাঙালি ‘এলিট’ এবং জনসাধারণের মধ্যে সেতুবন্ধনে সহায়তা করে। 

ঙ. ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তি আন্দোলনের প্রতি স্তরে প্রেরণা যুগিয়েছে  এই ভাষা আন্দোলনের রক্তরাঙা ইতিহাস ।

৪. পরবর্তীকালীন ঘটনাপ্রবাহে ভূমিকা : ‘৫২-এর ২১-এর চেতনায় ভাস্বর বাঙালি জাতি রাজনৈতিক অধিকার বা স্বাধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বাধীনতা অর্জনের দিকে এগুতে থাকে। ‘৬২-র ‘হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট’-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনে ছাত্র সমাজ ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ শিক্ষা দিবস’ ঘোষণা করে। ১৯৬৫-এর পাক-ভারত যুদ্ধ বাঙালি জাতিকে এরূপ একটি ধারণা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে যে, পাকিস্তানিরা আমাদের শুধু ব্যবহার করবে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। তাই অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ লাহোরে শেখ মুজিব ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। ভাষা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি ৬ দফাকে জাতীয় মুক্তির প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে।

‘৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং ‘৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পেছনে প্রেরণা ও শক্তি যুগিয়েছিল ‘৫২-র ভাষা আন্দোলন। ‘৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব বাংলার ১৬৯টি (মহিলা আসনসহ) আসনের মধ্যে ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮২টি আসন লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। নির্বাচনের ফলাফল  অনুযায়ী শেখ মুজিবের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর ছিল আইনসঙ্গত; কিন্তু তা না করে শুরু করে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ।

প্রহসনমূলক আলোচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বাঙালি মুজিবের হাতে ক্ষমতা দেয়া হবে না, প্রয়োজনে বাঙালি জাতিকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। সাংবাদিক অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস যাকে ‘বিশ শতকের সর্বাধিক জঘন্যতম প্রবঞ্চনা’ বলে আখ্যায়িত করেন। ২৫ মার্চ ১৯৭১ মধ্যরাত থেকে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বাঙালি নিধন অভিযান শুরু হয়ে যায়। ফলে সব ধরনের অহিংস তৎপরতার সুযোগ নস্যাৎ হয়ে যায় । এমতাবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন ।

এটি ছিল মহান ভাষা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতির প্রত্যাশার চূড়ান্ত প্রাপ্তি। জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে। ২১-এর চেতনা মুক্তিযুদ্ধে জাতিকে যুগিয়েছে অসীম সাহস। সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ হানাদার বর্ণর পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে বাংলার বীর জনতা ।

 

উপসংহার : বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে এক নতুন জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং এ চেতনাই ক্রমে ক্রমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটায়। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূচনা করে তা ক্রমশ শক্তিশালী হতে থাকে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয়, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের স্বাধিকার আন্দোলন, ১৯৬৮-৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষভাবে প্রেরণা যুগিয়েছে আমাদের ভাষা আন্দোলন। অতএব বলা যায়, ভাষা আন্দোলনই ধাপে ধাপে পরবর্তী সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার পথকে প্রশস্ত করেছে।

Leave a Comment