মোবাইল ফোন রচনা । Mobile Phone Essay । প্রতিবেদন রচনা

মোবাইল ফোন রচনাঃ তিদিন দীর্ঘ সময় ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলির মধ্যে মোবাইল ফোন অন্যতম। মোবাইলের ব্যাবহার এখন শুধুমাত্র যোগাযোগতেই থেমে নেই, শপিং, ব্যাংকিং, অনলাইন পড়াশোনা, বিনোদন সব কিছুতেই মোবাইল ফোনের ব্যাবহার। আমরা যেভাবে ফোনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি তা আমাদের জীবনে কি প্রভাব ফেলছে, ভালো ও খারাপ সবদিক বিশ্লেষণ করে আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয়।

মোবাইল ফোন রচনাঃ

মোবাইল ফোন রচনা । Mobile Phone Essay । প্রতিবেদন রচনা
মোবাইল ফোন রচনা । Mobile Phone Essay । প্রতিবেদন রচনা

ভূমিকা:

আজকের আধুনিক সভ্যতা যে উচ্চ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে এর পেছনে আছে বিজ্ঞানের অবদান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ থেকে সহজতর করে তুলছে। আর আধুনিক বিজ্ঞানেরই অন্যতম অবদান ‘সােনার কাঠি মােবাইল ফোন’ বা মুঠোফোন। মােবাইল ফোন টেলিযােগাযােগ ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব এনেছে, আর উন্মােচন করেছে যােগাযােগ মাধ্যমের নবদিগন্ত।

মােবাইল ফোন কী:

মােবাইল ফোন হলাে ছােট আকারের একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস। যার মধ্যে শব্দ বা তথ্য গ্রহণ এবং প্রেরণ করার জন্য ইনপুট এবং আউটপুট ইউনিট থাকে। আর থাকে একটি ডিসপ্লে ইউনিট বা পর্দা, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজের ফোনে অপর প্রান্ত থেকে আসা কোনাে ফোন কলের নম্বরসহ নিজের কানেকশন বা সংযােগের প্রকৃতি
দেখতে পায়, সেই সাথে সময় ও তারিখেরও নির্ভুল প্রদর্শন হয়ে থাকে। অতি সহজে হাতের মুঠোয় পরিবহন যােগ্য বলে খুব সহজেই মানুষের মনােযােগ আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে মুঠোফোন ।

মােবাইল ফোন সংযােগ:

একটি মােবাইল ফোনের সংযােগ পেতে হলে অনিবার্য কিছু উপাদানকে বৈজ্ঞানিক বিধিসম্মতভাবে সমন্বিত করতে হয়। সর্বাগ্রে প্রয়ােজন একটি মােবাইল হ্যান্ডসেট যার মাধ্যমে আবশ্যক উপাদানগুলােকে যথাযথভাবে ধরে রাখা যায় । সিমকার্ড, পিনকোড ও প্যাক কোড, ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি এ তিনটি আবশ্যক উপাদানের কোনাে একটি বাদ থাকলে মােবাইল সংযােগ সম্ভব নয়। সিমকার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি নেটওয়ার্ক যা দ্বারা ফোনটি নিয়ন্ত্রিত হয়। স্থানে স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নেটওয়ার্ক টাওয়ারগুলাে সিমকার্ডের সাথে শতভাগ যােগাযােগ রক্ষা করে চলে।

মোবাইল ফোন রচনা । Mobile Phone Essay । প্রতিবেদন রচনা
মোবাইল ফোন রচনা । Mobile Phone Essay । প্রতিবেদন রচনা

মােবাইল ফোনের বিবর্তন:

স্বয়ংক্রিয় ও তারবিহীন যােগাযােগ ব্যবস্থা হিসেবে মােবাইল ফোনের যাত্রা শুরু হয়েছিল কি শতকের চল্লিশের দশকে। যদিও এ প্রযুক্তির আবিষ্কার ও কার্যক্ষমতা নিয়ে গবেষণা ও মূল্যায়ন হয়ে আসছিল সুদূর অতী। থেকেই । ড. মার্টিন কুপারকে আধুনিক সেলফোনের জনক বলা হয়। তার হাত ধরেই এ বিচিত্র ও দ্রুত যােগাযােগের মাধ্যমটি বিকাশের পথ খুঁজে পায়। ২০০৫ সালে বিজ্ঞানীরা মােবাইল ফোনে ভিডিও করার পদ্ধতি আবিষ্কার করলে। মােবাইলের প্রযুক্তিগত দিক আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। বিবর্তনের ধারায় এখন অনেক অসম্ভবকে সম্ভবের নাম মােবাইল ফোন। বর্তমানে সারাবিশ্বের খ্যাতনামা বড় বড় প্রতিষ্ঠান নানা আকৃতির রকমারি কার্য সম্পাদনে সক্ষম বিভিন্ন মােবাইল ফোনসেট বাজারজাত করছে। এদের মধ্যে স্যামসাং, নােকিয়া, অ্যাপল, অপ্পো, হুয়াওয়ে অন্যতম।

মােবাইল ফোনের গুরুত্ব:

বর্তমান সময়ে একে অন্যের সাথে দ্রুত যােগাযােগের সহজ মাধ্যম মােবাইল ফোন। সাম্প্রতিক সময়ে মােবাইল ফোনে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানসহ ভিডিও চিত্র বিনিময় সম্ভব হয়েছে।
মােবাইল ফোনের মাধ্যমে এখন চলতি পথে গল্পের ফাঁকেও অতি সহজে জেনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে সর্বশেষ সংবাদ। দূরের কাউকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে চিঠি বা Message পাঠানাে সম্ভব হচ্ছে মুঠোফোনের কল্যাণেই। ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, গেমসসহ নানা কাজে এখন মােবাইলের ব্যবহারই জনপ্রিয় । তাই দৈনন্দিন জীবনে মােবাইল ফোনের গুরুত্ব অপরিসীম । এমনকি মােবাইল ফোন এখন বলতে গেলে ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট। মাত্র মিনিটের মধ্যেই পাবলিক পরীক্ষার মতাে বড় বড় পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষার্থীরা ঘরে বসে পাচ্ছে শুধু মােবাইলের জাদুর কাঠির সুবাদেই । তাই মােবাইল ফোনের ব্যবহারিক গুরুত্ব যে কোনাে মানুষের কাছেই সর্বাধিক।

মোবাইল ফোন রচনা । Mobile Phone Essay । প্রতিবেদন রচনা
মোবাইল ফোন রচনা । Mobile Phone Essay । প্রতিবেদন রচনা

বাংলাদেশে মােবাইল ফোন:

আমাদের দেশ সর্বপ্রথম মােবাইলের জগতে প্রবেশ করে ‘সিটিসেল’ কোম্পানির মাধ্যমে। ১৯৯৩ সালে এ সুবর্ণ সুযােগটি এদেশের মানুষ গ্রহণের সুযােগ পায়। ১৯৯৬ সালে সরকার গ্রামীণ ফোন’, ‘একটেল’ এবং ‘সেবা’ এ তিনটি কোম্পানিকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমােদন দিলে দেশবাসী তথা মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়। কোম্পানিগুলাে প্রতিযােগিতার মাধ্যমে সাধ্যমতাে প্রচেষ্টা চালিয়ে তাদের নিজ নিজ গ্রাহক বাড়াতে মনােযােগী হয়। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মােবাইল হয়ে ওঠে সহজলভ্য। এখন মােবাইল ফোন ব্যবহার কোনাে অসাধারণ ঘটনা নয়, এ যেন নিয়মিত আহার-নিদ্রার মতাে সাধারণ ঘটনা।

মােবাইল ব্যবহারের নেতিবাচক দিক:

মােবাইল ফোনের হাজারাে ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও এর নেতিবাচক দিকটিও বিবেচনা করে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার । মােবাইল ফোন আজকাল সহজলভ্য এবং দ্রুত যােগাযােগে সক্ষম বলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও অতি সহজে সংগঠিত হচ্ছে। মােবাইল ফোনের কল চার্জ কম বলে অপ্রয়ােজনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে অপচয়ও করে কেউ কেউ। ছাত্রজীবনে এর ব্যাপক ব্যবহার থেকে দূরে থাকাই সমীচীন।

মোবাইল ফোন রচনা । Mobile Phone Essay । প্রতিবেদন রচনা
মোবাইল ফোন রচনা । Mobile Phone Essay । প্রতিবেদন রচনা

উপসংহার:

তথ্যপ্রযুক্তির প্রবল উৎকর্ষের যুগে মােবাইল এখন সুলভ সামগ্রী। যােগাযােগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে। এর প্রয়ােজনীয়তাও সমাজে সর্বাধিক। তাই বিজ্ঞানের এ অকৃপণ দানকে মানুষও গ্রহণ করেছে অকৃপণভাবেই।

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন